১০:৫১ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বাংলাদেশ মিয়ানমার যুদ্ধ : প্রসঙ্গ ও বাস্তবতা

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:৩৩ এএম | নিশি


তানভীর আহমেদ : মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই বাংলাদেশ বার্মা সীমান্ত উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।  এই সীমান্ত উত্তেজনার পাশাপাশি বার্মার হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর উত্তেজনা যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে কিনা সে বিষয়েও আলোচনা চলছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  ফেসবুক পোস্টে কেউ কেউ দুই দেশের সামরিক শক্তি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরছেন।  তবে যে কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে, সাধারণ জনগণ সামরিক শক্তি বিবেচনা করেই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়, কোন দেশ এগিয়ে কোন দেশ পিছিয়ে এসব আলোচনায়। 

বাংলাদেশের সাথে বার্মার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিনা সেই সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে দুই দেশের সামরিক শক্তির বিষয়ে জানা যাক।  গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৩টি দেশের মধ্যে সামরিক শক্তির বিবেচনায় বিশ্বে বার্মার অবস্থান ৩১তম আর বাংলাদেশের অবস্থান ৫৭তম।  একটি দেশের জনসংখ্যা, আয়তন ও ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি আর্মি, এয়ারফোর্স, নেভির সৈন্য সংখ্যা, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, গোলা-বারুদ, সাব মেরিন, পারমাণবিক সক্ষমতা সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা করে সংস্থাটি।  সেই হিসাবে ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সামরিক শক্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ বার্মার চেয়ে পিছিয়ে।  সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশ কখনোই সামরিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে কখনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে না, কৌশলও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  পাঠকদের আগেই বলে রাখি, আমি সামরিক বিশেষজ্ঞ নই।  তাই এই লেখাটি লেখার আগে একাধিক সামরিক বিশ্লেষক ও গবেষকের সাথে কথা বলেছি ও গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যক্তিগত আগ্রহের কারণে নিজের পড়াশোনা থেকেই পাঠকদের একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো।  আমি মনে করি এই বিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-বার্মার সম্ভাব্য যুদ্ধ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো অবকাশ নেই। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ আর্মিতে ১০ নং ডিভিশনটি যুক্ত হয়েছে যা রামুতে অবস্থিত।  মূলত বার্মার সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই বাংলাদেশ আর্মির নতুন এই ডিভিশনটি যুক্ত করা হয়

ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল' এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রশীদ মনে করেন, বাংলাদেশের পরারাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশী দেশের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না।  রোহিঙ্গা ইস্যুতে বার্মার সাথে বাংলাদেশের সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ারও কোন সম্ভাবনা নেই।  কিন্তু জনগণের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করেছে, মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে মাইন বসিয়েছে এই কর্মকাণ্ড কি যুদ্ধের আলামত নয়? মে. জে. আবদুর রশীদ বলছিলেন, ''যদি বার্মার কোনো হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেও থাকে, বাংলাদেশের বিবেচনার বিষয় হলো হেলিকপ্টার গুলো কোন ধরনের ছিলো? যদি সেই হেলিকপ্টার গুলো যুদ্ধে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার না হয়ে সাধারণ হেলিকপ্টার হয়ে থাকে তাহলে বিষটি এতোটা গুরুত্বের সাথে না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সেটি সমাধান হওয়াই বাঞ্ছনীয়।  বাংলাদেশ সেই কৌশলই অবলম্বন করেছে।  বাংলাদেশে অবস্থিত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।  জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় বলেই এই কৌশল নিয়েছে। ''

তাহলে সীমান্তে যে বার্মিজ সেনাবাহিনী মাইন বসিয়েছে তার কী হবে? এখানে পাঠককে একটা তথ্য জানিয়ে রাখি, ১৯৯৭ সালের অটোয়া চুক্তির মাধ্যমে এখনো পর্যন্ত বিশ্বের ১২২ টি দেশ সীমান্তে মানব বিধ্বংসী মাইন বসাবে না বলে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।  যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, বার্মা, ইসরাইল ও ইরান সহ ৩৫ টি দেশ অটোয়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি ।  অটোয়া চুক্তিতে যেহেতু বার্মা স্বাক্ষর করেনি তাই তারা মানব বিধ্বংসী মাইন বসিয়েছে নিজেদের ইচ্ছেমত।  সামরিক বিশ্লেষক মে. জে. রশীদ (অবঃ) বলছেন, বার্মা যদি ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন বসাতো তাহলে পরিস্থিতি যুদ্ধের একটা সংকেত হিসেবে গণ্য হতো।  বার্মার এধরনের মাইন বসানোর পেছনে যুক্তি হতে পারে প্রথমত, যেসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে তারা যেন ফিরে যেতে না পারে, দ্বিতীয়ত সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করতে, তৃতীয়ত রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা যেন বাংলাদেশ সীমান্তে সংগঠিত হয়ে আবারো আরাকানে ফিরে গিয়ে হামলা করতে না পারে, এ কারণেও মাইন বসানো হয়ে থাকতে পারে। 

বাংলাদেশের সৈন্য আড়াই লক্ষ, অন্যদিকে মিয়ানমারের সৈন্য সাড়ে চার লক্ষ।  যদি কোনো কারণে যুদ্ধ বেঁধেই যায় তাহলে কি বার্মার দিকে পাল্লা ভারী হয়ে যাচ্ছে না? মেজর (অব:) রশীদ বলছেন, ''১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সাথে কোনো দেশের যুদ্ধ হয়নি।  যুদ্ধের সম্ভাবনাও নেই, কেননা বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সবসময় সুসম্পর্ক রেখেই চলেছে।  তবে যদি কোনো কারণে বার্মা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবার সম্ভাবনা তৈরি হয় তাহলে সামরিক শক্তির দিক দিয়ে বার্মা এগিয়ে থাকলেও কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে।  বাংলাদেশের তুলনায় বার্মা অনেক বড় একটি দেশ।  বাংলাদেশের সাথে দেশটির সীমান্ত দৈর্ঘ্য ২৭২ কিলোমিটার।  তবে বাংলাদেশ ছাড়াও বার্মার সীমান্ত রক্ষা করতে হচ্ছে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাউসের সাথে।  বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে বার্মা তার পাঁচটি সীমান্ত অরক্ষিত রেখে বাংলাদেশ সীমান্তে সকল সৈন্য নিয়োগ করবে না।  তাছাড়া বার্মার নিজ দেশের কয়েকটি রাজ্যে বিদ্রোহী গ্রুপ রয়েছে যারা সক্রিয়, সেই বিদ্রোহীদের উপর নজর রাখতেও বার্মাকে কিছু সৈন্য সতর্ক অবস্থানে রাখতে হয় সব সময়। 

বাংলাদেশ আর্মির মোট ১০ টি ডিভিশন রয়েছে।  সম্প্রতি বাংলাদেশ আর্মিতে ১০ নং ডিভিশনটি যুক্ত হয়েছে যা রামুতে অবস্থিত।  মূলত বার্মার সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করেই বাংলাদেশ আর্মির নতুন এই ডিভিশনটি যুক্ত করা হয়।  অন্যদিকে বার্মার সেনাবাহিনীর মূল অবস্থান মায়ুরেজ পর্বতমালায়।  মায়ুরেজ পর্বত থেকে কক্সবাজার বা রামু সীমান্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যতটা দ্রুত অ্যাকশনে যেতে পারবে বার্মার ক্ষেত্রে ততটা সহজ হবে না। 

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় 'চিন্দিত ওয়ার'র প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মিয়ানমারে দুর্গম পাহাড়ে যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ আর্মি গাধা দিয়ে যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহন করতো।  কেননা ওই অঞ্চলে কোনো যাতায়াত ব্যবস্থাই নেই।  চিন্দিত ওয়ারের সময় ব্রিটিশ সৈন্যরা জাপান আক্রমণ করতে গিয়ে বহু ব্রিটিশ সৈন্য সেখানেই মৃত্যুবরণ করে, কারণ সেখানে খাবার ও যুদ্ধ সামগ্রী প্রেরণ সম্ভব হয়ে উঠেনি।  এই সবকিছু বিবেচনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বা কনস্ট্রাকশন গেইমে বার্মা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।  সাধারণত যুদ্ধের জন্য যে ম্যুভমেন্ট ফ্যাসিলিটি দরকার হয় সেই দৃষ্টভঙ্গি বিবেচনায় মিয়ানমার বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে।  বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের অধীকাংশ অঞ্চলই বন জঙ্গল ভর্তি।  বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্য রামু ডিভিশনকে সহায়তা করতে কক্সবাজার যাওয়া খুব একটা সমস্যা নয়।  সেই তুলনায় বাংলাদেশ সীমান্তে আর্মি অপারেশনের জন্য 'অ্যাভিনিও অব এপ্রোচ' অনেক ভালো। 

বাংলাদেশের সাথে বার্মার বেশ কয়েকবার সীমান্ত সংঘর্ষ হয়েছে।  ১৯৯৮, ২০০০ ও ২০০৫ সালে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন সীমান্ত উত্তেজনায় বার্মার সৈন্য নিহত হলেও বাংলাদেশের তেমন কোনো সৈন্য নিহত হবার খবর পাওয়া যায়নি।  তবে বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান একটি টেলিভিশন টক শো'তে আচমকা বলেছিলেন, 'নাফ ওয়ার' নামে বাংলাদেশের সাথে বার্মার একটি যুদ্ধ হয়েছে।  তিনি সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে যুদ্ধে বাংলাদেশের কোন সৈন্য নিহত না হলেও বার্মার ছয় শত সৈন্য নিহত হয়েছিলো।  এই তথ্যটির কোন সত্যতা নেই, বললেন মেজর (অব:) রশীদ।  যুদ্ধ ও সীমান্ত সংঘর্ষকে এক করে দেখা যাবে না।  বার্মার সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত সংঘর্ষ হয়েছে এগুলোকে যুদ্ধ বলা যায় না।  যুদ্ধ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।  যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয় পার্লামেন্টে।  তাই বার্মার সাথে বাংলাদেশের কোনো ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার কারণে পার্লামেন্টে রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। 

তাছাড়া বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কখনো সাধারণ জনগণের ক্ষতি হবে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অপচয় হবে এমন সিন্ধান্তের নীতিতে বিশ্বাস করে না।  শুধুমাত্র হেলিকপ্টার আকাশ সীমা লঙ্ঘন করেছে এই অজুহাতে মিয়ানমারের একটা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করলে, প্রতিউত্তরে মিয়ানমার যদি কক্সবাজারের মতো পর্যটন অঞ্চলে পাল্টা আঘাত করে সেক্ষেত্রে যুদ্ধ ঘোষণার আগেই বাংলাদেশের অনেক বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হবে।  বাংলাদেশের সেনাবাহিনী সেই পথে না গিয়ে এই সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে বরং বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।  তবে এটাও ঠিক দেশী বিদেশী একটি চক্র হয়তো চাইছে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে অশান্ত হয়ে উঠুক।  সেই ফাঁদে পা দিয়েও বাংলাদেশের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোন কারণ নেই। 

সমর বিশেষজ্ঞদের কাছে চীনের ওয়ার স্ট্রাটেজিস্ট সাঞ্জু ও ভারতীয় ওয়্যার স্ট্রাটেজিস্ট চানোক্কোর মতবাদ খুবই জনপ্রিয়।  এই দুই যুদ্ধ কৌশুলীই থ্রি ইসটু ওয়ান কৌশলে বিশ্বাসী।  বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ কৌশল হিসেবে এই থ্রি ইসটু ওয়ান কৌশল প্রয়োগ করে থাকে।  সে অনুযায়ী বাংলাদেশকে আক্রমণ করতে হলে সেই দেশটির কমপক্ষে বাংলাদেশের তিনগুণ সামরিক শক্তি বা তিনগুণ ডিভিশন সৈন্য থাকতে হবে।  গ্লোবাল ফায়ার র‌্যাংকিং অনুযায়ী ভারতের সামরিক শক্তিগত অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ।  সেই ভারতের রয়েছে ৩০ টি ডিভিশন।  মোট ডিভিশনের ২৪ টি ডিভিশন চীন ও পাকিস্তানের সীমান্তে মোতায়েন রাখতে হয় তাই বাংলাদেশকে আক্রমণ করা ভারতের জন্যও ক্ষেত্রবিশেষে সহজ নয়।  তেমনি বার্মারও তার প্রতিবেশী অন্য দেশ গুলোর সীমান্ত রক্ষা করে বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশের সমকক্ষ সৈন্য মোতায়েন করা অসম্ভব। 

সমর বিশ্লেষকদের কাছে আরেকটি প্রবাদ খুবই প্রচলিত, "প্রতিবেশী দেশ কখনোই বন্ধু হতে পারে না, তাই সব সময় প্রতিবেশী দেশটিকে নজরে রেখে প্রতিবেশী'র পাশের দেশটির সাথেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। " এই প্রবাদ মানতে হলে বাংলাদেশকেও সব সময় সতর্ক অবস্থানেই থাকতে হয়।  বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশই এখন আর একা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে না।  যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হলে তার সহায়তায় বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।  বার্মার সাথে চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সামরিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিশেষ করে চীনের সাথে সম্পর্কই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।  বিশেষ করে বার্মিজ সেনাবাহিনী ২০১০ সালে বার্মার নেপিডো গড়ে তুলেছে এক নতুন নগর।  রাজধানী রেঙ্গুনকে স্থানান্তরের কথা বললেও এই অঞ্চলে জনসাধারণের প্রবেশ নেই।  ২০ লেইনের এই শহরের পথ চীনের সাথে সংযুক্ত যা মিয়ানমারের পার্লামেন্ট ভবনের সাথে যুক্ত।  এই সড়কটি নেপিডো থেকে একদিকে চীন সীমান্ত অন্য প্রান্তে ভারতের সীমান্তে সংযোগ স্থাপন করেছে।  সামরিক বিশ্লেষকরা এই ২০ লেইনের পথটিকে যুদ্ধ বিমান ও ট্যাংক ব্যবহারের উপযোগী বলছেন।  তাই যে কোনো সময় এই শহরটি হয়ে উঠতে পারে চীনের জন্য একটি সামরিক ঘাঁটি বা ভারতে প্রবেশের অন্যতম পথ।  এখন এই নেপিডো কোরিডোর নিয়ে চীন ও ভারত উভয়ই বার্মিজ সেনাবাহিনীর সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে চলছে। 

সম্প্রতি চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেনার পর বাংলাদেশের সামরিক শক্তির সাথে বার্মা তাদের ভারসাম্য রক্ষা করতে ভারত থেকে কিনেছে এন্টি সাব মেরিন মিসাইল।  ভারতের সাথে যেমন বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্ষা করছে বাংলাদেশ, তেমনি চীনের সাথেও সম্পর্ক রক্ষা করতে চাইছে বাংলাদেশ।  তাই বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শুধুমাত্র বাংলাদেশ বার্মার যুদ্ধের কথা আলাদা করে ভাবনার সুযোগ নেই।  এই অঞ্চলে সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারত, চীন, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যাবে।  তখন এই সংঘাত আর শুধুমাত্র বাংলাদেশ বার্মার সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।  তাই শুধুমাত্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের এই পরাশক্তিরা বাংলাদেশ-বার্মার এই ইস্যুতে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগ্রহ দেখাবে না।  রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্ভাব্য যুদ্ধ আশঙ্কা করলেও সেই আশঙ্কা বাস্তবে রুপ নেয়নি।  সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একে অন্যকে হুমকি দিচ্ছে।  সারাবিশ্ব এখন এই দুই পরাশক্তির হুঙ্কার দেখতে মোবাইলের স্ক্রিন স্ক্রল করেছে দিন রাত তবুও যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মানতে চাইবেন না সামরিক বিশ্লেষকরাও।  সেখানে বার্মা -বাংলাদেশ যুদ্ধ রীতিমত অবাস্তব কল্পনা। 

লেখক : কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, চ্যানেল এস টেলিভিশন, লন্ডন ও যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, একাত্তর টেলিভিশন। 

Abu-Dhabi


21-February

keya