৫:২০ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


বিলীনের পথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত সোনাদিয়া দ্বীপ

১১ আগস্ট ২০১৮, ১০:০২ পিএম | মাসুম


সরওয়ার কামাল মহেশখালী প্রতিনিধি : পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত মহেশখালী সোনাদিয়া দ্বীপ।  বঙ্গোপসাগরের ক‚ল ঘেষে কক্সবাজার জেলার অপূর্ব সৌন্দর্য্য বেষ্টিত পর্যটন, কুুতুবজোম ইউনিয়নের একটি বিছিন্ন সোনাদিয়া দ্বীপ।  সোনাদিয়া দ্বীপের আয়তন ৪৯২৮হেক্টর।  সৃষ্টি শৈল্পিক আদলে গড়া কক্সবাজার জেলার পর্যটন শিল্পোর আরেক সম্ভাবনাময় সৈকতের নাম সোনাদিয়া। 

এখানে রয়েছে বালিয়াড়ি, কাছিম প্রজনন ব্যবস্থা, চামচ ঠোটের বাটন পাখি এবং অতিথি পাখির অভয়াবণ্য।  ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পরিমান ০৩.১৫ একর।  শুটকী মহাল রয়েছে ২টি চিংড়ী চাষ যোগ্য জমির পরিমান ৯৮.০০ একর।  বন বিভাগের জমির পরিমান ২১০০ একর।  বাকী সব প্রাকৃতিক বনায়ন ও বালুময় চরাঞ্চল।  দূষণ ও কোলাহল মুক্ত সৈকত, লাল কাকড়া মিলন মেলা, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সৃর্য অস্থের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা নদী পথে নৌকা ভ্রমন। 

যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলে ও এ দ্বীপে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে এ পর্যন্ত পর্যটন আর্কষনের আধুনিক কোন পদক্ষেপ বলতে গেলে নেওয়া হয়নি।  সঠিক পরিকল্পনা পূর্বক তা বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন রাজধানী হিসাবে পরিচিত কক্সবাজার শহরের অতীব নিকটবর্তী এ দ্বীপটি পর্যটন বিকাশে অন্যতম স্থান হতে পারে যা দেশের তথ্য কক্সবাজারের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।  এই দ্বীপে দ্বীপবাসীর সম্পৃক্ততায় কমিউনিটি ভিত্তিক ইকোট্যুারিজমের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

যা দ্বীপবাসীর বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা সহ অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। 

সোনাদিয়ার দ্বীপের নামকরণের সঠিক কোন ঐতিহাসিক তথ্য থাকলে ও সোনাদিয়ার দ্বীপকে ঘিরে আদিকাল হতে সোনা সমত‚ল্য দামী পন্য মৎস সম্পদ আহরিত হত বলে এই দ্বীপ সোনার দ্বীপ, সোনাদিয়া বলে পরিচিত।  তাই ঐতিহাসিক ভাবে না হলেও লোক মুখে উচ্চারিত সোনাদিয়ার কথা বির্বতনে সোনাদিয়ার রুপান্তিত হয়। 

দ্বীপটি সোনাদিয়া হিসাবে বর্তমানে প্রজন্মের কাছে ও বই পুস্তক স্থান পাচ্ছে।  কালক্রমে মানুষ মহেশখালীর অপরাপর এলাকা সমুহে বসবাস শুরু করলেও আদিকাল পরিচিত সূচনা হয় সোনাদিয়া ঘিরে।  কারণ প্রাচীন কালের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রাচীন মাধ্যমে ছিল নদী পথ, তদুপরি মানুষের জীবন জীর্বিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম ও ছিল মৎস শিকার। 

মহেশখালীতে মূলত ১৫৫৯ সালের ভয়বহ জলোচ্ছাসের পর হতে বসতি আরম্ভ হয় তদপূর্বে মহেশখালী কক্সবাজারের সাথে যুক্ত ছিল বলে ইতিহাসে প্রমান্য।  কালক্রমে মহেশখালী চট্টগ্রাম এলাকা থেকে লোকজন এসে বসতি শুরু করে।  তৎমধ্যে বিশেষ ভাবে যারা মাছ শিকার পেশার সাথে পূর্ব হতে জড়িত ছিল এবং সোনাদিয়া সম্বন্ধে অবগত ছিল তারাই সোনাদিয়াতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার অধিক উপযুক্ত মনে করত।  সোনাদিয়ার প্রাচীন পরিবার হচ্ছে’'ফৌজনীর পরিবার।  ব্যক্তি বিশেষ ছাদের আলী, আশরাফ মিয়াও আছাদ আলী এদের পরিবার সোনাদিয়ার ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবার বলে  চলে। 

স্বাধীনতা যুদ্ধেকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এই দ্বীপে অবস্থান করেছিলেন।  বর্তমনে অসংখ্য নারী-পুরুষের বসবাস।  বিশেষ করে শীত মৌসুমে শুকানো বিভিন্ন প্রজাতির শুটকী মাছ ভোজন খুবই সু-স্বাদু।  তাই কক্সবাজারে পর্যটনে আসা কোন পর্যটকই সোনাদিয়ার শুটকী ছাড়া ঘরে ফিরতে চায় না।  সোনাদিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা তেমন উন্নত নয়। 

এখানে রয়েছে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মসজিদ রয়েছে ২টি।  সাদা বাইন, কালো বাইন, কেওড়া, হরগোজা, নোনিয়া সহ প্রায় ত্রিশ প্রজাতির প্যারাবন সমৃদ্ধ উদ্ভিদ বিদ্যামান।  মোহনা, চর ও বন ভূমিতে ঊনিশ প্রজাতির চিংড়ি, চৌদ্দ প্রজাতির শামুক, ঝিনুক নানা ধরনের কাকড়া (যেমন, রাজা কাকড়া, হাব্বা কাকড়া, জাহাজি কাকড়া, সাতারো কাকড়া সহ প্রায় আশি প্রজাতির সাদা মাছ, পঁয়ষট্টি প্রজাতির (বিভিন্ন প্রায়) স্থানীয় ও যাযাবর পাখি এবং কমপক্ষে তিন  প্রজাতির ডলফিন বিচরণ করে থাকে। 

বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের মধ্যে কোরাল, বোল, বাটা, তাইল্যা, দাতিনা, কাউন (কনর মাছ) ও প্যারাবন সমৃদ্ধ এলাকার অন্যান্য মাছ পাওয়া যায়।  বসবাসরত লোকেরা জানান, সরকারী ভাবে পর্যটনের ব্যবস্থা করলে দ্বীপের অবহেলিত মানুষের কর্ম সংস্থান হবে এবং সরকারী খাতে প্রচুর রাজস্ব আয় দিতে পারবে। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, এই দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন তাই সরকারের সু-দৃষ্টি আছে।  মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, এই দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ন বিধায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। 


keya