৫:২১ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১




‘বিশ্ব এখন সুইজারল্যান্ড বাদ দিয়ে বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর’

৩০ মার্চ ২০১৯, ০৯:০৭ এএম | জাহিদ


কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম, বরগুনা : লস এন্জেলস আর প্যারিস শহরের অভিজাত এলাকার আগুন বলতে কথা ! 

এত সহজে কি আর নিভে? তাছাড়া এই আগুন তো চেতনার আগুন,উন্নয়নের আগুন,তাই জ্বলতে থাকে আপন শক্তিতে ।  আর এই উন্নয়নটা খুবই ধারাবাহিক। 

“সত্যিই বিশ্ব এখন সুইজারল্যান্ড বাদ দিয়ে বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ”

বাংলাদেশ আর উন্নত দেশের মধ্যে পার্থক্য শুধু এতটুকুই- “উন্নত দেশে চোর-ছ্যাঁচড়াদের অবস্থান সমাজের নিম্নস্তরে আর বাংলাদেশের হচ্ছে মণিকোঠায়। ” তো এই রকম একটা সরকার ব্যবস্থা দেশের কতটুকু কল্যাণ বয়ে আনবে আদৌ জানিনা। 

একটা দেশের সরকার চাইলে পারেনা এমন কিছুই নেই শুধুমাত্র বহিঃরাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রন করা ছাড়া।  শুধুমাত্র সদিচ্ছা আর দেশপ্রেম থাকলে সব কিছুই সম্ভব। 

মহাকাশ বিজয়, সমুদ্র বিজয় অনেক কিছুই তো বিজয় করতে দেখলাম কিন্তু পারিনা শুধু স্বদেশী গজব জয় করতে।  যারা বলেন অপরিকল্পিত নগরী তাদের জন্য বলতে হয়, সংসদ নির্বাচন (অন্যগুলো নাই বা বলি) আসলে তো দেখী মনোনীত যত প্রার্থী থাকে সবাই মেধা, প্রজ্ঞা, সততা, সাহস, বিচক্ষণতা, যোগ্যতা থেকে শুরু করে এমন কোন গুনাবলী বাদ নাই যেটা তার নামের সাথে থাকেনা। 

তাহলে তাদের এত এত গুনাবলীর প্রয়োগ কোন খাতে কাজে লাগায়, তাদের পরিকল্পনা গুলো যায় কোথায়? দোষটা সত্যিকার অর্থে আমাদেরই ।  কারণ আমরা হচ্ছে পা চাটতে আর তেল দিতে ওস্তাদ ।  তাই তাদেরকে অযথা সময় নষ্ট করতে হয় না জনগনের কথা ভেবে। 

তো আজ আপনার এই বিপদে কতজন সংসদ সদস্যকে দেখছেন এগিয়ে আসতে বা তাদের নিজ নিজ এলাকার কেউ আছে কিনা অন্তত সেটার খোঁজ নিতে? পা চাটা আর তেল মাখা  বন্ধ করেন দেখবেন সমাজের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে আপনার আমার কর্মের দ্বারাই। 

আর যারা কথায় কথায় স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে গলা ফাটান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে একচেটিয়া ব্যাখ্যা দেন তারা কি তাদের এই চেতনার জোর দিয়ে মৃত ব্যক্তির জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবেন? স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের ঋণ কখনো আমি আপনি কেউই শোধ করতে পারবো না।  তারা জাতীয় বীর, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে তারাও আমাদের সাথেই থাকবেন।  দেশটা মূলত তাদেরই, আমরা কেবল পাহারাদার মাত্র।  আমাদের কাজ দেশকে সুরক্ষিত রাখা এবং তাদের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করা। 

সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের নাম করে ব্যবসা বন্ধ করেন ।  আমার বাপ ভিখারী বলে আমি কি ধনী হতে পারবো না? আমার বাপ রাজাকার ছিল বলে আমি যে দেশপ্রেমিক হতে পারবো না এমন দলিল কোথায় পাইছেন? এইসব ফালতু আর ছোটলোকী মানসিকতা ত্যাগ করুন ।  চেতনার দোহাই দিয়ে ভোগ বিলাসিতা করা বন্ধ করেন  সপ্তাহ শেষ হতে না হতে একই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তার প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেয়ার নাম গন্ধ নাই অথচ অনর্গল গাঁজাখুরী মন্তব্য করতে সরকারের কোন এমপি-মন্ত্রী কেউ কারো থেকে কম যায় না।  না জানি আজকেই আবার কেউ বলে ফেলবেন ভবনটি বিরোধী দলের সময়ে পরিকল্পনা ছাড়া বানানো হয়েছে তাই আগুন লেগে ধ্বংস হয়ে গেছে,সুতরাং বলতেই পারি

“জয় বাংলা” (অতীতের সূত্র মোতাবেক) । 

দেশের মানুষ লস এন্জেলস বা প্যারিসের বাসিন্দা হতে চায় না।  তারা শুধু তাদের জানমাল ও সামাজিক নিরাপত্তা চায়। 

স্বাধীন দেশে পরাধীনতার কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না।  আর তাই দেশের পরিবর্তনের ভার স্বয়ং আল্লাহর উপরই ছেড়ে দিলাম, রক্ষা করো মাবুদ। 

আল্লাহ,আগুনে পোড়া শহীদদের তুমি জান্নাতুল ফেরদৌসে জায়গা করে দিও আর যারা আহত হয়েছে তাদেরকেও দ্রুত সুস্থতা দান করো, আমীন। 

লেখক :

ইমরান রাসেল। 

সাবেক সহ-সভাপতি,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিন। 


keya