৫:৩৭ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার | | ১০ শা'বান ১৪৪১




বসন্তে ভালবাসার রং লেগেছে সবুজ পাহাড়ে

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:১৪ এএম | নকিব


এম.সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : ”সখি ভালোবাসা কারে কয়, সেকি শুধু যাতনা ময়? না হাজারও যাতনার মাঝে অন্তত বছরের একটি দিনে প্রিয় মানুষের মনকে রঙ্গিন দিতে পালন করা হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। 

বসন্ত বাতাস আর হৃদয় উজাড় করা ভালবাসার এই দিনে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে অনেকে।  দিবসটি উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে উপজাতীয় ললনাদের বাহারী পোশাকের পাশাপাশি বাসন্তী শাড়ি পড়ে বাঙ্গালী মেয়েরাও সেজেছিল ভিন্ন সাজে। 

তিল ধরার ঠাই ছিলনা বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে।  মেয়েদের খোপায় ছিল সাজানো ফুল, কারো হাতে ছিল লাল টুকটুকে গোলাপ, কেউবা এসেছিল তার প্রিয় মানুষটিকে সময় দিতে, আবার কেউবা এসেছে একা, উদ্দেশ্য ছিল একটাই, আপনজনকে ভালোবাসার জানান দেয়া। 

ভালোবাসার এইদিনে জেলার মাটিরাঙ্গার হৃদয় রঞ্চন কার্বারীপাড়ায় অবস্থিত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রটি ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ।  খাগড়াছড়িতে সরকারী ভাবে নির্মিত একমাত্র এ বিনোদন কেন্দ্রে দিনভর হইছই, বন-ভোজন, নাচ-গান আর ফানের আবহে কেটেছে তরুণ-তরুণীদের। 

এছাড়াও সবুজের সমারোহে অবস্থিত রিচাং ঝর্ণায় ছিল ভিন্ন আমেজ।  শত শত মানুষের ভিড়ে ঝর্ণার পানিতে উল্লাসে মেতে উঠেছিল দর্শনার্থীরা।  কেউবা করছিল স্নান, আবার কেউবা মনের আনন্দে পিচ্ছিল খাচ্ছিল ঝর্নার বয়ে যাওয়া পানির শ্যাওলা সবুজ কুন্ডে, কেইবা আবার ঝর্ণার পানিতে পায়ের পাতা ভিজিয়ে নিজেকে নীল নির্জনে হারিয়ে উপভোগ করছিল স্রষ্টার অপার সৃষ্টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। 

শুধু তাই নয়, জেলা শহরের অদূরে পড়ন্ত বিকেলের সুন্দর্য্য উপভোগের স্থান নিউজিল্যান্ডে ছিল অজস্র মানুষের ঢল।  দিনের শেষে পড়ন্ত বিকেলে স্থানটিতে সবাইকে আসতে হবে, নতুন করে যেন এমন রীতি চালু হয়েছিল খাগড়াছড়ি শহরে।  নিউজিল্যান্ডে কাছাকাছি এসে রিকসা ছেড়ে দিয়ে পায়ে হেটে আসা অথবা জোড়ায় জোড়ায় বসে আড্ডা দেয়ার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। 

এছাড়াও আলুটিলা বড়তল, হ্যারিটেজ পার্ক, জেলা পরিষদ পার্ক, জলপাহাড়, মায়াবিনী লেক, আলুটিলা তারেং ও ঝুলন্ত ব্রীজে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিই প্রমান করে বসন্তে ভালোবাসার রং লেগেছে সবুজ পাহাড়ে।