৮:৩০ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


বিস্ময়কর কিছু তথ্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের

১০ মে ২০১৮, ০৭:২০ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম :  দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।  বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। 

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে মহাকাশে যাচ্ছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।  বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।  চলুন জেনে নেয়া যাক এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। 

স্যাটেলাইটের ধরণ : মহাকাশে প্রায় ৫০টির বেশি দেশের দুই হাজারের উপর স্যাটেলাইট বিদ্যমান।  এগুলোর মধ্যে রয়েছে-আবহাওয়া স্যাটেলাইট, পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট, ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট ইত্যাদি।  তবে বিএস-ওয়ান হল যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট। 

কর্মপরিধি : টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ।  এর সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। 

এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সেসব জায়গায় এ স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত হতে পারে ইন্টারনেট সংযোগ। 

স্যাটেলাইটের ফুটপ্রিন্ট : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে।  এর ফুটপ্রিন্ট বা কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। 

শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে পুরো বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া। 

স্যাটেলাইট অপারেশন : আর্থ স্টেশন থেকে ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে যেতে সময় লাগবে ৮-১১ দিন।  আর পুরোপুরি কাজের জন্য প্রস্তুত হবে ৩ মাসের মধ্যে। 

এরপর প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় এটির দেখভাল করবে বাংলাদেশ।  পরে পুরোপুরি বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতেই গাজীপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়া আর্থ স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এটি। 

স্যাটেলাইট নির্মাণ : ৩.৭ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ডিজাইন।  এটা তৈরি করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস।  আর যে রকেট এটাকে মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছে সেটি বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স। 

উৎক্ষেপণ হচ্ছে ফ্লোরিডার লঞ্চপ্যাড থেকে। 

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে।  এর মধ্যে ২০ দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।  এ ছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে।  টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।