২:২৩ পিএম, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ শাওয়াল ১৪৪১




ভাইরাস"-"করোনা ভাইরাস" ও আমাদের শিক্ষা

১৬ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫৭ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ ভাইরাস একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক  জীবাণু বা অনুজীব  যা জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করে।  

এই ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে যার অর্থ হলো "বিষ"।  

এটি উদ্ভিদ-প্রাণী-ব্যাকটেরিয়া সহ প্রত্যেক সজীব কোষে সক্রিয় অবস্থায় বাতাস-মাটি-পানি ইত্যাদি মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে।  

বিশ্বে যেসব মহামারী এই পর্যন্ত ব্যপক ক্ষতিসাধন করেছে তৎমধ্যে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস বিশ্ববাসীকে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোও হুমকির মুখে আর মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে এই পরিস্থিতিকে সামাল দিবে কি করে! অতীত ইতিহাস কালের স্বাক্ষী হয়ে যায় আর সেসময়ের মরণঘাতী গুলো জিকা ভাইরাস -ইনফ্লুয়েঞ্জা-ম্যালেরিয়া-যক্ষা-প্লেগ-হাম-ইবোলা-কলেরা-বসন্ত-কুষ্ঠরোগ-কালাজ্বর-হলুদজ্বর সর্বশেষ কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস।  

যা বিশ্ববাসীকে আচমকা সংকটে ফেলে দিয়েছে।  ১৭২০ সালে প্লেগ রোগে বাসযোগ্য পৃথিবীতে প্রায় ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু, ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে "হলুদ জ্বর" মহামারী আকার ধারণ  করে, ১৮৫৫ সালে চীন-হংকং-ভারতজুড়ে প্লেগ রোগে ১কোটি ৫০লক্ষ মানুষ মারা যায়।  

১৯১৮ সালে "স্প্যানিশ ফ্লুতে" মারা যায় প্রায় ৫ কোটি লোক, ১৯৫২ সালে পোলিও রোগ,২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি মহামারী রোগে লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যু মানবজাতিকে আকষ্মিকভাবে চমকিয়ে তুলে আর দিশেহারা হয়ে পড়ে কখন কিভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে আবার নতুনরূপে চাঙা হয়ে উঠবে।  

চলমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে গিয়ে অতীত যা চোখের সামনে স্পষ্ট হয় তা আমাদের মানবজাতির জন্য চরম শিক্ষা হিসাবে ধরে নেওয়া যায়।  
বিশেষ করে মুসলিম নিধন-নির্যাতন যে-সব জায়গায় বেশি সেসব জায়গায় এই জীবাণু ভাইরাসের সংক্রমণে বহুলোকের প্রাণহানি হয়েছে হয়তো অনেকে তা অস্বীকার করবে আর মুসলিম রাষ্ট্রেও কেন এই ভাইরাস আসার কারণ কি? তাতেও প্রশ্ন উঠে আসবে।  

বিভিন্ন জাতির নাফরমানির কারণেও মহামারী হয়ে থাকে।  সেটা মুসলিম হোক বিধর্মী হোক আল্লাহর নাফরমানীতে যারা নিমজ্জিত তাদের শাস্তি এইভাবে হবে তখন কারো প্রতি রাগ-ক্রোধ প্রকাশের সুযোগ থাকবেনা।  

যাঁরা  মুসলিম তাদেরকে  স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যেসব ঘরে মহাগ্রন্থ আল্ কোরআন বছরের পর বছর কাভারিং করে আলমিরার উপর ফেলে রেখেছে, যেখানে ধুলোর আস্তরণ পড়ে আছে বহুকাল ধরে আজকের বিপদে সে পবিত্র কোরআনের কথা ঐ পরিবারকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। 

 যে ভিটাকে বাপ-দাদার আমল থেকে বিভিন্ন বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করতে শরীয়তের আলেম-উলামা দিয়ে বনদ্ করেছিলো বর্তমানে তা আবার ইসলামি বিধান চালু করতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।  

লক্ষ লক্ষ পরিবারে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি একেবারে উঠে গিয়ে সেখানে নাচ-গানের সংযোজনে আর টিভির মধ্যে বিভিন্ন সিরিয়ালে রাতদিন পড়ে থাকে আজ এই করোনায় প্রতিটি ঘরকে আল্লাহর অশেষ কৃপায় "মসজিদে" রূপ নিয়েছে একবার বলি- আলহামদুলিল্লাহ্। 

 যে পরিবারের সদস্য প্রবাসজীবনে পাড়ি দিয়েছে আজ তার প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দিচ্ছে কারণ আগে তা বুঝতে সক্ষম হয়নি তখন শুধু মাসে মাসে টাকা পাওয়ার চিন্তায় মগ্ন ছিলো।  

পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি একটা সচেতনতার আলাদা চাপ সৃষ্টি হয়েছে যাতে একজনের কারণেও যেন আক্রান্তের স্বীকার না হয়।  অনিয়মের মাঝে থাকতে থাকতে প্রত্যেকে অনিয়মকে "নিয়ম"- হিসেবে  মেনে নিয়েছি,তার ফলশ্রুতিতে গ্রামগঞ্জের প্রত্যেক এলাকায় জনবহুল বাজারকে নিয়মে ফেলার জন্য স্কুল মাঠকে ব্যবহার করছে শুধু শারীরিক দূরত্ব বা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে আমাদেরকে সেটা শিক্ষা দিচ্ছে যা আজীবন মনে রাখবে। 

 দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর নগরে যাঁরা ধনাঢ্য ব্যক্তি যাদের দান-সদকা করার মন-মানসিকতা ছিলো না আজ তাঁরাও দেশের এলাকার মানুষকে বাঁচানোর প্রয়াসে মাঠে নেমে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছে আর উনাদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে আমার এলাকার কোনো লোক যেন না খেয়ে না মরে সুতরাং আমাদের এই শিক্ষাও আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দিচ্ছেন যে তোমরা তোমাদের সম্পদ নিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়োনা বরং তা থেকে অসহায়ের জন্য এতিম-মিসকিনদের জন্য ব্যয় করো যাতে সম্পদ পবিত্র হয়।  সকল প্রবাসীদের স্ত্রীরা যারা মাসের মধ্যে দিনের পর দিন শপিং-এ, একের পর এক  ডাক্তার পরিবর্তন, সামান্য কিছু হতে পারেনা দৌড়ে দৌড়ে বাজারে-শহরে যাওয়ার রীতিমতো নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছিলো আজ হোম কোয়ারান্টাইন-এ থেকে সেটা উপলব্ধি করতে শিখেছে যে, অযথা-অপ্রয়োজনে স্বামীর টাকা নষ্ট করাই তাদের ভুল ছিলো আজ একটু সর্দি-কাশি হলেও ভালো থাকার অভিনয় করতে হয় কারণ তা নাহলে ১৪দিনের হোম কোয়ারান্টাইন বা আইসোলেশনে যেতে হবে। 

 আমরা আমাদের আর নিজের জীবনকে বাঁচাতে একটি মাস সহ্য করতে পারছিনা পাগলের মতো ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হচ্ছে অথচ দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান " ইত্যাদির"-মাধ্যমে পাওয়া খবরের সূত্র ধরে বলছি মহানায়িকা সূচিত্রা সেন দীর্ঘ ৩৬ বছর কোয়ারান্টাইনে ছিলো তাহলে আমরা কেন একমাস বাসায় থাকতে পারিনা? করোনা আমাদেরকে এই শিক্ষাও দিয়ে যাচ্ছে যাঁরা আল্লাহর কালামকে মহব্বত আর বুকে ধারণ করে নিয়েছে সেসব আলেম সমাজকেও আরো সম্মানের-মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করছেন।  আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস নিশ্চয়ই এই কঠিন বাস্তবতা থেকে অচিরেই আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পরিত্রাণ পাবো। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 
 


keya