৪:৪৩ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




ভিক্ষাবৃত্তি" করছে- গ্রাস, "পঙ্গুত্বতে"-সর্বনাশ

০৯ মার্চ ২০২০, ১১:৫৬ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম : বিনা পরিশ্রমে ফ্রী'তে যা উপার্জন বা পাওয়া যায় আমরা সচরাচর সেটাকে গিফট/"উপহার " হিসেবে গণ্য করি, যদি সেটা কোনো রক্তের বাঁধন কিংবা আত্মীয়তার বন্ধনে, নাহয় পরিচিত কোনো বন্ধুদের শুভ সন্ধ্যিক্ষণে যা-কিছু হৃদয় থেকে কোনো প্রতিদান ছাড়াই প্রদান করা হয়। 

কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায় ভিক্ষা করার জন্য উপায় খুঁজে নানান ধরণে, অক্ষত দেহকে রুপ দে নাটকীয় আবরণে।  আমি কোনো অন্ধের কিংবা কর্মক্ষম ভিক্ষুকের কথা বলছিনা, বলছি ঐ সব সক্ষম আর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে অথচ তারা বিনা-পরিশ্রমে মুখের অঙ্গ-ভঙ্গি বিকৃতি করে, কোনো একটা উদ্ভট রোগের ছবিযুক্ত লেমেনেটিং পেপারে চেয়ারম্যান নাহয় সিটি করপোরেশনের স্বাক্ষরিত কোনো কার্ড শো করে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় ঘুরে অন্যের কাছে যেয়ে দারস্থ হওয়া চালাক লোকগুলোর কথাই বলছি।  [ ইসলামেতো ভিক্ষাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ- করেছেন]।  তাহলে কেন এই পরিস্থিতি? আপনি যদি বলেন কাজ করে খেতে পারোনা?  উত্তর খুবই সহজভাবে পেয়ে যাবেন, সন্তান ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, মেয়ের সংখ্যা বেশি - সংসারে খাওয়ামু কি? বন্যায় বসতভিটে নদীতে বিলীন হয়েছে, অন্যের ভিটায় আর কতোদিন "থাকবার" পারমু? এখন যদি তার একটি মেয়েকে কাজের জন্য বাসায় চেয়ে বসেন আর এমন প্রতিশ্রুতি দেন মাসিক বেতন পাবে,থাকা-খাওয়া ফ্রী,বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নতুন নতুন পোশাক হয়তো বড় হলে এখান থেকে "বিবাহ" ও দেওয়া হবে দেখা যায় তারপরও দিতে নারাজ।  আশ্চর্য হই যখন শুনি ভাই ভিক্ষা দিলে দেন নাহয় ভাগি। 

অনেকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে দু-তিন সন্তান দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সন্তানেরা ভাত দে-না তখন আবেগের তাড়নায় কিছু বলার থাকেনা।  কই আজ পর্যন্ত দেখলামনা কোনো হিন্দু-বৌদ্ধ এই দেশে থালা নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করতে,কিংবা দেহকে বিকৃতি করে অর্থ উপার্জনের কৌশল অবলম্বন করতে। 

তাহলে হিন্দু-বৌদ্ধদের থেকে শিক্ষা নিতে হবে? আসলে আমরাই খারাপ যা কিছু নিষিদ্ধ করে সেখানে সেটি করার জন্য উপচে পড়ি আর যা গ্রহণ কিংবা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা থেকে দূরে থাকি।  অভাবের তাড়নায় করছে স্বাভাবিক কিন্তু এই ধরনের নয়, মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি উন্নত দেশেও ভিক্ষাবৃত্তি রয়েছে তবে তারা সরাসরি না নিয়ে কিছু একটা পারদর্শীতা দেখিয়ে নিচ্ছে।  শহরের রাস্তায় বের হওয়া যায়না ছোট ছোট বাচ্চাদের এই ভিক্ষাবৃত্তির কাজে লাগিয়ে রেখেছে। 

পা জড়িয়ে ধরে রাখে যতক্ষণ না টাকা বের করে না দেন।  তাঁদেরও তো মন চাই পড়াশোনা আর খেলাধুলা বিনোদনে অংশ নিতে! তাহলে কেন তাদের জীবনটাকে জেনেশুনেই ধ্বংস করছি? যত্রতত্র বস্তি গড়ে তুলে আরো পরিস্থিতিকে ভয়ানক করে তুলেছে একদিন তাদের কাছ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্যপদে নির্বাচন করবে অস্বাভাবিক কিছু নয়।  অসংখ্য ঘটনা রয়েছে তৎমধ্যে একটা বিষয় ভাবিয়েছে সেটি হলো "পঙ্গুত্বদের অসহায়ত্বের জীবন"-পাড়ি দেওয়া।  যার দেহ হতে অঙ্গ হারিয়েছে সে বুজে অঙ্গ হারানোর যন্ত্রণা। 

মহান  আল্লাহ আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গকে এমনভাবে স্থাপন করছেন একটি আরেকটির সাথে সম্পর্কিত সুতরাং দেহ থেকে কোনো অংশের বিচ্ছেদ হলে তার প্রতিটিক্ষণ যেন এক একটি বছরের মতো।  হুইল চেয়ার ব্যবহার করে যে মানুষটি জীবন অতিবাহিত করছে এই মুহূর্তে তাকে যদি  প্রশ্ন করা হয় আপনাকে এই সুযোগটা দেওয়া হবে যা আপনার জীবনে কাজে আসবে এতে কোনো অর্থের প্রয়োজন হবেনা।  কোনো চিন্তা ছাড়াই নির্দ্বিধায় বলবে, আল্লাহর কাছে আমার এই ফরিয়াদ আমি আর কিচ্ছু চাই না আমি শুধু সোজা হয়ে দাড়িয়ে হাটতে চাই। 

তেমনি করে প্রত্যেক পঙ্গুরা একিভাবে হারানো অঙ্গ ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাবে কেননা তাদের আত্নচিৎকারে আকাশ ভারী হয়ে যায়।  যে শিশু বিছানায় কাতরায় সে শিশুকে পিতা-মাতা কতোক্ষণব্যাপী, কতোমাস,কতোবছর যাবৎ তাদের সন্তানকে লালন করতে হয়? পিতামাতা এই সন্তানকে নিজেদের নিত্য অশ্রুসিক্ত মোচন করে করে খাওয়া-দাওয়ার যাবতীয় কাজগুলো করে। তারপরও সন্তানকে বুঝতে দেয়না এই পঙ্গু সন্তান তাদের জন্য "বোঝা"।  আমরা আমাদের মহান রবের কাছে এই নিয়ামতের জন্য কখনো শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছি? হে! আল্লাহ আমরা আপনার নিকট শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি আপনার হাতে গড়া স্বয়ং সম্পূর্ণ একজন মানব  উন্মতে মুহাম্মদি হিসেবে আমাদেরকে এই পৃথিবীর আলোবাতাসে দান করেছেন।  আপনি আমাদেরকে চাইলেতো সেটা করতে পারতেন কিন্তু আপনি তা করেননি। 

আজ যারা এই কঠিন বাস্তবতার মাঝে বসবাস, তাদের পঙ্গুত্ব জীবনে এসেছে-সর্বনাশ।  জগতের সকল মানবের মাঝে মহানুভবতা, সহমর্মিতা আর সহযোগিতা বিরাজমান থাকুক, সবাই সবার মতো করে জীবন গড়ুক। 

লেখক: কলামিস্টঃ মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
               সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।