৯:০৫ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৯, বুধবার | | ২০ রজব ১৪৪০




ভেজাল জুস কারখানায় অভিযানে ৩ জনের দণ্ড

১৪ মার্চ ২০১৯, ০৯:৫২ পিএম | জাহিদ


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর এলাকায় সায়েম ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রির ভেজাল ফ্রুটি ম্যাংগো জুস, যৌন উত্তেজক সিরাপ ও লিচি  তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

বুধবার সকালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।  

এসময় একটি পণ্যের বিএসটিআই’র অনুমোদন নিয়ে কয়েক ধরনের ভেজাল জুস, চকলেট, লিচু তৈরির অভিযোগে কারখানায় কর্মরত তিনজনকে কারাদন্ড প্রদান করা হয়। 

আদালত পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুছাব্বিরুল ইসলাম। 

তিনি জানান, হরিশংকরপুর এলাকায় এ প্রতিষ্ঠানটি একটি পণ্যের লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল জুস এবং শিশুদের লিচু, ও যৌন উত্তজক ফ্রুট সিরাপ ইত্যাদি তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল।  

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।  এসময় কারখানার মালিককে না পাওয়ায় সেখানে কর্মরত রাজিব হোসেন, রুবেল ও কলিম উদ্দিন নামের ৩ জনকে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারা মোতাবেক প্রত্যেককে ৩ মাস মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  এসময় বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য ধ্বংশ করা হয়। 

এসময় র‌্যাবের উদ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

চিকিৎসকরা জানান, দেশে উৎপাদিত এবং বাজারজাতকৃত জুস ও ফ্রুট ড্রিংকসে মেশানো হচ্ছে ভেজাল।  ভেজাল মিশ্রিত, নিম্নমানের এবং মাত্রাতিরিক্ত এসিটিক এসিড থাকায় এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। 


নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ফ্রুড ড্রিংকসে কমপক্ষে ১০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ফলের রস থাকা বাধ্যতামূলক।  বুয়েটের পরীক্ষায় তার অর্ধেকও পাওয়া যায়নি।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এই চারটি ফ্রুড ড্রিংকস নয়, দেশে বাজারজাতকৃত প্রায় সবগুলো ফ্রুট ডিংকসের একই অবস্থা।  এসব ফ্রুট ড্রিংকস পান করে শিশুসহ নানা বয়সি মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, এই কারখানা চত্বরে এসব অবৈধ জুস ও যৌন উত্তেজক ঔষধ তৈরী হয় এটা আমাদের জানা ছিলো না। 

ফ্রুট ড্রিংকস বা জুসে কি আছে তা আমাদের জানার কথা নয়।  তবে প্যাকেটের গায়ে যা লেখা আছে তা-ই থাকার কথা।  আমরা তো শুধু কিনে খাই।  তবে শুনেছি এখানকার জুস মানসম্মত নয়।  ভেজাল জুস।  শুধু কেমিকেল দিয়েই তৈরী করে আসছে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুসের নামে শিশুসহ আমরা যা পান করছে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।  জুসে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ সোডিয়াম সাইক্লামেট, কাপড়ের রং, সাইট্রিক এসিড ও প্রিজারভেটিভ (সোডিয়াম বেনজোয়িক ও পটাশিয়াম)।  অম্লতা বাড়াতে ফসফরিক এসিড এবং ঠান্ডা রাখতে ইথিলিন গ্লাইকলও মেশানো হচ্ছে।  জুসের নামে এসব পানীয় দীর্ঘদিন পানের ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, দাঁতের ক্ষয়, কিডনির সমস্যাসহ নানা রোগ হতে পারে। 

শিশু ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পানীয় মানবদেহের জন্য ভয়াবহ হয়ে দেখা দিচ্ছে।  ১০ বছর আগেও দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮০ লাখ।  এখন এ সংখ্যা দুই কোটির বেশি এবং তাদের অর্ধেকই শিশু।  এ ছাড়া দেশে বছরে অন্তত ৮৪ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।  কৃত্রিম সুগন্ধি মেশানো এসব পানীয় গর্ভবতী ও বৃদ্ধদের জন্যও ক্ষতিকর। 


keya