৬:৩৬ এএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


ভোটার তালিকা আইন সংশোধনের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে ইসি

১০ জুলাই ২০১৮, ১২:১১ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি নিতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। 

অক্টোবর মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ধরে সময় স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে চলতি বছর এ কর্মসূচি না নেয়ার প্রস্তাব করা হয়।  মঙ্গলবার ইসির ৩২তম সভায় এ বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে কিনা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে। 

কমিশন সভার জন্য তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, চলতি বছর হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা না হলেও আইনগত বৈধতা বা ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হবে না। 

ইসি সূত্র জানায়, এছাড়া ভোটার তালিকা আইন সংশোধনের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।  এতে আইনের পাঁচ ধরনের সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে।  বিদ্যমান আইনে প্রতি বছর ২  জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি সময়কালের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করার বাধ্যবাধতা শিথিল করে সময়সীমা পহেলা মার্চ পর্যন্ত করার প্রস্তাব করেছে আইন সংস্কার কমিটি। 

প্রসঙ্গত: প্রতি বছর সাধারণত জুলাই মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করে ইসি।  আগামী বছর থেকে ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালিত হবে।  জুলাইয়ের পরিবর্তে ১ মার্চ থেকেই ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করতে চান ইসি কর্মকর্তারা।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

ইসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।  বর্তমানে তিন সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকারের অর্ধশতাধিক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  এসব নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যস্ত রয়েছেন। 

এমন পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হবে। 

ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কর্মসূচি না নেয়ার যুক্তি দেখিয়ে কমিশন সভার কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ১১ এবং ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি ২৭ অনুসরণে ২০১৭-২০১৮ সালের ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম গত ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

এ কার্যক্রমটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ।  অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সারাদেশব্যাপী কার্যক্রমটি পরিচালনা করতে বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ের প্রয়োজন হয়।  এছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল অক্টোবরে ঘোষণা করা হতে পারে। 

কমিশনের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৩০০ নির্বাচনী আসনের জন্য ছবিসহ ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি তৈরি ও তা বিতরণের সময়সীমা নির্ধারণ রয়েছে। 

এছাড়া ভোটার তালিকা আইনের সংশোধনীর বিষয়টিও অপেক্ষমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা না হলেও বৈধতা ও ধারাবাহিকতার ক্ষুণ্ন হবে না উল্লেখ করে কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এ বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বিধায় সময় স্বল্পতার কারণে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। 

এ বিষয়ে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১১ ধারা অনুযায়ী যদি ভোটার তালিকা পূর্বোল্লিখিতভাবে হালনাগাদ না করা হয়, তাহলে এর বৈধতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হবে না। 

এতে আরও বলা হয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম গ্রহণ না করলেও আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।  এরুপ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম গ্রহণ না করার নজির রয়েছে। 

আরও জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সভায় ৫টি এজেন্ডা (আলোচ্যসূচি) রয়েছে।  সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম।  পহেলা মার্চ তারিখকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে ঘোষণা ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদযাপিতব্য দিবসের তালিকাভুক্ত হওয়ায় দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে কর্ম-পরিকল্পনা করা। 

বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়া’ লিঙ্গ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা।  নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (কর্মকর্তা-কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন।