১২:৫৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

ভবন ভাঙতে আরো সময় চাইল বিজিএমইএ

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:২৫ পিএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : বহুতল ভবনটি ভাঙতে আরো সময় চেয়ে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি(বিজিএমইএ)। 

বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ’র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম আবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজউক কেবল জমি দিয়েছে এখনো সবকিছু প্রক্রিয়াধীন আছে।  তাই সম্প্রতি সময় চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে। 

চলতি বছরের ১২ মার্চ বিজিএমইএকে ভবন থেকে উঠতে ছয় মাসের সময় দেয় আপিল বিভাগ।  বিজিএমইএ এর তিন বছরের আবেদনের শুনানি নিয়ে ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ভবনটি ভাঙতে ছয় মাস সময় দেন।  সেসময় আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী।  সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। 

তখন আপিল বিভাগ বলেছিলেন, ২০১১ সালে এ বিষয়ে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন।  এরপর ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ তা বহাল রাখেন।  কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন সরানোর কোনো চেষ্টা করা হয়নি।  এরপর ছয় মাসের সময় দিয়ে আবেদনটির নিষ্পত্তি করে দেন। 

গত ৫ মার্চ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে কত সময় লাগবে তা ৯ মার্চের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে বলেছিলেন আপিল বিভাগ।  ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রিভিউ আবেদন খারিজ করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার রায় বহাল রাখেন। 

জমির মালিকানা না থাকা এবং জলাধার আইন লঙ্ঘন করে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভবনটি ভেঙে ফেলতে রায় দেন হাইকোর্ট।  ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।  এরপর ওই বছর ২১ মে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। 

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, বিজিএমইএ যাদের কাছে ওই ভবনের ফ্ল্যাট বা অংশ বিক্রি করেছে, দাবি পাওয়ার এক বছরের মধ্যে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।  এতে বলা হয়, ‘বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে তা ছিল বেআইনি।  ওই জায়গায় ভবন নির্মাণ বা কোনো অংশ কারো কাছে বিক্রির কোনো অধিকার বিজিএমইএর ছিল না।  তবে ক্রেতারা যেহেতু নিজেরাও জানত বা তাদের জানা উচিত ছিল যে এ জমির ওপর বিজিএমইএর কোনো মালিকানা নেই এবং ভবনটি বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।  সুতরাং তারা কোনো ইন্টারেস্ট পাওয়ার দাবিদার নয়। ’

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।  ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।  এরপর থেকে ভবনটি বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।