১১:১৫ এএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪১




ভূমি বিরোধে আটকে আছে পার্বত্য শান্তি চুক্তি

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২১ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: শুধু ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ধারায় আটকে আছে পুরো পার্বত্য শান্তি চুক্তি। 

চুক্তির মূল অংশীদার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ৪৮টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে বলে দাবি করলেও অন্য অংশীদার জেএসএস বলছে ভিন্ন কথা। 

তবে নানামুখী জটিলতার কারণে গত ২২ বছরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির ধারাটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েই সংশয় রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। 

রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত পার্বত্যাঞ্চলের ২০ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তিতে উপনীত হয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংগ্রামরত জেএসএস।  কিন্তু ৭২ ধারার এ চুক্তির ৪৮টি পূর্ণাঙ্গ এবং ৭টি আংশিক এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নের পথে বলে দাবি আওয়ামী লীগের।  তবে এখনও ৪৭টি ধারা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে জেএসএস।  এর মধ্যে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকেই মূল ধারা হিসেবে চিহ্নিত তাদের কাছে। 

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চুক্তি অনুযায়ী একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে আগেই গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিশন।  কিন্তু ভূমির মালিকানা চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়, বরাদ্দ এবং অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নানামুখী জটিলতা থাকায় এ কমিশনকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।  তবে রাজনৈতিক কারণে চুক্তির অংশীদার উভয় পক্ষের কাছে এ ধারাটি স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম বলেন, কর্মকাণ্ডগুলো চালু না হলে ৫০ বছরেও এ চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব না। 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, ভূমি সমস্যার সমাধান হলেই অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।  

গত দু’দশকেও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় পাহাড়িদের মধ্যে যেমন অসন্তোষ রয়ে গেছে তেমনি পার্বত্য আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হলে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কিত বাঙালিরা।  এ অবস্থায় দু’পক্ষকেই আস্থায় রেখে সব ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী সরকার। 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারকে এটা পাঠিয়েছি।  সরকারও তার অনুমোদন দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে।  এবার কাজ শুরু হবে। 

শান্তিচুক্তির পর নানামুখী সংঘাতে অন্তত কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ তিন পার্বত্য জেলায়। 


keya