৪:২৭ এএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারকে বিদায় সংবর্ধনা দিল চসিক

২৬ আগস্ট ২০১৭, ০৬:৩১ পিএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কমঃ ঐতিহাসিকভাবে ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও সুপ্রতিবেশি।  বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয়।  কয়েক দশক ধরে চট্টগ্রামের মানুষকে ভারতীয় হাই কমিশন সেবা দিয়ে যাচ্ছে, যা প্রশংসার দাবী রাখে। 

চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের মান্যবর সহকারী হাইকশিনার শ্রী সোমনাথ হালদারের চট্টগ্রামের দায়িত্ব থেকে বিদায় উপলক্ষ্যে তাঁকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২৬ আগস্ট ২০১৭ খ্রি. দুপুরে চিটাগাং ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সংবর্ধনা দেয়া হয়।  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।  এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামস্থ রাশিয়ার কনস্যূল জেনারেল মান্যবর ওলেগ পি বয়কো (গৎ. ঙষবম চ. ইড়ুশড়), প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।  অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব মো. মঞ্জুরুল ইসলাম।  অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কনস্যুল জেনারেল, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মিডিয়ার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  সভার প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।  মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে আজোবদি ভারত বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে। 

তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-চিকিৎসা সহ নানা বিষয়ে পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।  বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, সংস্কৃতি সহ নানা বিষয়ে নিম্ন আয়ের এবং পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর কল্যাণ করে যাচ্ছে ভারত।  এ ছাড়াও আলোকিত নগরীর বিষয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে সহযোগিতা করতে চান ভারত।  তাদের এ প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন আছে। 

মেয়র বলেন, আলোকিত পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবকাঠামো ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আলোকিত নাগরিক গড়ার প্রত্যয়ে এবং স্বাস্থ্য সেবা জনগনের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সর্বত্র প্রশংসিত।  বিশেষ করে স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী সেবা, দন্ত্য ও চক্ষু চিকিৎসা সেবা নতুন সংযোজন। 

মাত্র ১০ টাকা ফি দিয়ে যেকোন নাগরিক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করতে পারে।  মেয়র বলেন, বিলবোর্ড উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে নৈসর্গিক রূপ ফিরিয়ে আনা, পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম দিনের পরিবর্তে রাতে করা, ডোর টু ডোর আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জন্য স্বস্তিদায়ক বলে আমার ধারনা। 

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চলতি বছরের মধ্যে নগরীকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপ দেয়া হবে।  দেড় বছরের মধ্যে শতভাগ আলোকিত নগর গড়া হবে।  রাস্তা-ঘাট সংস্কারের কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। 

চলতি অর্থ বছরে এ সময়ের মধ্যে ৬শত প্রকল্প কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।  অপরাজনীতি, বিভ্রান্তি ও বিকৃত মানসিকতার কারণে চট্টগ্রামের কার্যক্রম হয়ত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেনি।  তবে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে।  এ পর্যন্ত কোন নাগরিক এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন উত্তাপন করতে পারেনি।  বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা নানা কারণে হয়ে থাকে। 

বৈশ্বিক প্রভাব, সাগরের পানির উচচতা বৃদ্ধি, অতি মাত্রায় জোয়ার, লাগাতার ভারীবর্ষণ, খাল-নালা দখল, পুকুর জলাশয় বিলোভ সাধন, পাহাড় ক্ষয় সহ নানাবিদ কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।  এ জলদুর্ভোগ নিরসনে প্রচেষ্টা চলছে। 

তিনি আশা করেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় সকল ধরনের নাগরিক সেবা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।  বিদায়ী সহকারী হাই কমিশানর সোমনাথ হালদার বলেন, ধৈর্য্য ধারন করে সকল প্রকার বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশকে সামনে এগুতে হবে।  কারণ কিছু শক্তি চান না বাংলাদেশ উন্নত হোক। 

ভারত অতিতে বাংলাদেশের পাশে ছিল, আজো আছে, আগামীতেও থাকবে।  সন্তান জন্মের সময় মায়ের প্রসব বেদনার যন্ত্রনা ন্যায় ভারত বাংলাদেশের যন্ত্রনা বুঝতে পারে।  কারণ দেশের জন্মের সময় ভারত পাশে ছিল ও সহযোগিতায় ছিল।  সোমনাথ হালদার চট্টগ্রামের বাশখালীতে ১৫০টি নলকূপ স্থাপন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি সহ অন্যান্য থানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, চাঁদপুরে ছাত্রী নিবাস, সিলেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সুইপার কলোনী নির্মাণসহ সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নানামুখী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।  তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য ভারতে বৃত্তি প্রদান এবং মানবতার উপর পরিচালিত আক্রমনান্ত্রক কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি কর্মকান্ডকে বেগবান করা হয়েছে। 

ফলে ধর্মের নামে পরিচালিত জঙ্গবাদী কার্যক্রম ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে চলেছে।  চট্টগ্রামে নিযুক্ত রাশিয়ার হাই কনস্যূল জেনারেল মান্যবর ওলেগ পি বয়কো (গৎ. ঙষবম চ. ইড়ুশড়) মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে আজোবদি রাশিয়া বাংলাদেশের পরম বন্ধু হিসেবে পাশে আছে। 

আগামীতেও রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে।  তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নানামুখী সেবা কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, চট্টগ্রাম ধীরে ধীরে উন্নতির শীর্ষে যাচ্ছে।  তিনি নিরাপদ এ জনপদে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন। 

বিদায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ভারতের বিদায়ী সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ হালদারকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছায় বিদায় জানান। 

এ ছড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের পক্ষে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বহস্তে লিখিত কারাগারে রোজনামচা বইটি উপহার দেন।  ভারতীয় বিদায়ী সহকারী হাই কমিশানার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে তাদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নির্ভর উপহার প্রদান করেন।