১০:২৫ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার | | ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ভালবাসার লুকোচুরি

৩১ অক্টোবর ২০১৭, ০৫:২২ পিএম | ফখরুল


সৈয়দা শামীমা শাইমে : সব ভালবাসায় পরিণতি কি প্রনয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে ? হয়তো পারে, হয়তোবা  পারে না, কিংবা গন্তব্যের কাছাকাছি এসেও থমকে যায়? এটাই কি নিয়তি? এটাই যদি নিয়তি হয়  তাহলে যে ভালবাসা পূর্ণতা পায় সে ভালবাসার স্বীকৃতি দিতে এত দ্বিধা সংশয় কেন ? চাওয়া-পাওয়ার সাথে এত লুকোচুরি কেন ? এই লুকোচুরি কি নিজের সাথে নিজের, নাকি পারিপার্শ্বিকতার সাথে? এই পারিপার্শ্বিকতা আর সামাজিক বলয়কে যদি এতই ভয় পাওয়া! তাহলে মনের ভেতর যত চাওয়া-পাওয়া আছে তা অংকুরে বিনাস করা কি উচিত না ? এক হৃদয়ের সাথে অন্য হৃদয়ের , এক জীবনের সাথে অন্য জীবনের বন্ধন করতে চাওয়া কি দুষ্টু মানসিকতার পরিচয় নয়? যে ভালবাসায় বিশ্বাস, নিরাপত্তা, প্রশান্তি আর আস্থা নেই সেটা কি ভালবাসার নামে নষ্টামী নয় ?

এই অসংখ্য কেন এবং কি এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে রোদেলা আজ নিঃস্ব, শূন্যতার রাজ্যে তার বসবাস বেঁচে থাকাটা প্রচন্ড কষ্টকর।  হাসি-খুঁশি আর সদা উচ্ছ্বসিত রোদেলা ভালবেসে আকাশ ছুঁতে চেয়েছিল, কিন্তু আকাশ ছুঁতে গিয়ে সে ছুঁয়েছে মেঘ!

আর এই মেঘ থেকে অঝোর ধারায়  শ্রাবণের বারিধারা রোদেলার জীবনকে নিয়ে গেল অতল সাগরে।  বর্ষাপ্রিয়তা রোদেলা শ্রাবণের হাত ধরে অন্ধকার রাজ্যে হারিয়ে গেল। 

রোদেলা শ্রাবণের কাছে শুধুই একটা ভালবাসার নীড় চেয়েছিল।  কিন্তু আজ সে নীড় হারা।  শুধুই যে নীড় হারা তা নয়, আপনজন ছেড়ে , পরিচিত লোকালয় ছেড়ে সে আজ বহুদূরে চলে গেল।  শ্রাবণের দেয়া কষ্টের বারিধারা রোদেলাকে মেঘের আড়ালে ডুবে যেতে দেয়নি, বরং প্লাবন হয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে। 

ভালবাসার অমর্যাদা, গোপন বিয়ের স্বীকৃতি, ও আপন অস্তিত্ব অস্বীকারের মত জঘন্য আর নিষ্টুর আচরন রোদেলাকে হতাশাগ্রস্থ করলেও ভেঙ্গে পড়তে দেয়নি। 

রোদেলা শ্রাবণকে ভালবেসে উপহার পেল প্লাবনকে, পেল মাতৃত্বের স্বাদ।  আর এই মাতৃত্বের স্বাদ রোদেলাকে করেছে এক পরিপূর্ণ নারী।  প্রতারক প্রেমিক স্বামী রোদেলার মনের রাজ্যটাকে শূন্যতায় ভরে দিলেও পরিপূর্ণ করে দিল মাতৃহৃদয়টাকে। 

প্লাবনের মুখে মা ডাক শুনার জন্য রোদেলা পৃথীবির সকল চিরাচরিত বাঁধাবিঘ্ন, প্রচলিত সামাজিক বলয়,কলংকের দাগ সব কিছুকেই তুচ্ছ করে শুরু করে একাকী বসবাস। 

এদিকে সময়ের প্রেক্ষিতে শ্রাবণের জীবনে এসেছে মেঘলা।  শ্রাবণ-মেঘলার জীবনে আজ শুধুই হাহাকার,শূন্যতা।  যে শ্রাবণ একদিন পিতৃত্ব স্বীকার করতে চায়নি, সে আজ পিতা হবার স্বপ্নে বিভোর, ব্যাকুল।  এক অসীম শূর্ণ্যতা তার জীবনকে গ্রাস করেছে। 

ভালবাসাহীন এই নিষ্ঠুর পৃথীবিতে কাউকে ছুঁয়ে যায় শূর্ন্যতা আবার কাউকে পূর্ণ্যতা।  নিঃস রোদেলা আজ পরিপূর্ণ মা, অপরদিকে সবকিছু থেকেও শ্রাবণ আজ নিঃস্ব, শূন্য। 

শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক