৭:২৬ এএম, ২১ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | | ৩০ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

ভালবাসায় সিক্ত আমি

০৬ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:০৭ পিএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কমঃ ছোট বেলা থেকেই ( যখন থেকে বুঝতে শিখেছি) ভালবাসা নামক বস্তুটিকে কেন জানি ঘৃনা করতাম।  আমার ঘৃনিত এই ভালবাসার স্মৃতিই যে একদিন আমার জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হবে তা কখনও ভাবিনি। 

স্কুল জীবনে তাই মেয়েদের সব সময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম।   আবার বন্ধুদের মেয়ে প্রীতি, অতি আলাপন ও গায়ে পড়ে কথা বলার আগ্রহ দেখে নিজের কাছে খুব বিরক্তি ও রাগ হত।  কিন্তু কখনও তাদের বলতে পারি নাই।  তাদের এমন সব মেয়েলীপনা কার্যকালাপ অসহ্য মনে হলেও  নিরবে সহ্য করে গেছি।  মেয়েদের হৃদয় জুড়ানো ভালবাসাহীন আমার জীবনটাকে এভাবেই স্কুল থেকে কলেজের গন্ডি পার করেছি।  কখনও ভালবাসা নামক বস্তুটির ধারে কাছেও যাইনি। 

ছোট বেলা থেকেই পত্র পত্রিকা সহ ম্যাগাজিন, গল্প, উপন্যাস বই পড়তে খুব ভালবাসতাম।  এই অভ্যাস থেকেই পত্র-পত্রিকায় আমার একটু আধটু লেখার অভ্যাস ছিল।  আর এই ভালবাসার টানেই আমার কাঁচা হাতের ছোট-খাটো কিছু লেখা বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায় চিঠিপত্র, সাহিত্য কলাম বিভাগ সহ অন্যান্য বিভাগে পাঠাতাম। 

যখন পত্রিকায় নিজের কোন লেখা প্রকাশিত হত তখন যে, মনের মধ্যে কি আনন্দটাই না হত, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।  পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন রকম খবরা খবর দেখে মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন জাগত ? পত্রিকায় প্রকাশিত এ রকম অন্যায়,অত্যাচার, অনিয়ম, দূর্নীতির নানা রকম বিচিত্র ঘটনা আমার এলাকার চারপাশে বা চোখের সামনে ঘটলেও তার কোন খবর পত্রিকার পাতায় খুঁজে পেতাম না। 

আর সেই থেকেই আমার একটা অদম্য ইচ্ছে আমি সাংবাদিক হবো।  তাই আমি সাংবাদিক হয়ে সে সব খবর গুলো পত্রিকায় তুলে ধরব।  এ রকম কল্পনার মাঝে সত্যিই আমি একদিন সাংবাদিক নামক মহান পেশায় নিজেকে জড়িয়ে ফেললাম।  ফলে ভালবাসা নামক বস্তুটির পেছনে আর্কষনের সময় হয়নি। 

২০০৯ সাল আধুনিক যন্ত্র মোবাইল ফোনের মিস কলের মাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।  নাটকীয় ভাবে ঐ মেয়েই আমার জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হবে তা কখন কল্পনাই করিনি।  সেই আমার প্রথম এবং শেষ   ভালবাসা।  আমি জীবনে প্রেম, ভালবাসা নামক বস্তুটি কে (যদিও আমি তাকে ভালবাসার আগেএই দুটি শব্দ কে বার বার ঘৃনাত করতাম) অবজ্ঞা আর অবহেলা করে এসেছি।  পারিনি রা-সু  নামক মেয়েটির বেলায় ।  সে অত্যন্ত ভদ্র ও বিণয়ী।  তার সুন্দর মুখের কথা, সুন্দর হাসি, আচার, ব্যবহার সহ তার প্রতিটি কার্যকালাপই আমাকে আক্রোশিত করেছিল, যা লিখে প্রকাশ করা যাবে না।  এক কথায় সে এক অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে। 

তার সাবলীল সুন্দর মাধুর্য্য মাখা মুখের মিষ্টি কথা গুলো আমাকে আকর্ষিত করেছিল, সে জন্য প্রথম আলাপনেই তাকে আমি ভালবেসে ছিলাম।  কিন্তু তাকে আমি কখনও বলিনি বা বুঝতে দেয়নি।  দীর্ঘ এক বছর তার সঙ্গে আমার আলাপ চারিতা বন্ধু হিসাবে হয়েছিল।  আর তাতেই জেনে ছিলাম ওরা বিশাল বড় লোক।  মেয়েটি বড় লোকের ঘরের সস্তান হলেও মানসিক দিক দিয়ে সে কখনও সুখী ছিলনা।  বাবা-মা, ভাই-বোন সহ পরিবারের সকল সদস্যদের কাছে ছিল প্রতিনিয়ত অবহেলিত।  কখনও নিজের মনের ইচ্ছা অনুযায়ী কোন কাজ করার সাহস ছিল না। 

তার উপর ভাই ভাবীদের সারাক্ষণ বাজে মন্তব্য ও অশ্রীন কথনে তার কমল হৃদয় বার বার ভেঙ্গে যেত।  এজন্য নিরবে, নির্জণে, একাকী ঘরের কোণায় অথবা নির্জণ কোন স্থানে অঝোরে নয়ন জল নিপাতিত করাই ছিল তার জীবনের দৈন্দদিন ব্যাপার।  আমার মনে হয় আমার সঙ্গে তার পরিচয়ের পর আর কিছু না হক, তার নির্মম কষ্টের সীমাহীন জ্বালা গুলো উথলিয়ে নিজেকে কিছুটা হালকা করতে পেরেছিল।  রা-সু প্রতিনিয়ত এ রকম কষ্ঠের কথাগুলো আমার নিকট শেয়ার করে নিজের কষ্টের কিছুটা সময় গুলো ভূলে থাকার চেষ্টা করত।  আমি রা-সু’র সেই কষ্টের কথা শুনতে শুনতে আমার মনের গহীনে বিশাল একটা জায়গা শূণ্য হয়।  এই শুন্যতা আমার জীবনের শেষক্ষণ পর্যন্ত থাকবে রা-সুর জন্য। 

কিন্তু তার এ সঙ্গে আমার তুলনা শুধু আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।  তারপরও তার সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জেনে ছিলাম, যা আইয়ামে জাহেলী যুগের কাহিনীকেও হার মানাবে।  তার কষ্ট ও কথা গুলো শুনে নিজের বিবেক  আমাকে বার বার তার কাছে টেনে নিয়ে গিয়েছিল।  তার জন্য খুব মায়া হতো।  সারা জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা জাগত।  মনে হয় আমি ওর পাশে থাকলে সে খুব সুখে থাকতে পারত। 

কিন্তু সাহস পাইনি।  তাদের পরিবারের তুলনায় আমার পরিবারের আকাশ পাতাল তফাৎ ছিল।  পৃথিবীতে ভয়কে যদি কেউ সম্পূর্ণ অতিক্রম করতে পারে, বিপদ কে তুচ্ছ করিতে পারে, ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করিতে পারে তবে তাই প্রেম।  কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বানীটিকে মনের মাঝে ধারন করে মোবাইল পরিচয়ের প্রথম থেকেই তাকে ভালবেসে ছিলাম।  কিন্তু কখনও প্রকাশ করতে পারিনি তার আর আমার মাঝে বিশাল ধনী গরীবের ব্যবধানের কারণে।  এভাবে চলার পর একদিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়।  তবে আশ্চর্যের ব্যাপার তাকে আমার মনের আয়নায় যে রকম কল্পনা করেছিলাম তার চেয়ে বহুগুনে অপূর্ব।  দেখা হওয়ার পর তার প্রতি আমার মনের গভীরে লুকায়িত ভালবাসা আরো উচ্ছাসিত করে।  রা-সুকে নিয়ে আমি আমার স্বপ্ন সুখের সুন্দর নীড় সাজাই।  যেখানে আমি আর রা-সু ভালবাসার সুখের সাগরে সাতাঁর কাটবো।  সেই থেকে তাঁর ভাল- মন্দ, চাওয়া-পাওয়ায় আমার কর্তৃত্ব চাপাতে থাকি। 

এভাবে একদিন মোবাইলে দুজনের আলাপ চারিতার মাঝে রা-সু তার কষ্টের একই কথা গুলো বার বার বলতে থাকায় আমার অজান্তেই তার সেই কষ্টের ভাগ গুলো আমার কাঁধে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি। 

সেদিন আমার আগ্রহে সে কোন বাধা দেয়নি।  গত ০৩/১২/২০১১ ইং তারিখে রাত অনুমান ৮.০০ ঘটিকার সময় তার বাড়ীতে কোন লোকজন না থাকায়  প্রতিদিনের মতোই আমরা কথা বলছিলাম।  এক সময় সে আমাকে বলে আমি তোমাকে আজ বিয়ে করতে চাই।  তুমি রাজি আছ কিনা বল।  আমি তার কথা শুনে কিছুটা হতবম্ভ হয়ে গেলাম।  যাকে ভালবেসে বিয়ে করব বলে এত কিছু করছি, আর সে বলে কিনা তাকে বিয়ে করব কিনা? রা-সুর আজকের এই রকম কথা শুনে আনমনা কিছু একটা চিন্তা করার কারণে খানিকটা নিশ্চুপ হয়ে ছিলাম।  আমার কোন কথা না বলা দেখে সে আমাকে নিয়ে অনেক কথা ও ভুল বুঝতে থাকে। 

আমি তাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলাম।  কিন্তু ফল যা হবার তাই হলো।  সে আমাকে ভুল বুঝতে লাগলো।  উপায়ন্ত না পেয়ে বললাম আমি তোমাকে ভালবেসেছি একমাত্র আমার জীবন সঙ্গী করার জন্য।  তোমাকে ছাড়া আমি আর কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখিনি, ভবিষ্যৎ তে অন্য কাউকে নিয়ে বা কাউকে ভালবাসার ইচ্ছে আমার নাই।  আমি তোমাকে অবশ্যই  বিয়ে করব।  কিন্তু বিয়ের জন্য একটা উপযুক্ত সময় ও সুযোগ আসতে হবেনা। 

আমার কথায় কোন জবাব নেই।  তখন সে হঠাৎ মোবাইলে বলে ফেলল আজ এই মহুর্তে এখনি আমাকে বিয়ে করতে হবে।  আমি বললাম এখন কিভাবে সম্ভব।  আমি এক জায়গায় আর তুমি এক জায়গায়।  কিভাবে সম্ভব ? অবশ্যই সম্ভব।  এই দেখ আমি আল্লাহর তার এই রাত, নিঃত্মব্ধ পঙ্খীরাজ, চাঁদ,ধ্রূবুতারা ও অন্ধকারকে স্বাক্ষী রেখে তোমাকে আমার স্বামী ও জীবন সঙ্গী হিসাবে কবুল করে নিলাম। 

এই বলে সে আল হামদুল্লিহ তিনবার (যে ভাবে বিবাহের ছেলে-মেয়েকে কবুল পড়ানো হয়) বলে স্বামী হিসাবে আমাকে কবুল করে নিয়ে তার পালা শেষ করে।   এখন আমাকে একই রুপে তাকে স্ত্রী হিসাবে কবুল করে নিতে বলে।  না জানি আমাকে আবার ভুল বুঝে এই ভেবে তার কথায় উপায়ন্ত না পেয়ে আমিও তার মত করে তাকে আমার স্ত্রী ও জীবন সঙ্গী হিসাবে কবুল করে নিলাম।  আর তারপর থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেলাম।  আমরা সেদিন মুসলিম নর-নারীর বিবাহের ন্যায় দুজন দুজনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কবুল করে নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু  করতে লাগলাম। 

এই বিয়ের শুধু তফাৎ ছিল সামাজিক আচার আনুষ্ঠানিকতার।  জানিনা সেদিন আল্লাহ পাক আমাদের এই দুজন প্রেম পাগল কপোত কপোতীকে কে স্বামী স্ত্রী হিসাবে কবুল করে নিয়েছিলেন কিনা।  কিন্তু তার নিকট আমার একটা শর্ত ছিল আমাদের বিবাহ আমাদের পিতা-মাতা এবং সামাজিক স্কীকৃতি যতদিন না পাবে ততদিন স্বামী-স্ত্রীর কাংখিত চাওয়া মিলন (সহবাস) হবেনা।  সেদিন সে আমার শর্ত ও কথায় রাজী হয়েছিল। 

পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে বহুবার বহু জায়গায় ঘুরিয়ে বেড়িয়েছি। স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় চলাফেরা করেছি তথাপি সেটি (সহবাস) হয়নি।  তার অনেক ইচ্ছা-অনিচ্ছা, অনাদার, আবদার যা, আমি তার স্বামী হিসাবে পুরণ করেছিলাম।  এগুলোর মধ্যে তার একটা অদম্য ইচ্ছা  ছিল আমি তার দেহটাকে আমার নিজের ইচ্ছে মত করে ভোগ করি।  কিন্তু নারী জাতির অহংকার, নারীর দেহের শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার সতীত্ত¡ কে ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও আমার অনিচ্ছার কারণে তার সে আশা কখনও পূরর্ণ হয়নি।  রা-সু হয়ত মনে মনে সেই মহূর্ত  গুলোতে (যে মহুর্ত গুলোতে আমাকে একান্তে কাছে পেয়েছিল) আমাকে তার বাহু বন্ধনে পাওয়ার বাসনায় উম্মুখ থেকেও না পেয়ে কাপুরুষ ভেবেছিল।  ভাবুক তাতে আমি কোন কাপুরূষতা মনে করায় নিজেকে হেয় মনে করিনি। 

আমি  দরিদ্র পিতার অভাবী সংসারে জন্ম নিলেও পিতা-মাতার নিকট থেকে সন্তানের যতটুকু চাওয়া পাওয়া থাকার কথা আমার সেই দরিদ্র পিতা-মাতার কাছ থেকে সবটুকুই পেয়েছিলাম।  আমার চাওয়া পাওয়ায় ক্ষেত্রে কখনও কোন ঘাটতি পায়নি।  খুব সুখেই দিন কাটিয়ে ছিলাম।   সন্তান হিসাবে পিতা-মাতার প্রতি যেটুকু পালন করার কথা তা করতে পেরেছি কিনা সেটা জোর গলায় আমি বলতে না পারলেও নিজেকে উজার করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি বলতে পারি।  হয়ত বাবা-মার আমার প্রতি আর একটি দায়িত্ব ছিল, তাদের সন্তানের পরিনত বয়সে একজন যোগ্য পাত্রী দেখে বিয়ে দেওয়া। 

তাদের সে সুযোগ না দিয়েই আমি আমার অবুঝ মনের হেয়ালিপনা ভালবাসার মাধুরী টানে আমার জীবন সঙ্গী হিসাবে রা-সুকে বেছে নিয়েছিলাম।  এটা ছিল আমার পিতা মাতার কাছে আমার অপরাধ।  কিন্তু তোমার কাছে মনে হয় আমার কোন অপরাধ ছিল না ? জানিনা সেদিন তুমি আমাকে সত্যিকারের ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে স্বামী হিসাবে গ্রহন করেছিলে কিনা ?  কিন্তু আমি তোমাকে আমার জীবন সঙ্গী হিসাবে সত্যিই গ্রহন করে ছিলাম।  তোমাকে স্ত্রী হিসাবে যেটুকু সময় কাছে পেয়েছিলাম, স্বামী হিসাবে স্ত্রীর যে দায়িত্ব পালন করার দরকার ছিল তা মন উজার করে করার চেষ্টা করেছি। 

কখনও আমার পিতা-মাতার অভাবের সংসারের দারিদ্রতার এতটুকু কথাও বুঝতে দেয়নি।  তোমাকে হারানোর ভয়ে।  আমি তোমার কাছে বিশাল অপরাধী তোমার দু’একটি কথা না শোনার জন্য।  আসলে আমি চেয়েছিলাম তোমার আমার মাঝে সেই কাংখিত মিলনটা সামাজিক স্বীকৃতির পরেই হবে।  এটা আসলে তোমার কাছে আমার কোন অপরাধ হতে পারে না। 

রা-সু মাত্র তিন দিনের জন্য তোমার সঙ্গে আমার একবারে যোগাযোগ ছিল না।  কারণ যে সময় আমরা কথা বলতাম সে সময় তোমার মোবাইলে রিং দিয়ে দেখি তোমার নাম্বার ওয়েটিং।  সেজন্য রাগ করে আমার মোবাইল ফোনটি বন্ধ রেখেছিলাম।  এই তিন দিনই তোমার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। 

তারপরেও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যধে তোার খোঁজ খবর জানতে চেয়েছি।  মাত্র ৩টি দিন আর তাতেই কিভাবে তোমার আমার জীবনে নেমে এলো এই কালো মেঘ।  সেদিন (তোমার আমার জীবনের সেই কালো রাত হলো ১০ নভেম্বর/১১) সারাদিন আমি কাটা কই মাছের মত ছটফট করে করেছি।  এতটুকু সময়ের জন্য শান্তি পাচ্ছিলাম না।  রাতে শুয়ে তোমার জন্য আমার মনটা ভীষন খারাপ হলো।  মোবাইলে রিং দিয়ে দেখলাম বন্ধ।  মনে মনে আঁচ করতে পেলাম তোমার কি যেন হয়েছে।  এজন্য মনটা আরো অস্থির হয়ে উঠল।  আর তখন থেকেই সারারাত আমার কি যে বুক ফাটা কান্না। 

আমার চোখের পানিতে সেদিন মাথার বালিশের কি অবস্থা হয়েছিল তা একমাত্র আমি ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।  সারারাতে একটি বারের জন্যও আমি আমার কান্না থামাতে পারিনি।  একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন সেই রাতে আমার কি অবস্থা হয়েছিল।  আমার মনে আর বুঝতে একটুও কষ্ট হয়নি।  আজ থেকে পৃথিবীতে আমি একা হয়ে গেলাম।  যাকে আমি আমার কলজা পাখি বলে ডাকতাম সেই কলজা পাখি আমার বুকের খাচা ছেড়ে অনত্র উড়াল দিয়েছে। 

গভীর রাতে কষ্টভরা মনে একটা স্বাগতম জানিয়ে এস এম এস পাঠালাম তোমার  মোবাইলে।  তোমাকে আমি এমন ভাবে ভালবেসেছিলাম যে, তোমার সামান্য কিছু হলে এভাবেই আমি আঁচ করতে পারতাম।  পরে অবশ্য জানতে জেনে ছিলাম সেই দিনই রা-সুর অনিচ্ছায় পরিবারের চাপে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধি বড় লোকের ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। 

রা-সু আমি তোমাকে বেসেছিলাম, এখনও ভালবাসি।  যতদিন বেচে থাকবো ততদিন আমার অন্তর থেকে তোমাকে  ভালবাসব।  নতুন জীবনে কেমন আছ, তুমি না বললেও আমি জানি এবং কেমন থাকবে তাও জানি।  তুমি না বললেও আমি সবকিছু বুঝতে পারি রে।  আমার স্ত্রী হিসাবে তোমার কাছ থেকে যা কিছু পেয়েছি তা কোন দিন আমার ভুলার কথা নয়, ভুলতেও পারবনা।  যে সকল উপহার তোমার কাছ থেকে আমি পেয়েছি সেগুলো তোমার স্মৃতি হিসাবে স্বযতেœ রেখে দিয়েছি।  তোমার ভালবাসার স্মৃতি গুলো এখন আমার নিদ্রাহীন রজনীর একমাত্র খোরাক। 

চোখের সামনে নক্ষত্রের মত ভেসে উঠে।   সেজন্য প্রতিটা মহূর্ত খুব কষ্টে কাটে।  কাউকে বলতে পারিনা আমার সেই কষ্টের কথা।  এখন আমার তোমার সেই ছবিগুলো বুকের মাঝে আগলে রেখে নিরর্থক মূল্যহীন চোখের পানিতে অতিক্রম হয় রাতের পর রাত।  মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হয় ছুটে যাই তোমার কাছে।  ছিনিয়ে নিয়ে আসি তোমার দেওয়া সেই আমার অধিকার। 

একটি গ্রাম্য পরিবারের কাছে মেয়ের কোন মতামতের তোয়াক্কা করা হয়না সেটা তুমিই প্রমান।  আর এভাবেই গ্রামের শত শত পরিবারের মেয়েদের তাদের ইচ্ছা ও মতের বিরুদ্ধে অজানা কোন পূরষের হাতে সপে দিয়ে ধ্বংস করা হয় জীবন প্রদীপ। 
রা-সু তুমি আমাকে ভুল বুঝনা লক্ষি সোনা।  আমি তোমাকে আমার জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসি।  আমি তো কখনও তোমাকে হারাতে চাইনি।  তবে হারাতে হলো কেন? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে আমাকে ? তোমাকে আমি পাগলের মত ভালবাসি।  আমি আমার পিতা-মাতা গরীব বলেই কি তোমার কাছে আমার ভালবাসা উপেক্ষিত হয়েছে।  ভালবাসাত পাপ নয়।  আমি তো তোমাকে ভালবেসে কোন অপরাধ করিনি। 

তাহলে কেন তোমাকে হারাতে হল? এই পৃথিবীর ক্ষণিকের জীবন ভেলায় আমার একমাত্র ভালবাসা তুমি।  আমার এই দুঃখ অনুভব করার মত এই পৃথিবীতে তুমি ছাড়া আর কেউ নেই ।  তুমি ছাড়া আমার জীবনে আর কোন আনন্দ নেই, মুখে হাসি নেই, ঘুম নেই।  শুধু নেই আর নেই।  আমার সব কিছু কে ঘিরে ছিলো শুধু তুমি।  তুমি নেই আছে শুধু শুণ্যতা।  এই শুন্যতা পূরণ করবে কে ? যা শুধু একমাত্র তুমিই পূরণ করতে পার।  পৃথিবীতে আর কারো হয়ত জম্ম হয়নি আমার এই শুন্যতা পূরুন  করবে।  আমার এই জীবনে যদি আল্লাহ পাক কোন সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধন আমার মিলন করিয়ে থাকে তাহলে সেটা যেন তোমার সঙ্গেই হয়। 

আমার মাঝরাতের স্বপ্ন যদি সত্যি হয় তবে তোমাকে আমি পাবই পাব।  আর তুমিও যদি আমাকে একদিনের জন্য অথবা এক মহূর্তের জন্য ভালবেসে থাক, তাহলে পৃথিবীর যে প্রােেন্তই যার সঙ্গেই ঘর বাধো না কেন, আমার ভালবাসার টানে আমার কাছে একদিন না একদিন ফিরে আসতে হবে।  এটা সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমার অবিচল দৃঢ় বিশ্বাস। 

তোমার কমল হৃদয়ের ভালবাসা, আমার মাঝ রাতের স্বপ্ন ও সরল বিশ্বাস, অসহায় দুরিদ্র বাবা মার দোয়া তুমি আমার হবেই।  আর এই বিশ্বাস নিয়েই তোমার আগমনের পথ চেয়ে বসে আছি।  জীবনের শেষ নিঃস্বাস অবদি তোমার অপেক্ষাতেই থাকব। 

লেখকঃ    মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।