১:৫০ এএম, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার | | ২০ রমজান ১৪৪০




ভোলাহাটে ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের হাসি

১২ মে ২০১৯, ০৫:৩৮ পিএম | জাহিদ


আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ভোলাহাটের গোটা মাঠ বোরো ধানের চাদরে ঢেকে আছে।  ধান আর ধান।  মাঠের যেদিকে তাকানো যায় শুধু ধান।  সোনালী রংয়ের মৌ মৌ গন্ধে মাঠ ও মাঠের আশপাশ ভরে গেছে।  কেউ কেউ ধানের মাঠে।  কেউ বা ধান কাটার আশায়।  কেউ আবার কেটেই ফেলেছেন।  এখন শুধু ভয়।  প্রাকৃতিক দূর্যোগ। 

ঠিকঠাক গোলায় ধান তোলার প্রত্যাশা ভোলাহাটের কৃষাণ-কৃষাণির।  ভয়ংকর ফণীর হাত থেকে বেঁচেছে ভোলাহাটবাসি।  তারপরও কিছুটা হলেও আক্রান্ত হয়েছে ধান বলে কৃষকেরা জানান।  গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরোর ফলন বেশ ভালো আশা করছেন ভোলাহাটের কৃষক।  বুক ভরা আশায় পরিবারের সদস্য নিয়ে বেশ সুখে কাটবে এমন প্রত্যাশা সবার। 

তবে কৃষকেরা জানান, এ বছর পল্লী বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি বিভাগ ও কৃষক সবার সমন্বয়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মুক্ত থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন আশা করা যায়।  ভোলাহাট কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ভোলাহাটে মোট ৪২ হাজার ৬৫৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষা করা হয়েছে।  সম্ভাব্য বিঘা প্রতি কেজিতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৯ মণ।  মোট সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ১১৫ মেঃ টন।  যা ভোলাহাট উপজেলার মোট ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের জনপ্রতি ৮ মণ করে হবে।  গত বছর ভোলাহাটে প্রায় ৪১ হাজার ৯৮৮ বিঘা জমিতে বোরো চাষ হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় প্রায় ২১ হাজার ৩৫৪ মেঃ টন (প্রাকৃতিক দূর্যোগ ছিলো)।  এদিকে ভোলাহাট বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ চালিত ২শত ১৮টি গভীর নলকূপ কোন প্রকার সমস্যা ছাড়া ধানের জমিতে সেচ সরবরাহ করে। 

ভোলাহাটের বিভিন্ন ধানের মাঠে সরজমিন গিয়ে আলালপুর পীরগাছী মাঠের রুবেল ও আনারুল জানান, তারা ৫/৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছে।  ধান খুব ভালো হয়েছে।  ফলনও ভালো হবে।  ধান পেকে কাটার মত হয়েছে।  কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।  তারা বলেন, এলাকার শ্রমিক বইরে অর্থাৎ খুলনা, কুষ্টিয়া, ঈরশদীসহ বিভিন স্থানে বেশী মূল্যে কাজে যাওয়ায় ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। 

ধরবান বিলের কৃষক তরিকুল, আজিজুল হক, কাউসার, বিলভাতিয়ার সোনাজলের কৃষক হযরত ও ফিরোজ জানান, তাদের ফলন বেশ ভালো হবে।  প্রকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়তে না হলে গত বছরের চেয়ে বেশী ফলন পাবেন।  তারা জানান, এ বছর বিদ্যুৎ ঠিক মত থাকায় সেচ সমস্যা হয়নি।  এদিকে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ভোলাহাট পল্লী বিদ্যুৎ সাব - জোনাল অফিস ও ভোলাহাট কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে কৃষকের পাশে থেকেছেন।  তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও কৃষকের পরিশ্রমে বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাধছেন তারা।  তারা বিঘা প্রতি ১৯ থেকে ২৫মণ  ফলন আশা করছেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনিসহ তার দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়েছেন।  কৃষকেরা সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ঘাটতির মধ্যে পড়েনি।  এ’ছাড়া সেচ ও বিদ্যুৎ সমস্যা ছিলো না।  তিনি বলেন, এখনও যেহেতু ধান কাটা শুরু হয়নি কোন দূর্যোগ ছাড়া কৃষক ঘরে ধান তুলতে পারলে লক্ষ্যমাত্র ছাড়ায়ে যাবে। 

ভোলাহাট বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র সাব এ্যাস্টিস্টেন্ট উচ্চতর উপসহকারী প্রকৗশলি একেএম মঈন বলেন, এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে।  তিনি বলেন, এ বছরের বাম্পার বোরো ফলনে ৮০ শতাংশ কৃষকের কৃত্ত্বিতের দাবী রাখেন।  বাাঁকী দাবীদার বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।  তাদের দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেচ ব্যবহত না হয় সে জন্য ভূ-গর্ভস্থ্য পানি সরবারাহে ব্যবস্থা গ্রহণ।  ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা তৈরী করা।  এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারাহসহ কৃষি অফিসের ভূমিক প্রসংশনিয় বলে জানা।  

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ভোলাহাট সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(ওএন্ড এম) রুহুল আমিন জানান, কৃষি জাতির মেরুদন্ড।  ফলে সেচ কাজ যাতে বাধাগ্রস্থ্য না হয় সে জন্য বোরো মৌসুম জুড়ে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি হয়নি।  এছাড়া সমন্বয়ের ভিত্তিতে সকলের প্রচেষ্টায় এবারের বোরো ধানের বাম্পার ফলন সম্ভব হবে। 


keya