২:৩০ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার | | ১১ শা'বান ১৪৪১




মুক্তচিন্তার অন্তরালে-"ভবিষ্যৎ"

০৫ মার্চ ২০২০, ১০:০৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: সমাজে নানান বৈষম্য আর নিয়ম-নীতির বেড়াজালে বেড়ে ওঠা, সংগ্রামের নানা বাধা উপেক্ষার পথ পেড়িয়ে যাদের ভিত্তি আজ ইস্পাতের মতো মজবুত। 

তাঁরাই পারে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর একাংশকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত করতে।  বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে চমৎকার একটি স্বপ্ন বুনে আর সেই সপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে নানান  কৌশল-অবলম্বন করে। 

যখনই সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে তখনই সমাজকে আলোকিত করার পথ খোঁজে।  অতীতের সকল গ্লানি মুছে, নিত্য নতুন সৃষ্টির পথ খোঁজে।  জীবন সাজাতে মুক্তচিন্তা হৃদয়ে ধারণার উদ্ভব হয়, মনমানসিকতা  পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে সুপ্ত চিন্তাধারার বিকাশ ঘটায়। 

নিজেকে রুচিশীল আর পরিমার্জিত করে সুন্দর সমাজ বিনির্মানে এগিয়ে আসার সুদৃঢ় প্রত্যয় লালন করে।  অসহায়ের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দূরে ফেলে তাঁর অভাব মোচনের জন্যে নিজে কিছু করার চেষ্টা করে।  সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজের একটা অবস্থান দৃঢ় করা আর নিজের মূল্যায়ন কতটুকু তা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে দানশীলতা-সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গিকার করা। 

পোশাক-পরিচ্ছেদের প্রতি নিজের আচার-আচরণের প্রতি আয়না সম্মুখে দাঁড়িয়ে নিজেকে সাবলীল করা সবি কিন্তু মুক্তচিন্তার বহিঃপ্রকাশ।  প্রত্যেকের মনে এমন ধারণা পোষণ করা স্বাভাবিক তবে নিজেকে বদলে দিতে কখনো ধর্মভীরু হওয়া, ধার্মিক আর আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হওয়া, অন্যজনকে সহজ সরল পথে চলতে উপদেশ দেওয়া "মুক্তচিন্তায়" স্থান পাওয়া যায় কি? পাওয়া গেলেও তা খুবই কম সংখ্যক কেননা ধর্মকে এখন নামেমাত্র ব্যবহার করছে তাও আবার ক্ষেত্র বিশেষে অথচ উত্তম ও অনুপম চরিত্র গঠনে ধর্মের কোনো বিকল্প নেই, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা মানেই দো-জাহানের ফায়দা। 

লোক দেখানো কাজ অনেক আছে কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লোক দেখানোর কিছুই নেই সেটা কিন্তু "আল্লাহকে ভয় করা"।  মুক্ত চিন্তা মানে এই নয় আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষের বাইরে স্বপ্ন দেখা যা বাস্তবায়ন আদৌ হবে/পারা যাবে কিনা! স্বপ্ন সেটাই দেখা ভালো যা পূরণ করা দুঃসাধ্য নয়। 

মানব মন বহু জায়গায় বিচরণ করে আর সে অনুযায়ী আমরা কিছু না কিছু চিন্তা করি, যা ভেবেছি তা আদৌ কি সত্য হতে চলছে? যা ভেবেছি তা আদৌ কি করতে পারবো? চিন্তা যা করি সে অনুযায়ী কাজ করি? সবাই বলে ছেলেটা "মেধাবী"-তাকে মানুষের মতো মানুষ হতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যায়ন প্রয়োজন হবে যদি সে অনুযায়ী সাপোর্ট না পায় তাহলে তার স্বপ্ন অধরায় থেকে যাবে।  মেধাবীরা হারাবে অর্থ কিংবা সঠিক গাইডলাইনের অভাবে তখন সমাজব্যবস্থায় নেমে আসবে ভাঙনের সুর। 

দেশে নেমে আসবে চরম দুর্ভোগ ডাক্তার হবে কিন্তু করবে চিকিৎসা সেবায় করবে যত ভুল, ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু প্ল্যান করবে ভুল তাতে নষ্ট হবে মূল।  আমাদের মাঝে মুক্তচিন্তাগুলো যেন সুচিন্তিত হয় আর সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন হয়।  প্রতিটি কাজ মুক্তমনে হোক নতুবা আমরা আমাদের সন্তানদের নৈতিকতা থেকে দূরে ফেলে -বিভ্রান্তকর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ফেলে দিবো যা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

এমন যেন না হয় সৎ চিন্তা ভাবনাগুলো অসৎ কর্মে প্রয়োগ না করি।  ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সদাসর্বদা নিজেকে গড়ি, নেতিবাচক সকল চিন্তাভাবনা হৃদয় থেকে মোচন করে দেশের জন্য কিছু করি। 

তারুণ্যের কবি নজরুল কবিতার মাধ্যমে আগাম বার্তা দিয়েছেন,,,,,, বিশ্ব জগৎ দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে আজ তা বাস্তবে দেখছি আর ফল ভোগ করছি।  কম্পিউটার-স্মার্টফোনে সারা বিশ্বের খবর এখন  নিজের হাতেই পাচ্ছি।  হয়তো কবি সেটা উপলব্ধি করেছেন ভবিষ্যতের জন্য লিখে গিয়েছিল। 

দেশের কয়জন লোক যা বলে ঠিক তা করে?সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি -ইতিবাচক হতে হবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজকে এগিয়ে নিতে হবে তাহলেই মুক্তচিন্তার অন্তরালে ভবিষ্যৎ হবে আলোকোজ্জ্বল দীপ্তিময়। 

লেখক: কলামিস্টঃ মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
               সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।