১১:৩৬ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪০




মুক্তি পাচ্ছেন আশরাফুল

১০ আগস্ট ২০১৮, ০৩:১৯ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিং আর ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় পড়ার ৫ বছর পর অবশেষে মুক্তি মিলছে বাংলাদেশের একসময়ের সেরা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের।  আগামী ১৩ আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি মিলবে তার।  ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি মিললেও এতদিন জাতীয় দল আর বিপিএলে নিষিদ্ধ ছিলেন আশরাফুল। 

আবারও ফেরার সুযোগ পেয়ে দারুণ খুশি আশরাফুল।  বললেন, এই দিনের জন্য পাঁচ বছর প্রতিক্ষা করেছেন তিনি।  ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশরাফুল বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালের ১৮ আগস্টের জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষা করেছি।  আমি আমার দোষ স্বীকার করার পর পাঁচ বছরের বেশি পেরিয়ে গেছে।  যদিও গত দুই বছর আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছি, কিন্তু এখন জাতীয় দলের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে আর কোন বাধা রইল না।  আবারও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারলে সেটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হবে। '

গত দুই বছরে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেছে।  প্রথম বছর তেমন ভাল না কাটলেও ২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পাঁচটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন আশরাফুল।  লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের এক আসরে তিনি মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।  ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর ২৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৪৭.৬৩ গড়ে রান তুলেছেন তিনি।  তবে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অবশ্য গত ১৩ মাসে ২১.৮৫ গড়ে রান তুলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান, সেঞ্চুরি মাত্র ১টি। 

'ফেরার পর প্রথম মৌসুমটা তেমন ভাল কাটেনি, তবে ২০১৭-১৮ মৌসুমে বেশ ভাল করেছি।  আসন্ন মৌসুমে আরও ভাল করতে চাই। ' বলেন আশরাফুল। 

'এখন আমি আমার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবো।  আমি এরইমধ্যে দীর্ঘ একমাসের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।  ১৫ আগস্টের পর আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্য প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নিবো। '

২০১৪ সালের জুনে বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের উপর ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।  সেই সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।  ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি প্যানেল শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে। 

তবে বিসিবি ও আইসিসি শাস্তি কমানোর বিরোধিতা করে।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরই স্থির হয়।  তবে ওই দুই বছর তাকে বিসিবি কিংবা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়।  এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি, যেখানে তাকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে দেখা যায়। 

বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মাঝে আজও আশরাফুল অনেক প্রিয় নাম।  তাকে আবার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুলতে দেখার অপেক্ষায় আছে তার বহু ভক্ত।  কিন্তু এখনও বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। 

তবে নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরো মুক্তি মিলছে এটাই তাকে আবার নতুন করে আশা জাগিয়েছে।  ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে যে ভুল তিনি করেছিলেন তা শোধরাতে তার দীর্ঘ লড়াই অবশেষে আলোর মুখ দেখছে এটাই তাকে সাহস জোগাচ্ছে।