৭:৫২ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২২ সফর ১৪৪১




মেঘের রাজ্য বান্দরবান

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৫ এএম | নকিব


রিমন পালিত, বান্দরবান প্রতিনিধিঃ মেঘের এক অপরূপ সৌন্দর্যের রাজ্য হল বান্দরবান।  

যেখানে আসলে মিলবে মনের এক প্রশান্তি, তাই তো এই বান্দরবান  দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়েছে মেঘের রাজ্য বান্দরবান হিসেবে।   

বান্দরবানে রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র।   আর প্রতিটা পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে আলাদা আলাদা বৈচিত্র, আলাদা আলাদা ধারা, আর আলাদা আলাদা সৌন্দর্য।   প্রকৃতির নীলিমার ভালোবাসায় যেন মুহূর্তে হারিয়ে যাবেন বান্দরবানের সকল পর্যটন  কেন্দ্রগুলোতে। 

পথ চলতে গিয়ে মাঝে মাঝে চোখে পড়বে বিভিন্ন জাতি বৈচিত্রের মানুষ।   শোনা যাবে নানা ভাষার কথা।   প্রকৃতির সাথে মিশে থাকে এই সাধারন মানুষগুলো।   

পৃথিবীর এত বৈচিত্র, এত সৌন্দর্য, এত ভাষাভাষীর মানুষ শুধু একমাত্র এই বান্দরবানে আসলে দেখা যাবে।   তাই পর্যটকদের কাছে পুরোটা বছরজুড়েই বান্দরবান যেন এক  স্বপ্নরাজ্য। 

 মনটা আনচান করতে থাকে কখন যাব এই মাইয়ার বন্ধনের নীলিমার রাজ্য বান্দরবনের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে। 

কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি, কখনো বা মেঘলা আকাশ, আবার কখনো বা পথ জুরে  মেঘের  ভেলা, এর মাঝে আবার কখনো হঠাৎ  নেমে আসে বৃষ্টি।   যেন এক সৃষ্টিকর্তার অপরূপ লীলা খেলা এই মেঘের বিচিত্রের মাঝে উপলব্ধি করা যায়।  

 আর তাইতো বছরজুড়ে ছুটে আসে।  পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে এই মেঘের খেলা উপলব্ধি করতে বান্দরবানের চিরসবুজ রেখায়। 

 হোক সে বসন্ত হোক, বা হেমন্ত, কিংবা শীতের তীব্রতা বা অজর ঝর বর্ষা, যখনই আসুন না কেন মন হারিয়ে যেতেই হবে মেঘের ভেলাতে।  

 মাথার উপর এসে ভেসে থাকা মেঘ দেখে ইচ্ছে করবে মন খুলে আকাশের দিকে উড়াল দিতে, পাহাড় নদী ঝর্ণা আর বিস্তীর্ণ সেই মেঘের ছোটাছুটি  ভ্রমণপিয়াসু সকল মানুষকে  মমুহুত্বের মধ্য  বিমুগ্ধ করে এই বান্দরবানের সৌন্দর্য।  

বান্দরবানের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের পথ পাড়ি দিয়ে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলো,  চিম্বুক, নীলগিরি, নীল দিগন্ত, আর নীলাচল পর্যটন ছাড়াও রয়েছে আরো অনেক পর্যটন কেন্দ্র। 

এই পর্যটন কেন্দ্রের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অপরূপ প্রকৃতি।  যা বান্দরবানে বেড়াতে আসো প্রকৃতিপ্রেমীদের বিমোহিত করে। 

 মনে হয় সৃষ্টিকর্তা তার এক অপরূপ স্বর্গ তৈরি করে রেখেছি এই বাংলার বুক জুড়ে। 

 আর তাইতো বান্দরবানের এই অপরুপ মেঘের ভেলা দর্শন করতে প্রতি বছর ছুটে আছে অসংখ্য পর্যটক।  দেশ জুড়ে রয়েছে এই বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সুনাম। 

সৌন্দর্যের লীলাভুর্মি এই বান্দরবানে মেঘের সাথে পাহাড়ের যেন রয়েছে এক জন্মজন্মান্তরের বন্ধুত্ব।   আর তাই দূর আকাশ থেকে মেঘ ভ্রমণপিয়াসু  সকল মানুষকে ডাকে তার মেঘেরে সৌন্দর্যের ভেলা উপভোগ করতে।   সৃষ্টিকর্তার এই সৌন্দর্য দেখে বুঝা যায় সৃষ্টিকর্তা তার এই অপার সৌন্দর্য সাজিয়েছে তার অপরূপ লীলার মাঝে। 

আর এই সৌন্দর্যের কারণে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বান্দরবান জেলার সকল পর্যটকদের কাছে। 

বান্দরবান থেকে নীলাচল ও নীলগিরি, চিম্বুক যাওয়ার পথে চোখে পড়বে অসংখ্য মেঘের ভেলা।   যা দেখে মানুষের মন হারিয়ে যায় অন্য এক স্বপ্নময় রাজ্যে। 

 একবার হলেও পথ মধ্যে যাত্রাবিরতি দিতে হবে মেঘের ভেলার সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে সকল পর্যটকদের।  যেন এক পিছু টান,তাইতো সকলের কাছেই বান্দরবান হল এক মেঘের স্বপ্নময় রাজ্য। 

আর এই বান্দরবান জেলার সৌন্দর্য বিকাশে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্থা। 

 এ বিষয়ে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃ দাউদুল ইসলাম জানান বান্দরবান এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি, যাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের বান্দরবনে ঘুরতে আসে নানা পর্যটক।  

তাই বান্দরবানের সৌন্দর্যটাকে সকল পর্যটকদের কাছে বিশ্বময় করে তোলার জন্য আমরা বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল রকমভাবে আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। 

 দূর-দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বান্দরবানের সকল প্রশাসন সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে।   যাতে বান্দরবনে ঘুরতে আসা সকল পর্যটকগণ সুনামের সাথে বান্দরবানে সৌন্দর্য্যে কথা সকল বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারে।  

 আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে এ বান্দরবান বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের এর এক নাম্বার পর্যটন খাত হিসাবে গুরুত্ব বহন করবে যা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।   

ইতিমধ্যে আমাদের এই সৌন্দর্যের বান্দরবান সকল মানুষের কাছে সম্প্রীতির বান্দরবান হিসেবে পরিচিত হয়েছে।  আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে বান্দরবানের সুনাম  এই পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে আরো বৃদ্ধি করতে পারব। 

বান্দরবানে এই মেঘের ভেলা দেখতে আসা  ঢাকা নারায়ণগঞ্জের এক পর্যটক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান বছরের যে সময় আমি সুযোগ পাই ছুটি আসি বান্দরবানের এই মেঘের ভেলা দেখতে।   আর যখনি মেঘের কাছাকাছি আসি মনে হয় পুরো বছরের ক্লান্তি শরীর মন থেকে দূর হয়ে গেছে।   অন্যরকম এক অনুভূতি নিজের মাঝে তখন শিহরিত হয় যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।  এক কথায় বলতে গেলে বান্দরবান যেন এক অপরূপ স্বর্গরাজ্য।  

 আর এক পর্যটক নাঈমা সুলতানা কনক জানান বাংলাদেশের অনেক মানুষ টাকা খরচ করে বিদেশ ভ্রমণে যায় কিন্তু যারা একবার বান্দরবানের এই আকাশের নীলিমার সৌন্দর্য নিজ চোখে উপলব্ধি করতে পেরেছে শুধু তারাই জানবে বান্দরবানের সৌন্দর্য যে কত সুন্দর।   আমার মতে বিদেশের চেয়ে হাজারগুন সৌন্দর্য বাংলাদেশের এই বুক জুড়ে বান্দরবনের মাঝে রয়েছে।   তাই আমার কাছে আমার এই বাংলাদেশের বান্দরবান পৃথিবীর যেন আমেরিকার স্বর্গরাজ্য।    যা এই বান্দরবান ভ্রমণ না করলে কোনদিনও উপলব্ধি করা যাবে না।