১১:৫০ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২০ জ্বিলকদ ১৪৪০




মাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনীর তদারকিতে গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ

০৪ জুলাই ২০১৯, ১০:২১ এএম | নকিব


এম. সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অবশেষে সেনাবাহিনীর তদারকিতে বিতরণ করা হচ্ছে গুচ্ছগ্রামের রেশন সামগ্রী। 

অতীতে রেশন বিতরণে গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা নানা অনিয়ম-দর্নীতি ও আত্মসাতে যুক্ত থাকায় ২০১৮ সালের শেষের দিকে এসব রেশন বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা প্রশাসনকে। 

এরপরও আইন-শৃংখলা মিটিংএ রেশন বিতরণে নানা প্রশ্ন উঠলে পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে সেনাবাহিনীর তদারকিতে গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়।  আর এ সিন্ধান্তকে স্বাগত জানায় গুচ্ছগ্রামের নিরীহ কার্ডধারীরা।  

সরেজমিনে দেখাযায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের তিনটি গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে সেনাবাহিনীর ৩০ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারী মাটিরাঙ্গা জোনের সেনা সদস্যরা তদারকি করছে।  আর গুচ্ছগ্রামের নিরীহ কার্ডধারীরা খুশি তাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত হয়ে।  তাদের দাবী হত-দরিদ্র গরীবদের হক গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণে অব্যহত থাকুক সেনা নজরদারী।  

সূত্রমতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিগত সংঘাত ও শান্তি বাহিনী নামক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের নির্বিচারে হত্যার কারনে বাঙ্গালী পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার বেষ্টনীর ভিতরে নিজ ভিটামাটি ছেড়ে গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দীশালায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে প্রায় দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে।  তাদের জন্য সরকারী মাসিক ৮৪কেজি খয়রাতি চাল অতীতে গুচ্ছগ্রামে প্রকল্প চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরন করা হতো।  এতে করে গুচ্ছগ্রামের কার্ডধারী পরিবারগুলোতে তাদের ন্যায্য পাওনা কখনও পায়নি অমনটাই অভিযোগ রয়েছে সর্বমহলে।  সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীরা নানা তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্প চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে গুচ্ছগ্রামের চাউল আত্মসাতের মাধ্যমে আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে অমন নজিরও রয়েছে শত শত।  কিন্তু বরাবরের মত কার্ডধারীরা হয়েছে বঞ্চিত।  খাদ্যশস্য বিতরণে নানা অনয়িম ও দূর্নীতির ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হলেও কখনো অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।  সবশেষ রেশন বিতরণে নানা অনিয়মের তথ্য মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়কের দৃষ্টিগোচর হলে জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩টি গুচ্ছগ্রামের সহ¯্রাধিক কার্ডধারীদের মাঝে সেনা তদারকিতে (মার্চ-এপ্রিল-জুন¬) তিন মাসের রেশন সঠিকভাবে পরিমাপ করে বিতরণ করা হয়।  

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৮৮সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।  শুরুর দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল পরিবার গুচ্ছগ্রামের আওতাধীন থাকলেও সময়ের ব্যবধানে গুচ্ছগ্রামের যেমন পরিবর্তন হয়েছে বাস্তবায়িত হয়েছে বিভিন্ন নীতিমালা।  বর্তমানে পার্বত্য এলাকার দরিদ্র শ্রেণীর লোকেরাই গুচ্ছগ্রামের অন্তর্ভুক্ত।  বাংলাদেশ সরকার এ সকল পরিবারের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে লক্ষ্যে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে খাদ্যশস্য প্রদান করে থাকলেও শুধু মাত্র রেশন বিতরণে অনিয়মের কারণে সরকারের কাংখিত লক্ষ্য অর্জণে ব্যর্থ হচ্ছে।  তাই মাটিরাঙ্গার মত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে সেনাবাহিনীর তদারকি ও প্রত্যক্ষ নজরধারী অব্যাহত রাখার দাবী জানিয়েছে রেশনকার্ডধারীরা।