৮:৪৪ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার | | ১১ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

‘মোতাহার মাষ্টার বেঁচে থাকলে ভোলার ইতিহাস ভিন্নভাবে রচিত হতো’

১০ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:০০ পিএম | সাদি


মোঃ আমজাদ হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি :  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষক হয়েও ভোলাবাসির অসাধারণ জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হতে পেরেছেন সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক মোতাহার উদ্দিন মাষ্টার।  যেদিন আমি তার মতো হতে পারবো, সেদিন থেকে আমি নিজেকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি মনে করবো।  ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য থেকে মানুষের ভালবাসায় আর জনসেবার নিরন্তর অবদানে শিক্ষাবিদ মোতাহার উদ্দিন মাষ্টার জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পেরেছিলেন।  আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করবার জন্য জীবনের একটা বিপুল সময় কারাগারে কাটিয়েছেন এবং কারাগারকে বানিয়েছেন দ্বিতীয় সংসার। 

আমাদের সাবেক এমপি মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সুযোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে আজীবন জনগণের সংসারকেই নিজের সংসার জ্ঞান করেছেন।  তাই তো ভোলার মানুষ কোনোদিন মোতাহার মাষ্টারকে ভুলবে না।  ৭ই মার্চের অমর ভাষণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু যেমন রেসকোর্সের ময়দানে স্বাধীনতার দাবীতে সারাবাংলার কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, পেশাজীবী, মেহনতী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন, তাঁর বিশ্বস্ত সহচর মোতাহার মাষ্টারও ভোলার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধে সুসংগঠিত করেছেন। 

আজ মোতাহার মাষ্টার জীবিত থাকলে ভোলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইতিহাস ভিন্নভাবে রচিত হতো।  আমাদের সাবেক এমপি মেজর হাফিজের বাবা ডাঃ আজাহার উদ্দিনও একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন।  কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হঠাৎ করে প্রতিপক্ষ শিবিরে অবস্থান নিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা হারিয়েছিলেন।  একাত্তরের পরাজিত শক্তির ঘৃন্য ষড়যন্ত্রে আমরা সপরিবারে আমাদের জাতির জনককে হারিয়েছি।  একইভাবে হারিয়েছি জাতির জনকের আদর্শের নিউক্লিয়াস সাবেক এমপি মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারকে।  কিংবদন্তি সংসদ সদস্য মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারের ৪৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীর প্রাণঘন স্মরণ সভায় কথাগুলো বলেছেন, লালমোহন-তজুমদ্দিনের বর্তমান জনপ্রিয় সাংসদ দ্বীপবন্ধু আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। 

১০ই জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার সকাল ১১ টায় ভোলার লালমোহনের ঐতিহ্যবাহী জনপদ গজারিয়ার মোতাহার উদ্দিন মাষ্টার স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত মরহুমের বাড়ির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি আবেগঘন বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।  স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লালমোহন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, লালমোহন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমান, গজারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, মোতাহার উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল উদ্দিন প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবু তাইয়্যেব, লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক প্রভাষক রিপন শান, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম শহিদুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ফরাজী, হারুন অর রশিদ বাবুল, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ছালেম হাওলাদার প্রমুখ। 

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাসেল মেহমুদের সঞ্চালনায় মরহুম মোতাহার উদ্দিন মাষ্টার এমপির পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, জামাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন ভুইঁয়া, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তাপস বিন মোতাহার উদ্দিন প্রমুখ।  কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারকে স্মরণ করতে গিয়ে তাঁর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর লালমোহন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বজলুর রহমান বলেন, ছাত্র এবং সহকর্মী হিসেবে আমার সাথে ছিল মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারের দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক।  অসাধারণ মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। 

জনসেবক হিসেবে বলতে গেলে তিনি ছিলেন তাঁর জীবদ্দশার অপ্রতিদ্বন্দ্বি।  বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক।  আমরা যখন উন্নত দেশ ও জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছিলাম, ঠিক তখনি একের পর এক ষড়যন্ত্রে আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি, মোতাহার মাষ্টারকে হারিয়েছি। 

আজকের এই দিনে মোতাহার মাষ্টার যদি জীবিত থাকতেন, আমরা সাহস পেতাম, শক্তি পেতাম।  তিনি পড়তে ভালবাসতেন, পড়াতে ভালবাসতেন।  এমপি মহোদয়ের কাছে আজ আমাদের আবেদন- খুব শীঘ্রই বই এবং শিক্ষাপ্রিয় মোতাহার উদ্দিন মাষ্টারকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা তাঁর নামে একটা সমৃদ্ধ এবং সচ্ছল পাঠাগার চাই।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লালমোহন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, মোতাহার মাষ্টার যেমনি ছিলেন একজন সুবিচারক, তেমনি ছিলেন একজন সুশিক্ষক এবং তেমনি ছিলেন গণমানুষের বন্ধু।  তাঁকে ভোলার মাটি মানুষ ও রাজনৈতিক ইতিহাস কোনো দিন ভুলবে না।