৩:২৩ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার | | ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ভাইকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেল

১৪ মে ২০১৯, ০৫:২২ পিএম | জাহিদ


মো.মেহেদী হাসান, বরগুনা : চাচাতো ভাই মনির প্যাদাকে তানিয়া নামের একটি মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে রুবেল প্যাদা নিজেই ফেঁসে গেল।  ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা গ্রামে।  এ ঘটনার তানিয়া বাদী হয়ে রুবেলের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মামলা করেছে।  এ ঘটনা এলাকায় চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  ঘটনা ঘটেছে সোমবার রাতে। 

জানা গেছে, উপজেলার ছুরিকাটা গ্রামের আলতাফ প্যাদার ছেলে রুবেল প্যাদার সাথে তার চাচাতো ভাই মনির প্যাদার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।  ওই চাচাতো ভাইকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে তানিয়া নামের একটি মেয়েকে ঠিক করে।  রুবেল প্যাদা সোমবার রাতে ওই তানিয়াকে দিয়ে আমতলী থানায় চাচাতো ভাই মনির প্যাদা ও একই এলাকার তোফাজ্জেল বেপারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি নেয়। 

সুযোগ বুঝে তানিয়া ওসি মোঃ আবুল বাশারের কাছে রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পা বেগম তাকে কাজ দেয়ার কথা বলে আটকে অসামাজিক কাজে বাধ্য করছে এবং সাজানো মিথ্যা ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতির কথা স্বীকার করে আসল রহস্য ফাঁস করে দেয়।  পরে তানিয়া আক্তার বাদি হয়ে রুবেল প্যাদা ও চম্পার বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১১/১২ ধারায় মামলা দায়ের করেন।  তাৎক্ষনিক পুলিশ রুবেল প্যাদাকে আটক করে।  মঙ্গলবার পুলিশ তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে।  আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেন তাকে জেল হাজতে পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, রুবেল প্যাদা তার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পা দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের দিয়ে এলাকার পতিতাবৃত্তির ব্যবসা করে আসছে।  তাদের এহেনো অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।  তারা আরো বলেন, রুবেল প্যাদার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পা আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে ভাতের হোটেলের দোকান দেয়।  ভাতের হোটেল ব্যবসার আড়ালে তারা ওই হোটেলে বসেই চালায় অনৈতিক কাজ।  এতে উপজেলা পরিষদ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।  দ্রুত উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে চম্পার হোটেল বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। 

মামলার বাদি তানিয়া আক্তার জানান, আমার বাবা ও মায়ের মৃত্যুর পরে আমি আমতলী জুথি বিউটি পার্লারে কাজ নেই।  এ বছর জানুয়ারী মাসে রুবেল আমাকে ভালো কাজ দেয়ার কথা বলে আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে তার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পার ভাতের হোটেলে নিয়ে আসে।  ওই হোটেলে আমাকে আটকে বিভিন্ন লোকের সাথে অসামাজিক কাজে বাধ্য করে তারা।  আমি তাদের কথার বিরুদ্ধে গেলেই তারা আমার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো। 

সোমবার রাতে রুবেল প্যাদা তার চাচাতো ভাই মনির প্যাদা ও মোঃ তোফাজ্জেল বেপারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করাতে আমাকে থানায় নিয়ে আসে।  আমি সুযোগ বুঝে থানার ওসি স্যারের কাছে রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পা আমাকে আটকে রেখে অসামাজিক কার্যকলাপ করানোর সকল ঘটনা খুলে বলি।  সে আরো জানান, আমি রুবেল ও চম্পার বিচার চাই। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাসরিন সুলতানা বলেন, আসামী রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।  তিনি আরো বলেন, আসামী রুবেল ও তার স্ত্রী চম্পার বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য মামলার বাদী তানিয়া আক্তারকে আদালতে আনা হয়েছে। 

আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, রুবেল প্যাদা তার চাচাতো ভাইকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে তানিয়া নামের একটি মেয়েকে থানায় নিয়ে আসে।  থানায় এসে ওই মেয়েটি রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পা তাকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানো এবং মিথ্যা সাজানো মামলার সকল ঘটনা খুলে বলে।  পরে মেয়েটি নিজেই বাদি হয়ে রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। 


keya