১:০৩ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৮, বুধবার | | ৫ জ্বিলকদ ১৪৩৯


অভিযোগ হলেও আমলে নিচ্ছেনা থানা প্রশাসন

মধুপুরে স্বামীর নির্যাতনের শিকার ঝরনা!

১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:০৩ পিএম | সাদি


হাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইল  প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মধুপুরের শোলাকুড়ী গ্রামে  স্বামীর হতে স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  থানায় অভিযোগ হলেও আমলে নিচ্ছেনা প্রশাসন। 

এ নিয়ে গত ৫ এপ্রিল ২০১৮ইং তারিখে জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকা, দৈনিক টাঙ্গাইল সময়, জাতীয় দৈনিক তথ্যধারা ও অনলাইন সহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও এখন পর্যন্তও থানা প্রশাসন অভিযুক্তদের রিরোদ্ধে আইনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। 

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের শোলাকুড়ী গ্রামের স্বামীর হাতে স্ত্রী ঝরনা বেগম(৫০) এর স্বামী গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা ফকির কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। 

বিয়ের পর তাদের সংসার বেশ সুখেই চলছিল দুই কন্য সন্তানের মা হওয়ার পর থেকেই তার শশুর বাড়ীর লোকজনের কু-পরামর্শে গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা ফকির তার স্ত্রী ঝরনা বেগম কে বিভিন্ন ভাবে শারিরিক মানসিক নির্যাতন করে আসছে।  

ঝরনা বেগম(৫০)সাংবাদিকদের জানান, আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে আমার স্বামী আমাকে না জানিয়ে আমাদের এই শোলাকুড়ী এলাকায় জৌশনি নকরেক নামে এক বিবাহিতা ১ সন্তানের জননী উপজাতি গারো মহিলা কে গোপনে বিয়ে করেন।  তার পর থেকেই আমার স্বামী আমাকে ঐ উপজাতি গারো মহিলা দ্বিতীয় স্ত্রী  আমার স্বামীর দুই ছোট ভাই দুলাল ফকির(৪৯), আলাল ফকির(৪৬) এদের যোগ সাজসে আমাকে বিভিন্ন সময় শারিরিক মানসিক নির্যাতন করতো।  উপজাতি গারো মহিলা বিয়ে করার পর থেকে তার প্রথম স্ত্রী ঝরনা বেগম কে অনেক সময় নামায না পড়ার জন্য ঝগড়া ও মারপিট করতো। 

আহত ঝরনা বেগম আরো জানান, এদের যোগসাজসে আমাকে মেরে ফেলা উদ্দেশ্যে গত ২৯ মার্চ তারিখে আমার স্বামীর পাশেই পীরগাছা এলাকায় বাগান বাড়ী সন্ধ্যায় কাজ করে দেওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে তার স্বামী মদ পান করে নেশাগ্রস্থ অবস্থায়  রাতভর এলোপাথারী বেধডক মারপিট করে। 

এক পর্যায়ে তার স্বামী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ফালা দিয়ে মেলে ফেলতে চাইলে অনেক আকুতি মিনতি করার পর কোন মতে জীবন ভিক্ষা নিয়ে রাত আনুমানিক ২ টার সময় বাগান বাড়ীর পাশের জঙ্গলে পালিয়ে রাত যাপন করে ভোর হওয়ার সাথে সাথেই বাড়ী চলে আসে ।    

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আহত ঝরনা বেগম কে তার দুই মেয়ে ও মেয়ের জামাই তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে বলে স্বজনরা জানান। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা ফকির এর বাড়ীর পড়া প্রতিবেশীরা জানান, গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা ফকির একজন নেশাগ্রস্থ খারাপ প্রকৃতির লোক।  তার স্ত্রী কে মাঝে মধ্যেই নির্যাতন করে।  আর উপজাতি গারো মহিলা বিয়ে করার পর থেকে তার প্রথম স্ত্রী ঝরনা বেগম কে অনেক সময় নামায না পড়ার জন্য ঝগড়া করতো। 

আহত ঝরনা বেগমের স্বজনরা জানান, আমরা কোথায় গেলে বিচার পাব? কারণ আভিযোগ দেওয়ার পরও থানা পুলিশ আসামীদের কোন আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না।  আসামী মোস্তফা ফকির সহ সকলেই অর্থবিত্তবান ও প্রভাবশালী হওয়ায় তারা আসামীদের বিরোদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমিসি করছে।  আমরা ঝরনা বেগমের উপর অমানুসিক নির্যাতনের ঘটনায় উর্দ্ধতন প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবী করছি। 

মোস্তফা ফকিরের বাড়ীর কয়েক মহিলা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানায়, মোস্তফা ফকির যে তার বউকে মারপিট করেছে এটা সঠিক আমরা এ ঘটনায় উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি । 

প্রতিবেশী কয়েক ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা ফকির তার স্ত্রীকে মাঝে মধ্যেই শারিরীক মানসিক পাশবিক নির্যাতন করে।  সে একজন নেশাগ্রস্থ লোক ।  সে ঝরনা বেগম কে রেখে গারো উপজাতি এক বিবাহিত ১ সন্তানের জননীকে বিয়ে করেছে।  তার পর থেকেই তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ভাইদের কু-পরামর্শে তাকে বাড়ী থেকে বিতাড়িত করার লক্ষে তার উপর চলছে নির্যাতন।  মোস্তফা ফকির নেশা করাবস্থায় তার বাগান বাড়ীতে যে তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বেধডক মারপিট করে এক পর্যায়ে প্রাণ ভিক্ষা নিয়ে পালিয়ে আসে।   আমরা এ ঘটনায় মোস্তফা ও তার ভাই সহ সকলের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি। 

শোলাকুড়ী  ইউনিয়রেনর সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনা সঠিক তবে আমরা বিষয়টি আপোষ মীমাংসা করার জন্য চেষ্ঠা করছি।  সংবাদ টি প্রত্রিকায় না দেওয়ার জন্যও  অনুরোধ  করেন তিনি। 

এব্যাপারে শোলাকুড়ী  ইউনিয়রেনর চেয়ারম্যান  আখতার হোসেন বিএ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঝরনা বেগম তার স্বামী দ্বারা নির্যাতনের শিকার ঘটনা সঠিক এ ঘটনায় সঠিক বিচার দাবী করছি। 

এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের আইন সালিশ কেন্দ্রের শাহানা আক্তার সাথে কথা হলে তিনি  জানান, আমারা আহত ঝরনা গেম কে দেখেছি।  এবং কী তাদের এলাকার  কয়েকজনের সাথে ফোনে কথা বলে জেনেছি ঘটনা সঠিক ।  প্রশাসনের কাছে নির্যাতনকারী ঝরনার স্বামী গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা ফকির এর উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে বলেন তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে ঝরনা বেগমের মত আর কোন মেয়েকে স্বামীর হতে নির্যাতনের শিকার না হতে হয়। 

এব্যাপারে অভিযোগ তদন্তকারী মধুপুর থানার এস আই  হুমায়ুন ফরিদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মামলার অগ্রগতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিষয় টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন এনিয়ে আমি আমার ওসি স্যার ও শোলাকুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মীমাংসা করে দিব ভাই এই চেষ্ঠায় আছি।