১২:২৪ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ শাওয়াল ১৪৪০




মেধাবী ছেলের জন্য শীতলক্ষ্যার তীরে স্বপ্ন বুনলেন শ্রীপুরের তমিজ

৩০ মে ২০১৯, ১১:০০ পিএম | জাহিদ


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : লাট সাহেবদের বংশধর।  এক সময় অঢেল সম্পদও ছিলো তাদের।  গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান।  সবই যেন এখন তার সন্তানদের কাছে কিচ্ছা কাহিনির ব্যাখ্যা মাত্র। 

সব হারিয়ে এখন মেধাবী ছেলের স্বপ্ন পূরনে শীতলক্ষ্যার তীরে রাতদিন পরিশ্রম করে আসছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের মৃত রহম আলী লাটের ছেলে বর্গাচাষী তমিজ উদ্দিন (৫০)।  

বড় ছেলে সানোয়ার হোসেন ৫ম ও ৮ম শ্রেনী থেকে জিপিএ ৫ (গোল্ডেন) পেয়েছে।  মেঝো মেয়ে ৬ষ্ট ও ছোট ছেলে ২য় শ্রেনীতে পড়ে।  তমিজ উদ্দিনের  স্বপ্ন তার মেধাবী ছেলে একদিন বড়  সরকারি কর্মকর্তা হবে। 

(৩০ মে) বৃহস্পতিবার সকালে পেলাইদ শীতলক্ষ্যার তীরে বসে কথা হয় তার সাথে। 

বর্গাচাষী তমিজ উদ্দিন জানান, এক সময় তাদের কয়েকশ বিঘা জমি ছিলো।  কালের আবর্তে আজ নিঃস্ব তিনি।  এখন থাকার ভিটাও নেই তার।  ওই গ্রামের মৃত জব্বার আকন্দের ছেলে সমাজসেবক আকতার হোসেন আকন্দের দেয়া ৫ বিঘা জমিসহ নদীর তীর ঘেষে প্রায় ৩০ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেন তিনি।  এসব জনিতে লেবু, কলা, বাদাম, ধান, বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূল আবাদ করেছেন। 

এসকল জমিতে হওয়া ফসলের ৩ ভাগের এক ভাগ মালিকের, ১ ভাগ জমির খরচ ও বাকি অংশ দিয়ে নিজের পরিবারের জন্য ব্যয় করেন তিনি।  একই সাথে তি ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচও আসে সেই টাকা দিয়ে।  যদিও একটু কষ্ট হয় তার।  এ বছর ২ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছেন ।  লেবুর ভালো ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় খুশি তিনি।  

তিনি আরো জানান, সরকারী সহয়তা পেলে তার চাষাবাদে আরো লাভবান হতে পারতেন।  এছাড়াও উপজেলা  কৃষি অফিস যদি তাদের একটু খোঁজ নিতো তবে ফলনও খানিকটা আশানুরূপ হতো বলেও জানান তিনি। 

পেলাইদ গ্রামের সমাজসেবক আকতার হোসেন আকন্দ জানান, তমিজ উদ্দিন বর্গাচাষীদের জন্য রূল মডেল।  তিনি খুবই পরিশ্রমী ও একজন সৎ কৃষক।  তার মেধাবী ছেলের ভবিষ্যতের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করেন তিনি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মুয়ীদুল হাসান জানান, তমিজ উদ্দিন নিঃসন্দেহে একজন আদর্শ কৃষক।  তার চাষাবাদের জমির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে।  কেননা কৃষি অফিস সবসময়ই তাদের মতো কৃষকদের পাশে আছে।