১১:২৯ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

মান্দায় শিক্ষক নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাত

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৫:৪১ পিএম | জাহিদ


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দা উপজেলার ‘ছোটমুল্লুক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। 

একই পদে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে গোপনে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি গোলাম রাব্বানী টাকা নিলেও আজ অবধি তিনি কাউকে টাকা ফেরত দেননি।  ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত না পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন। 

এছাড়া গোলাম রাব্বানীকে পুনরায় গোপনে সভাপতি নির্বাচিত করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন পারয়াতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী। 

জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক পদে হিমাংশু কুমার সরকার, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিনসহ একাধিক প্রার্থী আবেদন করেন। 

এছাড়া অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক পদেও একাধিক প্রার্থী আবেদন করেন।  শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার নাম করে একই পদে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে গোপনে সভাপতি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  যেসব প্রার্থীদের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন তাদেরকে ফাঁকা চেক দিয়েছেন। 

শিক্ষক নিয়োগের পরও সভাপতি অন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা আজ অবধি ফেরত দেননি।  ভুক্তভোগীরা টাকা চাইলে সভাপতি তালতাবহনা করেন।  দীর্ঘদিনে টাকা ফেরত না দেয়ায় ভূক্তভোগীরা মামলা করেছেন।  ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন সভাপতি গোলাম রাব্বানী। 

এলাকাবাসীদের অভিযোগ গোলাম রাব্বানী প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের কোন উন্নয়ন হয়নি এবং চাকুরি দেয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  এছাড়া নাসির উদ্দিনকে প্রধান শিক্ষক করায় সে চেক মামলার আসামী সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে পুনরায় সভাপতি প্রতিষ্ঠানের করার পায়তারা করছেন। 

উপজেলার মশিদপুর গ্রামের ভুক্তভোগী প্রার্থী হিমাংশু কুমার সরকার বলেন, ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিবে মর্মে সভাপতি গোলাম রাব্বানী ২০১৫ সালে সাড়ে ৮লাখ টাকা নিয়েছে।  আর টাকা দেয়ার সময় তিনি নওগাঁ যমুনা ব্যাংক শাখার একটি ব্ল্যাঙ্ক চেকও দিয়েছেন।  কিন্তু আরো বেশি টাকা নিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।  ওই টাকা ফেরত চাইলে দিচ্ছি দিবো বলে সময় ক্ষেপন করে।  অবশেষে ২০১৬ সালে নওগাঁ মান্দা কোর্টে মামলা করি। 

ছোটমুল্লুক গ্রামের ভুক্তভোগী শ্রী মিঠু বলেন, হিন্দু ধর্ম শিক্ষা পদে ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে ছয়জন আবেদন করি।  পরীক্ষার একদিন পর ফলাফল ঘোষণা করেন।  পূর্বে আমি সভাপতিকে ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম।  বিনিময়ে তিনি মান্দা দেলুয়াবাড়ী জনতা ব্যাংক শাখা ও পূবালী ব্যাংক শাখার দুটি চেক দিয়েছিলেন।  কিন্তু অপরজনকে প্রায় ১২ লাখ টাকায় নিয়োগ দেন।  আমি সভাপতির কাছে পাওনা টাকা চাইলে বিভিন্ন তালবাহনা করেন।  অবশেষে আদালতে মামলা করলে একটি চেকের রায় হয় এবং আরেকটি ঝুঁলে আছে। 

স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী কহিম উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোলাম রাব্বানী সভাপতি হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হয়নি।  বিভিন্ন অনিয়ম করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছেন।  শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিবে মর্মে প্রায় ১২-১৫ জনের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন।  পুনরায় গোপনে তাকে সভাপতি করার জন্য পায়তারা করা হচ্ছে।  সে সভাপতি হলে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ঠিক আছে।  কিছু সুবিধাবাদী চক্র আমার কাছে সুবিধা না পেয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে।  এছাড়া কাউকে সভাপতি করার এখতিয়ার আমার নেই।  আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তীহিন। 

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর মুঠোফোন (০১৭৫০-৩৬৭০০১) বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা আছে শুনেছি।  তবে কোন কাগজপত্র এখনো পাইনি।  আরেকটি বিষয় হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের কমিটির সদস্যরা সভাপতি নির্বাচন করবে।  যদি কোন অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে শিক্ষা বোর্ড ওই নির্বাচন বাতিল করবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।  অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।