১১:৪৪ এএম, ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

মানবিজ থেকে সরে যাচ্ছে কুর্দিরা

০৬ জুন ২০১৮, ০৯:২৯ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর মানবিজ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুর্দি বিদ্রোহীরা। 

অন্যদিকে রাক্কা শহরে মার্কিন জোটের বিমান হামলার কারণে সাধারণ মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে, এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল।  আর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, সিরিয়ার সাধারণ জনগণকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এবার মনযোগী হবে রাশিয়া। 

সিরিয়ার আফরিনে তীব্র সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কুর্দি বিদ্রোহীদের নির্মূল করেছিল তুরস্কের সেনাবাহিনী।  এরপর আরেকটি কুর্দি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা, মানজিবেও অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান।  তবে সোমবার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দেয় তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র। 

এরপরই মঙ্গলবার, মানজিব থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহীগোষ্ঠী ওয়াই.পি.জি।  এর মাধ্যমে ওই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। 

তুরস্কের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক সেলকুক কোলাকৌগলু বলেন, ‘মানজিবের সঙ্কট ভিন্ন পন্থায় সমাধানে, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা সবচেয়ে ভালো উপায়।  এছাড়া এর মাধ্যমে মার্কিন এবং তুর্কি প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাস আরো বাড়বে বলে, আমি মনে করি। ’

রাক্কায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মার্কিন জোটের সামরিক অভিযানের সময় সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল।  একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে, মার্কিন জোটের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধেরও অভিযোগ আনা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক বেঞ্জামিন ওয়ালসবে বলেন, ‘মার্কিন জোটের অভিযানে সময় রাক্কায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।  অনেকেই নিজ বাড়ি থেকে উদ্বাস্তু হয়েছেন।  জোটের উচিত এর তদন্ত করা।  অপরাধের বিষয়ে তারা যদি স্বপক্ষে কোন প্রামাণ হাজির করতে না পারে, তাহলে অবশ্যই তাদের অভিযুক্ত করা উচিত। ’

তবে এসব অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পেন্টাগন।  তাদের দাবি, রাক্কায় কেবলমাত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে। 

মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্নেল সেন রায়ান বলেন, ‘শত্রুর বিরুদ্ধে আমরা রাক্কায় অভিযান চালিয়েছি।  অভিযানের সময় সাধারণ মানুষের কিছু ক্ষতি হবে এটাই স্বাভাবিক।  তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি, সাধারণ বাসিন্দারা যাতে নিরাপদ থাকেন। ’

এদিকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে সিরীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তার পাশাপাশি, দেশটির পুন:র্গঠনে মনযোগ দেওয়া হবে বলে জানয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।  মঙ্গলবার অষ্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর, যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। 

পুতিন বলেন, ‘সিরিয়ার মানুষদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে।  বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া সিরীয়রা যেন, আবারো নিজ দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে, সেজন্য রাশিয়া সাহায্য করবে।  আমরা চাই সিরিয়ার সাধারণ মানুষ যেন আবারো আগের মতো শান্তিতে বাঁচতে পারে। ’

একইসঙ্গে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, সিরীয় সেনাবাহিনীকে দেওয়া সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।