১১:৪২ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

মানবতার ধর্ম ইসলামের প্রমাণ

২৩ আগস্ট ২০১৭, ১২:৫৩ এএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : আমার কোলে যাকে দেখছেন, সে আমার কেউ নয়।  নয় মুসলিম পরিবারের সন্তানও।  কিংবা আমার প্রতিবেশী বিধর্মীও নয় সে।  রূপের রাণী খ্যাত রাঙ্গমাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এক উপজাতী চাকমা পরিবারের অবুঝ সন্তান সে। 

সে জানেনা ভূগর্ভে  বিলিন হয়েগেছে তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল।  তার সাধের পুতুল খেলার স্থানেরও শেষ রক্ষা হলোনা।  সর্বস্ব হারিয়ে তার পরিবার এখন সরকারি দালানে।  হয়তো সে মনে মনে ভাবছে যাক বাবা বাঁচা গেল কুটির হারিয়ে দালান পেলাম! কিন্তু সে তো জানেনা তাকে যে চলে যেতে হবে চিরচেনা তার অচেনা বাসে।  যেখানে মিশে আছে তার হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা।  হয়তো সে চিনবেও না তার জন্মভূমি। 

শিল্পীর আঁকা অপরূপ সাজে সজ্জিত তার বাড়ির আঙ্গিনায় সে অপরিচিত একজন।  সম্প্রতি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ফুটন্ত ফুলের আসর কর্তৃক গত ২o জুন বিকেলে রাঙ্গামাটি টিভি সেন্টারে ত্রাণ সামগ্রী ও ঈদবস্ত্র বিতরণকালে ত্রান গ্রহণে সবাই যখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো এই শিশুটিও লাইনে অপেক্ষায় ছিল তার ভাগের নতুন কাপড় গ্রহণে।  তার দিকে একপলক দেখতেই মায়া লাগলো।  লাইনের মাঝখান থেকে টেনে সোজা নিলাম বুকে! জড়িয়ে ধরলাম সুখে। 

বিলেত ফেরত বাবা প্লেইন থেকে নেমেই তার সন্তানকে বিমানবন্দরে যেভাবে স্নেহেরপরশে গ্রহণ করে ঠিক সেভাবেই।  কি এক অজানা মায়ার বন্ধনে আবন্ধ হলাম জানিনা।  একহাতে নতুন কাপড় অন্যহাতে মজাদার খাবার পেয়ে তার অন্তরে যেন গগনস্পর্শী আনন্দ।  স্নেহের পরশে সিক্ত হলো সে! ছেলের প্রতি এমন ভালবাসা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারলোনা উপজাতি 'মা'।  দূর থেকে ছুটে এসে অবাকনয়নে তাকিয়ে রইল আমার দিকে।  কিছুক্ষণ পর চলে গেলেন।  হয়তো সে মনে মনে ভাবলেন, আমি একজন মুসলিম হয়ে কীভাবে একটি উপজাতী চাকমা শিশুকে এমনভাবে স্নেহভরে গ্রহণ করলাম? তারওপর আবার আমি একগাল দাঁড়িওয়ালা পাঞ্জাবি গায়ে হুজুরের অবয়ব। 

তার মনে গহিনে হয়তো প্রশ্ন ছিল, আমি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী আতঙ্কের নাম জঙ্গি কিনা? কিংবা মাথা বিক্রি বা ছবি দেখিয়ে ফায়দা লুটা কোন এনজিও কর্মী কিনা? নাকি নির্বাচন নির্ভর মানবতা পুজারী?  না না, না বোন, আমি এরকম কেউ নয়।  নয় রাষ্ট্রের ক্ষমতার অংশীদার।  রাষ্ট্রিয় খরচে মানবতার গান গায়তে আসিনি। 

আমি কর্মময় ধর্ম ইসলামের অনুসারী।  মানবতার পাশে দাঁড়ানোই আমার কাজ।  কারণ মানবতার ধর্ম ইসলাম।  একমাত্র ইসলামই মানুষের সঠিক অধিকার প্রদানে সচেষ্ট।  বিপদে সহযোগিতা করা এটা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং বিপদগ্রস্তদের সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার ধর্মগ্রন্থ দ্বারা স্বীকৃত। 

নবী মোস্তফা (দ.)'র পথরুদ্ধ করে কষ্ট দিতে যে বুড়ি প্রতিদিন প্রিয় রসুলের চলাচলের পথে কাঁটা বিছিয়ে দিত সে বুড়ির সাথে মরুর দুলাল (দ.)'র কি আচরণ ছিল তা সর্বজন বিদিত।  যে ব্যাক্তি নবী মোস্তফা (দ.) কে হত্যা করার জন্য খুঁজতে খুঁজতে না চিনে প্রিয় নবী (দ.)'র ঘরেই রাতে আশ্রয় গ্রহণ করল আবার মাঝরাতে ঘুমের ঘোরে বিছানায় মলত্যাগ করে লজ্জায় পালিয়ে যাওয়া বৃদ্ধের সাথে রহমতুলল্লি আলামিনের ভালবাসাপূর্ণ আলাপন বিশ্ববাসীকে শত্রুর প্রতি আচরণের শিক্ষা দেয়। 

আমিরুল মুমেনিন ফারুকে আজম খেলাফতে আরোহণের সময় ঘোষণা দিয়েছেন "আমার শাসনামলে যদি একটি কুকুরও বিনা কারণে মারা যায় তার দায়ভারও আমি ওমর ফারুকের উপর থাকবে"।  এই ঘোষণা প্রত্যেক জীবের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।   কাফের কর্তৃক মুসলমানরা কূপ থেকে পানি নিতে বাধাপ্রাপ্ত হলে নবী মুহাম্মদ (দ.)'র আহবানে সাড়া নিয়ে ওসমান জুন্নুরায়িন চড়াদামে ঐ কূপ ক্রয় করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, "হে কাফেররা তোমরাও এই কূপ থেকে পানি নিয়ে যাও, এটা সবার জন্য উম্মুক্ত।  এই ঘোষণা মুসলমানদের উদারহৃদয়ের বার্তা বহন করে।  যে উদারতার  ইতিহাস মানব হূদয়ে সমাসীন।  আমরা তো সেই নবীর উম্মত যিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন,

"মুসলমানদের রক্ত ও সম্পদের মত কাফেরদের রক্ত ও সম্পদ পবিত্র"।  যা কাফেরদের অধিকারের বার্তা বয়ে আনে। 

হে উপজাতি বোন, অবাক হওয়ার কিছুই নেই আমরা হযরত ওমর ফারুক (র.) ও ওসমান জুন্নুরায়িন (র.)'র উত্তরসূরি।  আপনার সন্তানের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের ধরণে কোন কৃত্রিমতা নেই, নেই কোন লোকদেখানো অভিনয়ের লেশমাত্র।  এইতো বংশপরম্পরায় পাওয়া শিক্ষা।  ইসলাম আমাদের এভাবেই শিখিয়েছে মানবতার সেবা কীভাবে করতে হয়।  আমরা তো জগতগুরু মুহাম্মদ (দ.)'র প্রতি পূর্ণ ভালবাসা ও যথাযথ সম্মান রাখা সত্যিকারের মানবাধিকার কর্মী।  আমরা মঞ্চে ও টকশোতে মানবাধিকারের বুলি ফাটিয়ে নিজেরাই মানবাধিকার লংঘনের মত দুঃসাহসি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নয়। 

সবার প্রতি ভালবাসার দৃষ্টিভঙ্গি কালামে হাকিম দ্বারা স্বীকৃত।  আপনার শিশুর প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালবাসা এটাতো ইসলামের শিক্ষার ফল।  আপনার সন্তানের প্রতি আমার আচরণ হলো মানবতার ধর্ম ইসলামের উৎকৃষ্ট প্রমাণ।  হে উপজাতী বোন, মনে রাখবেন এদেশে সুন্নী রাজ কায়েম হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন আপনারা যারা ভিন্নধর্মাবলম্বী।  আপনাদের পূর্ণ অধিকার বাস্তবায়ন হবে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা হলে। 

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লিখিত সংবিধান মদিনার সনদে আপনাদেরকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।  পরিশেষে আপনাদের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে আবারো হাতে ধরা দিক, এইরকম ভয়াল পরিস্থিতির আর যেন পূনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সৃষ্টি কর্তার নিকট আরজি জানাচ্ছি।  সবাই বিপদমুক্ত থাকুক, মালিকে খায়েনাত যেন সবার সহায় হন এবং উচ্চ শির নবী মুহাম্মদ (দ.)'র আলোয় জগতের সব কলো দূর হোক।  এই কামনায়।  জয় হোক মানবতার, জয় হোক সুন্নিয়তের ...। 

লেখক, কবি ও প্রাবন্ধিক
 এম সাইফুল ইসলাম নেজামী