১০:২৩ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার | | ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

মানুষ প্রেরণার বাতিঘর ছাতকে এক জ্বলন্ত প্রদীপ

১২ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:৪৭ পিএম | মুন্না


আনোয়ার হোসেন রনি : কবি লুৎফা বেগম লিলি শুধু একটি মাত্র নাম নয়’ একটি আন্দোলন প্রতিবাদী সফল অগ্রপথিক, মানুষ গড়ার কারিগর, মানুষ প্রেরনার বাতিঘর।  সুশীল সমাজ থেকে সাধারন জনগনের কাছে জনপ্রিয় আদর্শের এক জ্বলন্ত প্রদীপ তিনি।  তার মুল্যবোধ দেশপ্রেম ও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখে আসছেন। 

দেশপ্রেম তাকে একনিষ্টতা, কাজে প্রতি অনুরাগ, মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে করেছে আলোকিত ব্যক্তিত্ব।  তিনি ছিলেন মানুষ গড়ার পাঠশালায় সফল শিক্ষক ও একজন আদর্শ উস্তাদ।  তার শিক্ষকতা জীবন পর্যালোচনা করলে দেখতে পাওয়া যায় তার মেধা, শ্রম ও সৃজনশীল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন কবি লুৎফা বেগম লিলি। 

তার জন্ম বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে পল্লী চিকিৎসক শিক্ষানুরাগী ডাঃ তৈয়বুর রহমানের কন্যা অসহায় গনমানুষের কবি লুৎফা বেগম লিলি।  তার জন্ম ১৯৭০সালের ২১জানুয়ারী।  তার মা ছিলেন সাধারন গৃহিনী মানিকা বিবি ও বাবা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলা থেকে ১৯৬২সালে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে অবস্থান করছেন।  সেখানে কবি লুৎফা বেগম মা ও বাবার আদরে বড় হয়েছিলেন।  শিক্ষাজীবন- বিশ্বনাথ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। 

৫মশ্রেনী পাশ করে একই উপজেলার হাজী মাফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেনীতে ভর্তি হন।  এখান থেকে ১৯৮৫সালে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করেন।  পরে বিশ্বনাথ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।  কর্মজীবন- ১৯৮৮সালের ৭মার্চ প্রাইমারি শিক্ষা অধিদপ্তরে সহকারি শিক্ষিকা পদে চাকুরি হবার পর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে তিনি দূরে সরে পড়েন।  এছাড়া শিক্ষকতার পাশাপাশি কবিতা ছড়া ও গান লেখা লিখে অবসর সময় কাটান। 

প্রথমে বিশ্বনাথ উপজেলার কাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন।  কর্মস্থল- কাসিমপুর, মিরের চক, আল এমাদ, দুহাল ও রামপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত অবস্থায় তার বিবাহ হয়েছিল।   বিবাহ জনিত কারনে সিলেট থেকে বদলী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলাধীন সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।  পরে জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বদলী হয়ে যান। 

বিবাহ- ১৯৯৩সালের ১৭ফেরুয়ারী ছাতক উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মী ফারুক আহমদের সাথে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  পরিবার-পরিজন- কবি লুৎফা বেগম লিলির এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী।  পুত্র ছালেহ আহমদ-মোনায়েম সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি অনার্সে লেখা পড়া করছেন। 

কন্যা ফাতেমা আহমদ-তুলি ২০১৬সালে সিলেট স্কালার্স হোম এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।  সে এখন সিলেটের সেরা বিদ্যাপীট মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে।  তার পুত্র ও কন্যা সন্তানরা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেছে।  তার কন্যা তুলি উচ্চ মানেন একজন আর্ট শিল্পী।  কবিতা, ছড়া ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চমৎকার আবৃত্তি শ্রোতাদের নজর কাড়ে।  সমাজসেবা- কবি লুৎফা বেগম লিলি চাকুরি জীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে সমাজ সংস্কারমূলক কবিতা ও ছড়া লিখে যাচ্ছন। 

সিলেটের বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডায় সুপরিচিত একটি আলোকিত নাম।  সবার কাছে তিনি লিলি নামেই পরিচিতি লাভ করেছেন।  চাকুরির পাশাপাশি সাহিত্য আড্ডায় সত্রিুয়ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।  লিলি যৌতুক বিরোধী, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধসহ অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠ। 

প্রায় কয়েক যূগ ধরে সাহিত্য চর্চা করে কয়েক শ’ কবিতা, ছড়া ও গান লিখেছেন।  তার লেখাগুলো উড়াল প্রকাশ ও সপ্তডিঙ্গা প্রকাশনা সুনামগঞ্জ পৌর শপিং সেন্টারের ২য় তলা থেকে ‘পরিবর্তন’ নামে কবিতা বই প্রকাশ করা হয়েছে।  ৪৮পৃষ্টার এ বইয়ে লেখিকার ৪৭টি কবিতা স্থান পেয়েছে।  তার প্রকাশনায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও জাতীয় অনুসন্ধানী লেখক ছাতক প্রেসকাবের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি। 

লেখিকার ভুমিকা ‘রনি’ নাম উল্লেখ করেছেন।  তার কবিতার শিরোনাম হচ্ছে, সিলেটের মাটিতে, সবাই ভালোবাসে, সুন্দর পৃথিবী, মিলন মেলায়, দুঃখ বেশ দামী, ফুল হবো মানচিত্রে, বলাক ডায়মন্ড, কে বলেছে, তুমি কি ভুলে গেছ, পরিবর্তন, মনের চোখেতে, বাবা তুমি, মাগো তুমি, তোমরা দেবে কি? সুমসাম, বন্ধু তুমি, কেমুসাস বই মেলায়, চকটেল, আঙ্গুর টক ফল, চোখের মণি, ভেঙ্গে পড়োনা, জীবন জীব, হীরের টুকরো, সময় খুজে পাইনা, কচি সোনা মুখ, হৃদয়ের গোলাফ, প্রেম মানে বিষ, আমার আকাশে, ভোর থেকে রাত, হীরা, সোনামণিদের জালালপুর স্কুল, হে দয়াময়, আমি পরাজিত, বার বার ফিরে আসে ও প্রেমের শেকলেসহ ৪৭টি শিরোনামে দিয়ে কবিতার বইটি প্রকাশিত হয়।  পরিবর্তন নামে সিলেটে একটি সাহিত্য সংগঠন গঠন করা হয়।  তিনি জাতিয় কাব্য কথা সাহিত্য পরিষদ থেকে জয় বাংলা পদক পেয়েছেন।