৪:৩৬ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


মুন্সীগঞ্জে সরকারি জমির মাটি কেটে লুটপাট

১৭ মে ২০১৮, ০৬:০১ পিএম | সাদি


শুভ ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার সুধারচর এলাকার ইছামতি নদীর পাড়ে চলছে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলি জমি কেটে নিয়ে যাওয়ার উৎসব। 

মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রের লোকজন এই মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে স্থানীয় ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে।  চলতি মাসের শুরু থেকে অন্তত আড়াইশ শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে ধর্মগঞ্জের জাজিরা ইটভাটায় এ মাটি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেশকিছু শ্রমিকরা।  মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ বাধা দিতে পারছে না।  ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ও ফসলি জমি ধ্বংসের পাশাপাশি নদীপাড়ের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো হুমকির মুখে পড়েছে ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন ভোর রাত ৪টার দিকে ধর্মগঞ্জের জাজিরা এলাকার প্রায় ২ থেকে আড়াইশ শ্রমিক সুধারচর এলাকার সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ফসলি জমি কাটা শুরু করে।  লোক সমাগম হওয়ার আগেই সকাল ৮টার দিকে তারা ট্রলারে মাটি ভরে চলে যায়। 

ট্রলার প্রতি ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে মাটি বিক্রি করে প্রতিবার পাচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।  এভাবে প্রতিদিন সরকারি জমির মাটি লুটপাট করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

এলাকার স্থানীয় কতিপয় কিছু ভূমি দস্যু মিরকাদিম পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম শাহীন এর লোক হিসেবে পরিচিত চুন্নু, মনির, সুমন, সোহাগ, শাহজাহান, পাবেল, কামাল মৃধা, আল আমিন, শামীম এই মাটি বিক্রি কাজের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। 

ইটভাটার শ্রমিক সর্দার কাইয়ুম বলেন, এই জমি সরকারি না ব্যক্তি মালিকানাধীন তা আমাদের জানা নেই।  মেয়রের লোকজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময় এসব জমির মাটি কেটে নিচ্ছি আমরা। 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর অ্যাসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।  অ্যাসিল্যান্ড সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির জাহান জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।  তবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।  এ ঘটনায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না।  তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রের লোকজন।  যারা সরকারি স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটাবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।  কে বা কারা সরকারি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এই বিষয়ে আমার জানা নেই আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।  এটা আমার জন্য লজ্জা জনক বিষয়।