২:০৫ এএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




মুরগির দাম বেড়েছে, ডিম আর সবজিতে স্বস্তি

২৪ মে ২০১৯, ০৪:৪৬ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ডিম ও বেশিরভাগ সবজির দাম।  তবে দাম বেড়েছে বয়লার ও লাল লেয়ার মুরগির।  কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে মুরগি।  একইসঙ্গে দুদিন আগে উত্তাপ ছড়ানো বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।  সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে কমেছে ১০ টাকার ওপরে।  

শুক্রবার (২৪ মে) রাজধানীর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজার, কারওয়ান বাজার, শ্যামলী সমবায় বাজার, আদাবর এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। 

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা বয়লার মুরগি কেজি বিক্রি করছেন ১৫৫-১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০-১৫৫ টাকা।  আর লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-১৯০ টাকা। 

মুরগির দামের বিষয়ে কৃষি মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী আলমগীর কবির ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আজ মুরগির দাম অনেক বেশি।  যে লাল লেয়ার মুরগি গত সপ্তাহে ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, তা আজ ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।  আর গত সপ্তাহে বয়লার মুরগির দাম ছিল ১৫০ টাকা, তা আজ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। ’

রোজা শুরুর দিকে ডিমের দাম কিছুটা কমেছিল।  এরপর গত সপ্তাহে কিছুটা বাড়ে।  তবে চলতি সপ্তাহে ডিমের দাম আবার কমেছে।  গত সপ্তাহে এক ডজন ডিম ৯০ টাকা বিক্রি করেছি।  আজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।  প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা।  আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে।  আর আদা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে।  যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকা দরে। 

এছাড়া দু’দিন আগে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বেগুনের দাম কমেছে।  বাজার ও মানভেদে ভালোমানের প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।  যা গত দু’দিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।  সে হিসাবে প্রতিকেজি বেগুনের দাম কমেছে ২০ টাকা। 

এদিকে, গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি।  এখন বেগুন বাদে সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে।  মান ও বাজার ভেদে প্রতিকেজি আলু ২০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৫০, কাঁকরোল ৫০ টাকা, ধুনদুল ৫০ টাকা, এছাড়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে, শশা ৪০ টাকা, গাঁজর ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, লেবু হালি মান ভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা।  এছাড়া আর কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। 

এছাড়া সজনে ডাটা ৫০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  প্রতি আঁটি লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাল শাক, পালং শাক ১০ থেকে ২০ টাকা, পুঁইশাক ও ডাটাশাক ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও অন্যান্য মুদি পণ্য।  বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল চালের দাম ৫৮ থেকে ৬০ টাকা।  মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ নম্বর ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  

এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাউয়ের চাল ৯০ থেকে ৯৫।  প্রতি কেজি খোলা আটা ২৭ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, খোলা ময়দা ২৮ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা।  প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।  

স্থিতিশীল রয়েছে ডিমের দাম।  শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকায়।  মুদি দোকানে ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়। 

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া মাছের দাম এখনও বেশ চড়া রয়েছে।  তেলাপিয়া মাছ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি।  পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজি দসে।  রুই ২৮০-৬০০, পাবদা ৬০০- ৭০০, টেংরা ৫০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা কেজি দরে।