৮:৪৩ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৯, রোববার | | ১৫ শা'বান ১৪৪০




মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন নওগাঁর কৃষকরা

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:২১ পিএম | জাহিদ


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি : ঠাঠা বরেন্দ্র ভূমিতে পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর, বদলগাছী, ধামইরহাট, নওগাঁ সদরসহ নওগাঁয় মাল্টা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত দুই বছরে প্রায় একশ’ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান গড়ে উঠেছে।  এ দিকে মাল্টা চাষিরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।  মাল্টা চাষে লাভ হলে আগামিতে ঠাঠা বরেন্দ্র ভূমিতে মাল্টা চাষের বিপ্লব হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বদলগাছী হর্টিকালচার সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম চাহিদা সম্পন্ন মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটানো ও বিদেশ থেকে আমদানির চাপ কমাতে হর্টিকালচারে ২০১৫ সাল থেকে বারি-১ জাতের মাল্টার গাছ তৈরী শুরু হয়।  ইত্যেমধ্যে তিন হাজার চারা বিক্রি করা হয়েছে।  হর্টিকালচারে সহযোগিতায় জেলায় গত তিন বছরে একশ’টি মাল্টার প্রদর্শণীয় প্লট তৈরী করা হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা  গেছে, পানির স্তর নীচে হওয়ায় বর্ষ মৌসুমে ধানের আবাদ ছাড়া তেমন কোন ফসল চাষ হয় না ঠাঠা বরেন্দ্র ভূমি পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর, বদলগাছী উপজেলায়।  বছরের অধিকাংশ সময় পতিত থাকা জমিতে কৃষকরা গড়ে তোলেন আম বাগান।  আমে অনেক সময় লোকসান হওয়ায় আমের পরিবর্তে অন্যান্যে ফসল চাষের চিন্তা শুরু করেন কৃষকরা।  এমতাবস্তায় টেলিভিশনে মাল্টা চাষের প্রতিবেদন দেখে দেড় বছরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। 

পোরশা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের ওবাইদুল্লাহ শাহ জানান, আম বাগানের পাশাপাশি বারি-১ জাতের ৬শ’টি মাল্টা গাছ লাগান।  ৬শ’টি গাছের মধ্যে ২শ’টি গাছে মাল্টা ধরেছে।  ২শ’টি গাছে প্রায় ৩০ থেকে ৭০টি করে মাল্টা ধরেছে।  মাল্টা বিক্রি করে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন মাল্টা চাষি। 

পোরশা উপজেলার ছাউল গ্রামের আবু বক্কর মন্ডল জানান, দুই বছর আগে মাল্টা চাষে করতে প্রথমে মাটি খনন করে বিভিন্ন সার মিশ্রণ করে এক মাস রেখে দেয়ার পর ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আম বাগানের মধ্যে ৭শ’ টি চারা আমের বাগানে এনে লাগান।  এর মধ্যে ভিয়েতনাম দেশের ৫শ’ এবং বাঁকি ২শ’টি বারি-১ জাতের মাল্টা ফলের গাছ লাগান।  প্রায় ৪শ’টি মাল্টা গাছে মাল্টা ধরেছে।  বারি-১ জাতের চেয়ে ভিয়েতনাম দেশের মাল্টার ফল তুলনামূলক বড় এবং মিষ্টি।  গত কয়েক মাস আগে মাল্টা গাছের পাতা পচে কুঁকড়ে মরে যাচ্ছিল।  কৃষি বিভাগকে জানালে তারা পাতা নিয়ে যায়।  এরপর তারা কোন প্রতিকার দেয়নি বা কোন সহযোগিতা করেনি। 

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান, কৃষি বিভাগ থেকে দেড় বছর আগে উপজেলায় কৃষদের মাঝে মাল্টার ২০টি প্রদশনীয় প্লট তৈরী করা হয়।  ওই প্রদর্শনীয় প্লট দেখে এলাকার অনেক কৃষক মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।  গত দেড় বছরে উপজেলায় ৫০ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান গড়ে উঠেছে।  আগামীতে মাল্টা চাষে কৃষকদের আরো উদ্বুদ্ধ করা হবে। 

মাল্টা চাষিরা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মাহফুজ আলম বলেন, কৃষি বিভাগে জনবল সংকট থাকায় হয়তো অনেক সময় শতভাগ সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।  তবে চাহিদা মোতাবেক জনবল থাকলে শতভাগ সেবা দেয়া সম্ভব বলে জাননা তিনি। 

বদলগাছী হর্টিকালচারে সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ব বিদ আ.ন.ম. আনারুল হাসান জানান, মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটানো ও বিদেশ থেকে আমদানির চাপ কমাতে মাল্টা-১ জাতের তিন হাজার গাছ বিক্রি করা হয়েছে।  জেলায় গত তিন বছরে একশ’টি মাল্টার প্রদর্শণীয় প্লট তৈরী করা হয়েছে।  প্রতি প্লটে মাল্টার গাছ লাগানো হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫টি।  প্রায় ৯৫টিই গাছই বেঁচে রয়েছে।  জেলার মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা মাল্টা-১ জাতের ফল মিষ্টি।  টক হওয়ার কোন সুযোগ নেই।  তিনি আরো জানান, জেলায় মাল্টা চাষের বিপ্লব ঘটানো পরিকল্পনা রয়েছে।  একারণেই হর্টিকালচার কাজ করে যাচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক জানান, পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর, মহাদেবপুর, বদলগাছী, ধামইরহাট ঠাঠা বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত।  এই উপজেলাগুলোর মধ্যে পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুরের অধিকাংশ জমিতে আমন ধান ছাড়া অন্য কোন ফসল উৎপাদন হয় না।  এ কারণে আম বাগান গড়ে তুলছেন।  কম পানি চাহিদা সম্পন্ন মাল্টা চাষে বর্তমানে জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে বিশেষ করে পোরশা, সাপাহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।  ইত্যেমধ্যে জেলায় একশ’ বিঘারও উপর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান জানান, মাল্টা চাষ জেলায় অপারসম্ভাময় থাকায় কৃষি বিভাগকে মাল্টা চাষিদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  গত বছর দুইয়ের মধ্যে যে ভাবে মাল্টা চাষ করা শুরু হয়েছে।  এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মাল্টা চাষে নওগাঁয় বিপ্লব ঘটানো যাবে।  এতে বিদেশ থেকে মাল্টা আমদানি করার প্রয়োজন হবে না।