১১:৩৪ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


মৌলভীবাজারে নাবালিকা মেয়েকে অপহরন

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:২৯ পিএম | সাদি


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার খাস মহল গ্রামের নাবালিকা মেয়েকে অপহরনের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এলাকার প্রভাবশালীদের চাপে আইনের আশ্রয় নিতে পারছে না বাবা-মা।  উক্ত ঘটনাটি ঘটেছে গত (১০ ফেব্রুয়ারী) শনিবার উত্তরভাগ ইউনিয়নের খাশ মহল গ্রামের মরম আলীর বাড়িতে।  দিন দুপুরে তার বাড়ি থেকে তার মেয়েকে অপহরন করা হয়। 

সরেজমিনে গেলে মরম আলীর স্ত্রী বুলু বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, একি ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের গেন্দু মিয়ার ছেলে ফয়ছল মিয়া(১৭) প্রায় সময় মোবাইল ফোনে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো।  এবং মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে জোর করে ঘরে ঢোকে শুয়ে পড়ে।  আমার পরিবারে দিনের বেলা কোনো পুরুষ থাকতো না।  আমার এক ছেলে সে কাজের জন্য বাহিরে চলে যায় ।  আমি আর আমার মেয়ে ঘরে থাকতে হয় একা।  এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফয়ছল প্রতিনিয়ত আমার ঘরে এসে শুয়ে পড়তো। 

ঘটনার দিন আমি আমার মেয়েকে বাড়িতে রেখে অন্য বাড়িতে কিস্তি দিতে চলে যাই।  সেই সুযোগে ফয়ছল আমার বাড়িতে আসে।  আমি বাড়িতে এসে দেখি  ফয়ছল আমার ঘরে শুয়ে আছে।  আমি তাকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বললে সে আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে ঘরের বাহিরে যায়।  আমি আমার মেয়েকে একটু শাষন করলে সে আবার ফিরে এসে আমাকে ধমকায়।  সে বলে আমাকে শিক্ষা দিবে এমনকি আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাবে।  আমি ঘর থেকে বের হয়ে একটি গাছের নিচে চলে যাই নিজের রাগটা কমানোর জন্য।  কিছুক্ষন পরে ফয়ছল তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে এসে আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। 

আমার মেয়েকে ফেরৎ পাওয়ার জন্য ফয়ছলের বাড়িতে যাই।  গিয়ে তার মায়ের সাথে কথা হলে সে আমাকে উগ্র ভাষায় যা তা বলে।  পরের দিন রবিবার জুয়েল নামের একটি ছেলে ০১৭০৫৭৫১৩৯২ নাম্বার থেকে কল করে আমাক বলে মেয়েও ছেলে তাদের জিম্মায় আছে।  জুয়েলের সাথে ছেলে মেয়ের কথা হলে, মেয়ে বিয়েতে রাজি হচ্ছে কিন্তু ছেলে রাজি হচ্ছে না।  এ কথা শুনে মেয়ের মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।   পরবর্তীতে আমি নিরুপায় হয়ে ওয়ার্ড মেম্বার রকিব মিয়াকে ও ফয়ছলের ওয়ার্ড মেম্বার ঝুনু মিয়াকে বিষয়টি অবগতি করি।  এম কি মহিলা মেম্বার রত্না বেগমকেও বিষটি অবগত করি।  তারা আমার মেয়েকে উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দিলেও আমার মেয়ে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। 

এমন কি তারা আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে বাঁধা দিচ্ছেন।  রহস্যজনক কারনে এবিষয় নিয়ে টাল বাহানা করছেন।  এবিষয়ে বুলু বেগমের ওয়ার্ড মেম্বার রকিব মিয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, ছেলে মেয়ে দুটাই অপ্রাপ্ত বয়স্ক।  তাই গ্রাম্য শালিষের মধ্যমে কিছু করার নেই আইনি বাঁধা আছে।  মেয়ের মার ইচ্ছা ছেলে মেয়েকে খুঁজে বের করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া কিন্তু সেটা আমাদের ধারা সম্ভব্য নয় । 

মেয়ের মাকে কেনো আইনের আশ্রয় দিচ্ছেনা এমন প্রশ্ন করলে মেম্বার কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি।  অপহরন কারী ফয়ছল মিয়ার ওয়ার্ডের মেম্বার ঝুনু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এবিষয়টি তিনি শুনেছেন, মহিলা মেম্বার রত্না বেগমকে বিষয়টি খুঁজ নেওয়ার জন্য বলেছেন।  ছেলে ও মেয়ের কোনো পক্ষো তার সাথে যোগাযোগ করেনি।  তিনি কেনো মেয়ের মাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন নাই এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওরা যোগাযোগ করলে বলবো। 

মহিলা মেম্বার রত্না বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ছেলে মেয়ের খুঁজ পেলে বিবাহ পরিয়ে দিবেন।  অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে বাল্য বিবাহের আওতায় পরে কি না জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, ছেলে মেয়ে রাজি থাকলে যে কোনো বয়সে বিয়ে হয়।  বাল্য বিবাহে আইনে অপরাদ বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান।  বলেন, বিয়ের ব্যাপারে কিসের আইন।  ছেলে মেয়ে রাজি থাকলে আইন কি করতে পারে।  এটা বাংলাদেশ আইন খাতা পত্রে সীমাবদ্ধ। 

এবিষয়ে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শ্যামল বণিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা।  তবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  গরিব ও অসহায় পরিবারের মেয়ে অপহরনের বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা শুরু করেছেন নানা টাল বাহানা।  উপরিত মেয়ের খোঁজ মা কোনো দিন পাবে কি না এবিষয়ে অনিশ্চিত।