৩:৫৯ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৮ মুহররম ১৪৪১




মোড়েলগঞ্জে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া প্রকোপ বাড়ছে

২৫ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫৯ পিএম | নকিব


এম.পলাশ শরীফ,বাগেরহাট:  বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন প্রকোপ আকারে ধারন করেছে। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অর্ধশত শিশু।  

ঋতু পরিবর্তন ও বৈরি আবহাওয়ার ফলে এ রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।   যার মধ্যে বেশীরভাগই শিশু।  গত ১ সপ্তাহ ধরে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৭-৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছেন।  

 রোববার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ শয্যা হাসপাতালটির মহিলা বের্ডের কক্ষটিতে প্রতিটি বেডেই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু রোগী চিকিৎসা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।  বেড না পেয়ে ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগীরা।  অভিভাবকদের ক্ষোভ রয়েছে বেড না পাওয়ার।  তারপরও কষ্ট করে শিশুদেরকে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।  

গত শনিবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যেসব শিশু রোগী গুলিশাখালী গ্রামের আরাফাত(৬মাস), সন্ন্যাসী গ্রামের মরিয়ম (১৭ মাস), সাজিদ (১ মাস), ধানসাগর গ্রামের আরাফাত (১৫ মাস), পিসি বারইখালী গ্রামের ওমর খলিফা( ১৫ মাস), কালিকাবাড়ি গ্রামের শর্মি (৭ মাস), ফুলহাতা গ্রামের মনিহা ( ১মাস), পূর্ব সরালিয়া গ্রামের জান্নাতি (৭ মাস), খাউলিয়া গ্রামের আবু কবর ( ৩মাস), বারইখালী গ্রামের সাইম (৩ মাস), ভাইজোড়া গ্রামের রাব্বি (৯ মাস), উত্তর সুতালড়ী গ্রামের ইউনুছ (১০ মাস), ধানসাগর গ্রামের ফাহিম (৯মাস, কালিকাবাড়ি গ্রামের তাইয়ব (আড়াই মাস), বিশারিঘাটা গ্রামের সুমাইয়া (১০ মাস) এ রকম অর্ধশত শিশু এ হাসপাতালে ১ সপ্তাহ ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  

চিকিৎসা নিতে আশা অভিভাবক তানিয়া আক্তার (২৪), মনিরুল হক ফকির, শাহিদুল ইসলাম, সোহাগ খলিফাসহ একাধিক অভিভাবকরা ক্ষোভের সাথে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শর্য্যায় রুপান্তিত হলেও এ সুফল পাচ্ছে না প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আশা রোগীরা।  সংকট রয়েছে রোগীদের বেড পুরাতন জরার্জীণ অবস্থায় অনেক বেড থাকলেও প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিতে আশা রোগীদের একটি বেডের জন্য তদবিরে দৌড়াতে হচ্ছে চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে।  তার পরও বেড ছাড়াই ফ্লোরে থেকে অনেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।  

এ ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, হঠাৎ বৈরি আবহাওয়া ঠান্ডা গরমের কারনে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।  তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্বক্ষনিক ওই সব শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  প্রতিদিন গড়ে ৫ জন শিশু হাসপাতালে আসছে।  এ কর্মকর্তা আরো বলেন, আবহাওয়া ভালো হলে এ প্রকোপ আর থাকবেনা।  ৫০ শয্যা বেড থাকলেও প্রতিদিন ৭০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  ইতোপূর্বে হাসপাতালের সমস্যার কথাও উর্দ্ধতন কর্মকতাদের অবহিত করা হয়েছে। 

এ সর্ম্পকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে জরাজীর্ণ ও বেড সংকটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসক মহাদয় সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে।  


keya