৯:০৭ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


যৌতুকের কাছে ভালবাসা যেন আজ পরাজিত

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪২ এএম | জাহিদ


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ‘আমাকে একদিন দেখতে না পারলে সে পাগলের মতো হয়ে যেত।  সে আমাকে খুবই ভালোবাসতো। 

আমার প্রতিটা মুহূর্তের খবর নিতো।  যে ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করলাম আর সে আমার জীবনটাই শেষ করে দিল।  মাদকাসক্ত স্বামীর বিভিন্ন অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করা ও যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সে আমাকে নির্মমভাবে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার পর জবাই করার চেষ্টা করেছে। 

কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটে তসলিমা আক্তার কেয়া (২৪) নামের এক গৃহবধু।  তিনি বলেন, মাঝে মাঝে মনে হয় নিজের জীবনটাই শেষ করে দেই।  আজ নিজের জীবনের কোনো মায়া নেই।  ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি। 

যৌতুকের কাছে ভালবাসা আজ পরাজিত।  সরেজমিনে লালমনিরহাট জেলা সদর হাসপাতালে সার্জারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকটাই মূর্মুষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে কেয়া। 

মাথায় রডের আঘাতের ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন আর গলায় জবাই করার চেষ্ঠার লম্বা ক্ষত।  অসহনীয় গলা ব্যাথার কারনে ঠিক ভাবে কথা বলা ও খেতেও পারছে না সে।  ঘটনার বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, ‘লালমনিরহাট শহরের আর্দশ পাড়ার নজরুল ইসলামের মেয়ে কেয়া পরিবারের অমতেই ৫বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিল পার্শ্ববর্তী উচাটারী এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমনকে। ’ এরপর উভয় পরিবার মেনে নিলে প্রথম কয়েকমাস ভালই চলছিল তাদের সংসার। 

কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পরই সুমনের আসল চেহারা প্রকাশ হয়ে যায়।  সুমন বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হওয়ার পাশাপাশি জুয়াও খেলত বলে কেয়া প্রায়ই প্রতিবাদ করত। 

এদিকে নেশা ও জুয়ার টাকার জন্য কেয়াকে প্রায়ই বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা আনার জন্য চাপ দিত।  এনিয়ে প্রায়ই মারপিট করত স্বামী সুমন।  এনিয়ে একাধিকবার পারিবারিক শালিস বৈঠক হলেও কেয়ার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে সুমন।  একপর্যায়ে প্রায় ৩ মাস আগে স্বামীর নির্যাতন রক্ষার জন্য বাবার বাড়িতে চলে যায় কেয়া। 

পরবর্তীতে সুমন বিভিন্ন ভাবে স্ত্রী কেয়াকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্ঠা করলেও রাজি হয়নি কেয়ার পরিবার।  ফলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে স্বামী সুমন।  এরপর কৌশলে শ্বশুর বাড়িতে যেয়ে ১২ নভেম্বর রোববার রাতে স্ত্রীর সাথে কথা বলতে বলতে পরিকল্পিতভাবে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে গলায় জবাই করার চেষ্টা করে। 

এরপর আশপাশের লোকজন টের পেলে পালিয়ে যায় পাষন্ড স্বামী সুমন।  বর্তমানে কেয়া হাসপাতালে চিকিৎস্বাধীন রয়েছে।  এবিষয়ে হাসপাতালে কেয়ার মা এফতারা বেগম বলেন,‘ তার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করেছে সুমন।  সর্বশেষ তাকে জবাই করে মারার চেষ্টা করেছে।  কেয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও সুমন হাসপাতাল এসেও হুমকি দিচ্ছেন। 

তিনি ন্যায় বিচার যান।  কেয়া অশ্রুসিক্ত নয়নে গলা চেপে ধরে ফিসফিস করে বলেন,‘ তার স্বামী তাকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।  তিনি বিচার চান।  কথা বলতে অভিযুক্ত স্বামী সুমনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বলেন, এখনো অভিযোগ পাননি।  অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


keya