৮:০৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


যমুনার কূলে ভাসমান নৌকার হাট

০৮ আগস্ট ২০১৮, ০৬:১৪ পিএম | মাসুম


এম এ মালেক,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :  যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীর নৌকার হাট দিনদিন জমজমাট হয়ে উঠেছে। 

শাহজাদপুরের যমুনা নদীর চরের হাজারো মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা।  তাই বর্ষা এলেই তাদের নৌকার হাটে যাওয়ার ধুম পড়ে।  শাহজাদপুর উপজেলার ওপর দিয়ে যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর ও গোহালা নদী প্রবাহমান। 

নৌপথের গুরুত্ব বিবেচনা করে শত বছর ধরে কৈজুরীতে নৌকার হাট বসছে।  কালের বিবর্তনে কোষা,বজরা কিংবা পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটেছে।  কিন্তু কৈজুরীতে ডিঙি নৌকার হাট এখনো টিকে আছে। 

শাহজাদপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে যমুনা নদীর তীরে কৈজুরীর মাদরাসা মাঠের নৌকার পসরা সাজিয়ে হাট বসছে।  সপ্তাহের শুক্রবার শুধু এ হাট বসে। 

হাটের ইজারাদার কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ পাবনার বেড়া ও গবিন্দপুর,সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চরকৈজুরী,পাঁচিল, দুগালী, বর্ণিয়া, জামিরতা,গুদিবাড়ি, বেনোটিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মহাজনরা এ হাটে ডিঙি নৌকা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। 

এ বিষয়ে কথা হয় গুপিয়াখালীর নৌকা বিক্রেতা কোরবান আলীর (৬০) সঙ্গে।  তিনি জানান, নৌকা তৈরি ও বিক্রি তাদের পৈত্রিক ব্যবসা।  বাড়িতেই রয়েছে তাদের কারখানা।  তিনি কিশোর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে কৈজুরী হাটে আসতেন। 

তখন ১২ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতেন।  এখন সেই নৌকা বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায়।  আগে বর্ষার দিনে ডিঙি নৌকার কদর বেশি ছিল। 

এখন সড়ক পথে যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় নৌকার কদর কমেছে।  তা ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রি ভালো হলেও বছরের অন্য সময় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। 

মূলত নৌপথ কমে যাওয়ায় এ ব্যবসা এখন মৌসুমি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।  অন্যদিকে হাট ইজারাদার সাইফুল ইসলাম জানান, দূর গ্রাম থেকে নৌকা কিনতে যারা কৈজুরী হাটে আসেন তাঁদের হাট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করে। 

হাটের বিশাল অংশ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।  তাই হাটের অস্তিত্ব ধরে রাখতে কৈজুরী মাদরাসা মাঠে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার নৌকার হাট বসানো হচ্ছে।  সরকারি খাস জায়গার বন্দোবস্ত হলেই বৃহত্তর পরিসরে নৌকার হাট বসানো সম্ভব হবে। 

তখন ডিঙি নৌকার পাশাপাশি সব ধরনের নৌকার বিকিকিনি বাড়বে।  এদিকে কৈজুরী গ্রামের স্কুলশিক্ষক মীর ইনাম আহম্মেদ
রবীন নৌকার হাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,‘নাব্যতা সংকটের কারণে বর্ষার পরপরই নৌপথ হারিয়ে যাচ্ছে। 

ফলে বর্ষার পর সেভাবে নৌকা বিক্রি হয় না।  তা ছাড়া হাটের জায়গা যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শত বছরের পুরনো এই নৌকার হাটটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।