৫:০৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

যশোর-৬ আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে ১ডজন প্রার্থী : প্রচার প্রচারণা শুরু

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১১:০৩ এএম | মুন্না


হাবিবুর রহমান, যশোর প্রতিনিধি : যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন গঠিত।  আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বড় দুটি রাজনৈতিক দলসহ জাতীয়পার্টি ও জামায়াতের ১ ডজনের বেশি আগ্রহী প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।  সেই সাথে দলীয় মনোনয়ন পাবার আশায় বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ সহ প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের জন্য তৈরি করেছে ৯২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা।  আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এসব প্রার্থীর কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। জনসমর্থনে যার অবস্থান সবচেয়ে ভালো হবে তিনিই পাবেন একাদশ নির্বাচনের মনোনয়ন।  খুলনা বিভাগের ৩৬ আসনের জন্য তৈরি করা ৯২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাতে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এবং কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেনর নাম উঠে এসেছে। 

ইসমাত আরা সাদেকঃ দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সফল শিক্ষা মন্ত্রী প্রয়াত আবু শরাফ হিফজুল কাদের সাদেক (এ, এস, এইচ, কে,সাদেক)এর স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারিবাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়।  পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারিথেকে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। 

এইচ এম আমির হোসেনঃ এইচ এম আমির হোসেনের রাজনীতিক ক্যারিয়ার অনেক সুদীর্ঘ।  ৪৩ বছরের রাজনীতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে ১৯৭৩ সালে দশম শ্রেনীতে থাকাকালীন তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারন করে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাথমিক সদস্য পদ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন।  ২০০৯ সালের দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করে প্রথম বারের মত উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।  এরপর ২০১৪ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বর্তমানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকরছেন। 

এছাড়াও আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরা হলেন, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বার বার নির্বাচিত সভাপতি এস এম রুহুল আমিন,বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌর কাউন্সিলরশেখ এবাদত সিদ্দিকী বিপুল, চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক। 

অন্যদিকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদনির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০ আসনেমনোনয়ন-প্রত্যাশীদের তালিকা করছেবিএনপি।  নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তারভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি খসড়াতালিকা ইতিমধ্যে তৈরি করেছে দলটিরহাইকমান্ড।  খুলনা বিভাগের ৩৮ আসনের জন্য তৈরি করা সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাতেযশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের তালিকাতেবিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদকঅমলেন্দু দাস অপু, কেশবপুর থানা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনআজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল সিনিয়রসহসভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়রআবদুস সামাদ বিশ্বাসের নাম উঠে এসেছে। 

অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাতে নাম না থাকলেও শক্ত অবস্থানে আছেন যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু বকর আবু।  তিনি বিএনপি এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পর্যায়ক্রমে থানা বিএনপি এর সাংগঠনিক সম্পাদক,ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।  এছাড়াও একটানা ২০ বছর সফলভাবে সভাপতি এর দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। 

কেশবপুর আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে এক প্রকার মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি।  দীর্ঘদিনের পরাজয়ের গ্লানি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি।  টানা চারবারের বিজয়ী আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করার জন্যবিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে প্রচার-প্রচারণাসহ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এ আসনে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে হলে শক্ত প্রার্থী ছাড়া বিজয় অসম্ভব বিএনপির।  তাই যোগ্য ব্যক্তি মনোনয়ন না পেলে নিজেদের ভিতরে দলীয় কোন্দলে বিগত চারবারের ন্যায় একাদশ নির্বাচনে আবারো ভরাডুবি হতে পারে এমনটি মনে করছেন বিএনপির সমর্থকরা।  কে হতে পারেন বিএনপির যোগ্য ব্যক্তি? যার হাত ধরে আসবে কাঙ্ক্ষিত বিজয়। 

অপরদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এখনো তৈরি করেনি।  তবে একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসন চেয়ে প্রার্থী তালিকা দিয়েছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।  জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এককভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা তারা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছেন।  একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদএবং সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ রানা এলাকায় গণসংযোগ করছেন। 

এছাড়াও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  দলটির সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।  দলটি ৫১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানা গেছে।  জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসাবে অধ্যাপক মুক্তার আলী গণ সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

পরিসংখ্যান বলছে, বিগত ১০টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাঁচবার,আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ১ বার,জামায়াত ২ বার, বিএনপি ১ বার ও জাতীয় পার্টি ১ বার বিজয়ী হয়েছে।  সর্বশেষ টানা চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ আসনের এমপি। 

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সালেআওয়ামী লীগের পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য,দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৯ সালেবিএনপির গাজী এরশাদ আলী, তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) আবদুল হালিম, চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আবদুল কাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  এরপর পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামায়াতের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচিত হন। 

সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এ এস এইচ কে সাদেকসংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০৮ সালে অভয়নগর-কেশবপুর-মনোহরপুর এলাকা নিয়ে পূর্নবিন্যাস করা যশোর-৬ আসন থেকেঅভয়নগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতিশেখ আব্দুল ওহাব মহজোট সমর্থিত প্রার্থীহিসেবে জয়লাভ করে হুইপ নির্বাচিত হন।  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি এ এস এইচ কে সাদেকের সহধর্মিনী আওয়ামীলীগেরবেগম ইসমাত আরা সাদেক যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদসদস্য নির্বাচিত হন। 

এবার দেখার পালা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে কে হোন নৌকার মাঝি।  যোগ্য বাক্তির হাতে বৈঠা (দলীয় প্রতীক) তুলে দিলে এ আসন থেকে আওয়ামীলীগ এক প্রকার অপরাজেয় হয়ে উঠবে।  সেই সাথেদীর্ঘদিনের পরাজয়ের গ্লানি ঘুচাতে ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে হলে শক্ত প্রার্থী ছাড়া বিজয় অসম্ভব হয়ে যাবে বিএনপির।