১১:৩৮ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


রাউজানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

১২ জুন ২০১৮, ১০:০২ পিএম | সাদি


প্রদীপ শীল, রাউজান প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজানে বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।  প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্ধী রয়েছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় লক্ষাদি মানুষ।  ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, গহিরা, নোয়াজিষপুর, পুর্ব গুজরা ও রাউজান ইউনিয়ন। 

বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। 

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ডাবুয়া ইউনিয়ন, হলদিয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। 

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি দীর্ঘ হাটু পরিমাণ জলমগ্নপথ পায়ে হেঁটে বৃষ্টিতে ভিজে এলাকার মানুষের খবরা খবর নেন। 

এ সময় দুর্গতদের উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ঘোষনা করা অস্থায়ী আশ্রয়নে উঠার আহবান জানান।  তিনি বলেন যতদিন বাড়ি ঘরে পানি থাকবে, ততদিন আশ্রয়নে খাওয়া থাকা ব্যবস্থা নিয়েছি। 

তিনি বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।  আপনারাই আমার শক্তি-সাহস আর স্বজন।  তাই আপনাদের দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট দুর্ভোগে আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি, থাকবো। 

বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম এহেছানুল হায়র চৌধুরী বাবুল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী স্বপন বড়ুয়া, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ, রাউজান পৌর সভার প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান চৌধুরী লালু, চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুর জব্বার সোহেল, আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দিন কামরুল ইসলাম বাহাদুর, যুবলীগ নেতা সুমন দে, ম্যালকম চক্রবর্তী, ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদ হোসেন, আরমান সিকদার প্রমূখ। 

এছাড়া ও আওয়ালীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  সোমবার ভয়াবহ বন্যা শুরু হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তেমন উন্নতি হয়নি। 

রাউজান পৌরএলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মাটির গুদাম ও কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।  যান চলাচল বন্ধ থাকায় জলমগ্ন এলাকা অতিক্রম করে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য রিকশা, ভ্যান গাড়ি, পাওয়ার টিলার সংযুক্ত ট্রলি ও চাঁদের গাড়ির উপর ভরসা করছেন যাতায়তকারীরা। 

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা জানান, অব্যাহত প্রবল ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ী ঢলে মারাত্মক বিপর্যস্ত রাউজানের ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড।  মানবিক কারণে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।  উপজেলা প্রাশাসন ১টি কন্ট্রোল রুম চালু রেখেছে।  সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।  সর্বক্ষনিক কর্মস্থলে অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

এদিকে রাউজান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও মাঠে রয়েছে।  মঙ্গলবার দুপুরে বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। 


keya