১২:৩৬ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রক্তচাপ কমানোর সহজ ও কার্যকরী ১২ টি উপায়

২১ অক্টোবর ২০১৭, ০১:২৬ পিএম | নিশি


এসএনএন২৪.কমঃ উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়না।  কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, অ্যানিউরিজম, মানসিক দক্ষতা কমা এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মত মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।  রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঔষধ আছে কিন্তু তা পা কামড়ানো, মাথা ঘোরানো এবং ইনসমনিয়ার মত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।  ঔষধ ছাড়াও কিছু  ঘরোয়া উপায়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।  চলুন তাহলে জেনে নিই প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ কমানোর সহজ ও কার্যকরী উপায়গুলোর বিষয়ে। 

১।  হাঁটুন
হাঁটলে রক্ত চাপ ৮ – ৬ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত কমে।  ব্যায়াম হৃদপিণ্ডকে অনেক কার্যকরীভাবে অক্সিজেন ব্যবহার করতে সাহায্য করে, তাই হৃদপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে অনেকবেশি কাজ করতে হয় না।  রক্তচাপ কমানোর জন্য সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন ৩০ মিনিট কার্ডিও এক্সারসাইজ করুন। 

২।  গভীরভাবে শ্বাস নিন
ধীরে ধীরে শ্বাস নেয়া, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম করার ফলে স্ট্রেস হরমোন কমে।  স্ট্রেস হরমোন রেনিন নামক  কিডনির এনজাইমকে বাড়িয়ে তোলে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।  তাই সকালে ও রাতে ৫ মিনিটের জন্য দম চর্চা করুন।  গভীরভাবে শ্বাস নিন পেট ফুলিয়ে।  তারপর আস্তে আস্তে নিঃশ্বাস ছাড়ুন।  এতে আপনি টেনশনমুক্ত হতে পারবেন। 

৩।  আলু খান
শিকাগো এর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবারগ স্কুল অফ মেডিসিন এর প্রিভেন্টিভ মেডিসিন এর অধ্যাপক লিন্ডা ভ্যান হর্ন বলেন, পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করা যেকোন রক্তচাপ কমানোর প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।  দিনে ২০০০-৪০০০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম গ্রহণের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করুন।  এজন্য মিষ্টি আলু, টমেটো, কমলার রস, গোল আলু, কলা, মটরশুঁটি এবং আলুবোখারা ও কিশমিশের মত শুকনো ফল গ্রহণ করুন, যা পটাসিয়ামের উৎস। 

৪।  লবণ গ্রহণ  কমান
উচ্চ রক্তচাপের মানুষদের জন্য সোডিয়াম গ্রহণের মাত্রা কমানো খুবই প্রয়োজনীয়।  দিনে ১৫০০ মিলিগ্রাম এর বেশি লবণ গ্রহণ করবেন না।  প্রক্রিয়াজাত খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে বলে এ ধরণের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। 

৫।  ডার্ক চকলেট খান
ডার্ক চকলেটে ফ্লেভানোলস থাকে যা রক্তনালীকে অনেক স্থিতিস্থাপক হতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ কমানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।  একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন ডার্ক চকলেট খান এমন রোগীদের রক্তচাপ কমে ১৮ শতাংশ। প্রতিদিন আধা আউন্স ডার্ক চকলেট খেতে পারেন যার মধ্যে ৭০ শতাংশ কোকোয়া থাকে। 

৬। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন
১২ টি গবেষণার পর্যালোচনা করে গবেষকেরা জেনেছেন যে, কিউ টেন কোএনজাইম রক্তচাপ ১৭ থেকে ১০  মিলিমিটার মার্কারিতে কমিয়ে নিয়ে আসে।  শক্তি উৎপাদনের জন্য যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রয়োজন তা রক্তনালীকে প্রসারিত করে।  আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। 

৭।  ক্যাফেইনমুক্ত কফি পান করুন
ক্যাফেইন রক্তনালীকে শক্ত করার মাধ্যমে রক্তচাপ বৃদ্ধি করায়।  আপনি যখন স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন তখন আপনার হৃদপিণ্ড অনেকবেশি রক্ত পাম্প করে, এর ফলে রক্তচাপ ও বৃদ্ধি পায়। 

৮।  হারবাল চা পান করুন
টাফট বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনে ৩ বার জবা চা খেলে ৬ সপ্তাহে  রক্তচাপ ৭ পয়েন্ট কমে।  জবা চায়ে ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। 

৯।  কাজ কমান
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণা মতে, অফিসে সপ্তাহে ৪১ ঘন্টার বেশি কাজ করলে হাইপারটেনশন হওয়ার ঝুঁকি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।  অতিরিক্ত সময় কাজ করলে আপনার ব্যায়াম করা ও স্বাস্থ্যকর খাওয়ার ব্যাঘাত ঘটতে পারে। 

১০।  গান শুনুন
ইতালির ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণায় দেখা গেছে যে, সঠিক গান আপনার রক্তচাপ কমাতে পারে।  শাস্ত্রীয়, সেল্টিক বা ভারতীয় সঙ্গীত প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে শুনলে সিস্টোলিক  রিডিং ৩.২ পয়েন্ট কমে। 

১১।  নাক ডাকা বন্ধ করুন
প্রাকৃতিক উপায়ে নাক ডাকা বন্ধ করতে পারেন।  ঘুমের সমস্যা থাকে যাদের তাদের উচ্চমাত্রার অ্যাল্ডোস্টেরন থাকে, এই হরমোনটি রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে। 

১২।  সয়া পণ্য গ্রহণ করুন
আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের সার্কুলেশন নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, খাদ্যতালিকা থেকে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে রক্তচাপ কমে।  পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটকে প্রতিস্থাপিত করতে পারেন সয়া পণ্য ও দুধের প্রোটিন যেমন- লো ফ্যাটের দুধ দ্বারা।