১১:৩৫ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


রিকেল বড়ুয়ার কবিতার বই ‘জন্মান্তর’

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:৪৮ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : কবি হবার উদ্দেশ্যে আমি কবিতা লিখতে আসিনি।  বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং মৃত্যুর পরম স্বাদ থেকে আমার ভেতরে জন্ম নেয় কবিতা এবং কবিতা।  কবিতার প্রতি আমার যে গভীর সৌন্দর্যবোধ সে সৌন্দর্যবোধের প্রতি আস্তা রেখে বলছি— কবিতা দিয়ে পৃথিবীতে একটা স্বর্গ রচনা করার কথা ভাবছি।  পৃথিবীর সকল বিষয় একটা রহস্যের ভেতর দিয়ে যায় আর সেটা যদি হয় কবিতা— তার থাকে দীর্ঘ ইতিহাস ৷ এ আমার বিশ্বাস আমার প্রেম আমার ধর্ম ৷


কবিতা বস্তুত আমি লিখি না।  আমার ভেতরে যে একজন মানুষ এবং প্রকৃতপক্ষে মানুষ বাস করেন তিনিই লেখেন।  তাই সম্পূর্ণ আমি কখনো কবি হয়ে উঠতে পারিনি।  যখন তিনি জেগে ওঠেন— তখনি আমি হয়ে উঠি কবি।  আমি চাই আমার ভেতরের কবি মানুষটির আত্মা দীর্ঘজীবী হোক।  কবিতাকে প্রেমিকাই ভেবে গেছি চিরকাল।  তার মতো মহৎ হৃদয় আমি আজও দেখিনি।  যা কিছু ভেসে গেছে জলে ডুবে গেছে অবেলায়, চলে গেছে ফাগুনে এসেছে বেদনায়; কবিতায় লিখে রাখি আমি তাহাদের নাম।  কবিতাই আমার শেষ গন্তব্য। 


আমাকে আঘাত করলে ঝরে পড়ে কবিতা/ ভালোবাসলে আমাকে ঝরে পড়ে কবিতা;/ যেহেতু, কবিতা ভিন্ন আমার কোনো বেদনা নেই/ কবিতা ভিন্ন আমার কোনো উল্লাস নেই/ কবিতা-ই আমার অদ্বিতীয় উপাসনা/ আপনি আমাকে ঘৃণা করুন, বাসুন ভালো/ রাষ্ট্র আমাকে নির্বাসন দিক, করুক সম্মানিত;/ কবিতার শপথ আমি দুঃখ করব না, বড় জোর অহংকারে কেঁদে উঠতে পারি/ কবিতা নিষিদ্ধ হলেই আমি মরে যাব/ আমার মুমূর্ষু অবস্থায় ফুল নয় অশ্রু নয়, কেবল কবিতা নিয়ে এসো/ আমি ফিরে আসবো আত্মহ্যতার দুয়ার হতে ৷


কবিতা লিখে কাউকে আঘাত দেবার কৌশল জানি না ৷ তবু কারো কারো ব্যথা হয়ে যায় ৷ আমি তাদের কাছে দায়গ্রস্ত ৷ এমন হৃদয়ের মানুষ আজও আছে যারা অন্যের ব্যথা পড়ে কাঁদে ৷ মূলত পৃথিবীটা সুন্দর তাদের চোখের জন্য ৷ সে সকল দৃষ্টি দীর্ঘজীবী হোক ৷ আমার সমস্ত শিল্পের দায় একান্ত সেই জাগ্রত কবি মানুষটির।  যিনি কবিতা লিখতে গিয়ে জেগে ওঠেন।  জেগে উঠে যিনি লিখতে বসেন কবিতা।  এর অপরাধে তাঁর ফাঁসি হোলে হোক।  আমার মৃত্যু হোক সে কবি মানুষটির চোখ খোলা থাকাকালীন সময়ে ৷ আমার মৃত্যুর চারপাশে আবৃত্তি করা হোক কবিতা ৷ আমার মৃতদেহের উপর গড়ে উঠুক রাশি রাশি কবিতার স্তূপ।  আমাকে পোড়ানো হোক গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা দিয়ে ৷ আমার বিষণ্ণ এপিটাফে লেখা হোক জীবনের কবিতা ৷


কবি এমন এক দেবতা যিনি শূন্যতার ভেতর থেকে খুঁড়ে আনে প্রেম ৷ আমি এই মহৎ মধুর মুগ্ধতা নিয়ে লিখতে বসি মানুষ ৷ কবিতা আমার কাছে মায়ের মতো নদীর মতো যাকে সব কথা খুলে বলতে পারি ৷


রিকেল বড়ুয়ার কবিতার বই ‘জন্মান্তর’।  প্রকাশ পেয়েছে আনন্দম প্রকাশনী থেকে।