৮:০৭ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


রাখাইনে গিয়ে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত কী দেখলেন?

১২ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:৩৭ এএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কম: মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেশী পাঁচ দেশের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল।  ওই পাঁচজনের মধ্যে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানও ছিলেন। 

তিনি গতকাল বুধবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাখাইনে গিয়ে তিনি বাস্তুচ্যুত বহু রোহিঙ্গার মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখেছেন এবং তারা নিজেদের গ্রামে আর ফিরে যেতে চায় না বলেও তাঁদের জানিয়েছে।   

বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী আরো চারটি দেশ চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওসের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইনের পরিস্থিতি দেখাতে মঙ্গলবার নিয়ে গিয়েছিলেন মিয়ানমারের শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। 

সেই সফর সম্পর্কে সুফিউর রহমান বলেন, ‘গোটা অঞ্চলে আমি মাইলের পর মাইল ধরে যে পোড়া বাড়িঘর দেখেছি, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।  এ জিনিস হঠাত্ করে হয়নি বলেই আমার মনে হয়েছে।  ’ সফরে তাঁর সঙ্গী অন্য রাষ্ট্রদূতরাও একই রকম ‘কাছাকাছি ভাবনা’র শরিক বলে তিনি জানান। 

পাঁচ বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বৌদ্ধপ্রধান রাথিডং এলাকার একটি গ্রামে, যেখানে একটি বিচ্ছিন্ন গ্রামে কিছু মুসলিম রোহিঙ্গা বসবাস করছে।  তারপর রাখাইনের সাগরপাড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামও তাঁরা আকাশপথে হেলিকপ্টারে চেপে ঘুরে দেখেন। 

পরে তিন-চারটি জায়গায় তাঁদের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।  সব জায়গায়ই স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে তাঁদের কথাবার্তা হয়েছে সরকারি দোভাষীদের মাধ্যমেই। 

কথোপকথনের সময় সরকারি কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। 

সুফিউর রহমান বলেন, ‘এই মানুষগুলোর চোখেমুখে ছিল চরম নিরাপত্তাহীনতার ছাপ।  তারা বলছিল তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা।  নিজের গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এই মানুষরা, তার পরেও তারা যে সেখানে আর ফিরতে চায় না সে কথা আমাদের খোলাখুলিই বলল। 

তবে সরকারি কর্মকর্তারা একটু আড়াল হতেই তাদের কথাবার্তা থেকে একটু অন্য রকম আভাসও পাওয়া যায়।  বোঝা যায়, সে কথাগুলো তারা সরকারের প্রতিনিধিদের সামনে বলতে সাহস পায় না।  ’

সেই আভাসটা কী ধরনের, এই প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বলেন, ‘তারা যে কথাটা মুখ ফুটে বলতে পারে না বলে মনে হয়, সেটা হলো তাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা শুধু একটা প্রতিবেশী ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে না। 

এর পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক হাত রয়েছে বলেও তাদের কথা থেকে ইঙ্গিত মেলে, কিন্তু সাহসে ভর করে তারা কারো নাম উচ্চারণ করতে পারে না।  ’

তাঁর সফরসঙ্গী অন্য রাষ্ট্রদূতরাও এই বিশাল মানবিক সংকটের ব্যাপকতা দেখে বিচলিত বলে সুফিউর রহমানের মনে হয়েছে।  তাঁরা সবাই এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট মোকাবেলা করা দরকার। 

তবে তাঁরা এটাও বিশ্বাস করেন, এ কাজ একা মিয়ানমারের পক্ষে সম্ভব নয়, এ জন্য তাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক সহায়তা লাগবে।