১:৫৪ এএম, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার | | ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০




রুগ্ন পাট শিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে আনার চেষ্টা

১৫ জুন ২০১৯, ০৩:৩৬ পিএম | নকিব


হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম ,প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় অসহায় ৭শ’ নারীকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আলোর দিশা দেখিয়েছে নারী সংগঠক ফরিদা ইয়াসমিন। 

শুধু পরিবারে কোনঠাসা নারীদের নয় তিনি অবহেলিত সোনালী আঁশ পাটকে বিশ^ দরবারে জনপ্রিয় করে তুলতে ফুটিয়ে তুলছেন নানান কারুকাজময় সম্পন্ন দ্রব্যাদি।  ইতোমধ্যে তা রপ্তানী হচ্ছে দেশ থেকে বিদেশে। 

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, কর্মহীন নারীদের কাজের সুযোগ তৈরী করে দিতে ২০১৪ সালে নারী (নারী এসোসিয়েট ফর রিভাইভার ইনিসিয়েটিভ) নামে একটি সংগঠন খোলেন উলিপুর-চিলমারী সড়কের রামদাস ধণিরাম পাড়ায়। 

এসব নারীদের সহযোগিতায় পাট শিল্পকে দৃষ্টিনন্দন ব্যবহার্য উপযোগী করে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে রুচিশীল মানুষের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন তিনি।  এরপর অনেক কষ্ট করে তিনশটি তাঁত কিনে পুরোদমে শুরু করেন ছোট্ট কারখানার কাজ। 

তারপর খোলেন শো-রুম।  পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পমেলায় অংশগ্রহন করে বায়ারদের মাধ্যমে বাজারজাত করার চেষ্টা করেন।  এভাবেই ধীরে ধীরে আশপাশের বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা ও হতদরিদ্র নারীদের সংগঠিত করে কাজের সুযোগ তৈরী করে দিয়ে তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার চেষ্টা করেন। 

এই উদ্যোক্তা আরো জানান, আমরা নারী উদ্যোক্তারা অনেক কষ্ট করে এগিয়ে যাচ্ছি।  সরকারের বিভিন্ন ব্যাংকগুলো নারী হবার কারণে আমাদেরকে ্ঋণ প্রদানে অনিহা প্রকাশ করে।  ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ পর্যন্ত সম্পদ বিক্রি করে আমাদেরকে সামনে এগুতে হয়। 

তার সংগঠনে কাজ করা শাহিনা, সেলিনা ও শেফালী জানান, পরিবারে আমরা লাথিগুতা খেয়ে এককোনে পরে ছিলাম।  এখন এই কাজের মাধ্যমে সমাজে আমাদের সম্মান এখন বেড়েছে।  এখান থেকে মাসে আমরা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা বেতন পেয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছি। 

অন্য মহিলারা জানান, আগে কাজ ছিল না।  খুব কষ্টে দিন কাটাতে হতো।  এখন কাজ পেয়ে সংসারে শান্তি এসেছে।  ছেলে-মেয়েকে পড়াতে পারছি।  নিজস্ব থাকার ঘর তৈরী করতে পেরেছি।  অসুস্থ্য স্বামীর পাশে দাঁড়াতে পারছি। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি রওশন আরা চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তো সৃষ্টি করছে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরী করছে।  আরো অধিক সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরীতে সরকারের সহয়োগিতা চান এই নারী নেত্রী। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, নারীর ক্ষমতায়নে সরকার অনেক দূর এগিয়েছে।  নারীরাও বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে পরিবারে সহযোগিতা করছে।  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে তারা অগ্রসর হচ্ছে।  সরকারও নানাভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করছে।