৮:৫০ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


রাগী মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি

২৭ জুন ২০১৮, ১২:১৫ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : বিজ্ঞানীদের মতে, বেশি রাগ সরাসরি আঘাত করে হার্ট ও ধমণীকে।  ‘প্রবল রাগ ওঠামাত্র শরীরে শুরু হয় ফাইট অর ফ্লাইট রেসপন্স।  তার হাত ধরে প্রচুর স্ট্রেস হরমোন তথা নিউরোকেমিক্যাল বেরোতে শুরু করে।  তাদের প্রভাবে হার্টরেট ও প্রেসার বাড়ে।  করোনারি আর্টারি সঙ্কুচিত হয়। 

আবার করোনারি আর্টারিতে যদি কোনো চর্বির প্লাক জমে থাকে তা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।  এইসব এফেক্ট থাকে প্রায় দু’ঘণ্টা পর্যন্ত।  ফলে এই সময় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ’ প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে যারা ব্যায়াম করে রাগ কমাতে যান, তাদের আশঙ্কা আরো বাড়ে।  আবার প্রচণ্ড স্ট্রেসের ফলে হার্টের ইলেকট্রিকাল ইমপাল্স ডিসরাপ্টেড হয়ে সূত্রপাত হয় বিপজ্জনক হার্ট রিদম ডিস্টারব্যান্সের।  সেখান থেকেও প্রাণ যেতে পারে। 

কথায় কথায় রেগে থাকেন এমন দেড় হাজার জনের উপর ৩৬ বছর ধরে গবেষণা হয়েছে।  দেখা গেছে, এদের অনেকেরই অল্প বয়সে প্রেসার বাড়ে, ইস্কিমিয়া হয়, হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়।  আবার ধরুন হাইপ্রেসার নেই বলে ভাবলেন আপনি ঝামেলামুক্ত, এমনটাও নয়। 

রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এমন ১২ হাজার ৯৮৬ জন নারী–পুরুষকে স্টাডি করে ২০০০ সালে সার্কুলেশন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যাদের রাগ খুব বেশি তাদের মধ্যে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তিন গুণ। 

স্বাভাবিক মানুষ বলতে একেবারে মাটির মানুষ হতে হবে এমন নয়।  মাঝেমধ্যে অল্পস্বল্প রাগ করলেন, মানুষকে দু’–চার কথা শেনালেন, কি চুপ করে বসে থাকলেন, তাতে তেমন ক্ষতি নেই।  বিপদ, রাগ মাত্রা ছাড়ালে।  বিপদ, ক্রনিকালি রেগে থাকলে। 

আর একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, শরীরে স্ট্রেস হরমোনের বাড়াবাড়ি হলে রক্তে সি–রিয়্যাকটিভ প্রোটিন বা সিআরপি বাড়তে শুরু করে। 

২০০৪ সালে সাইকোসোমাটিক মেডিসিন–এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে ডিউক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা ১২৭ জন সুস্থ নারী–পুরুষের উপর সমীক্ষা করে জানিয়েছেন, যাদের রাগ ও হোস্টিলিটি খুব বেশি বা যারা কথায় কথায় টেন্সড বা ডিপ্রেস্ড হয়ে পড়েন, সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের রক্তে সিআরপি বেশি থাকার চান্স প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ, যা কিনা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম মার্কার। 

আপনার যে রাগ বেশি সেটা বুঝুন প্রথমে এবং তার জন্য আপনি ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়।  কারণ যে ঘটনায় আপনি রেগে যান, তাতে অন্য অনেকেই দিব্যি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন। 

এবার ঠিক করুন রাগ কমাবেন এবং প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নেমে পড়ুন। 

কোন কোন ঘটনায় রেগে যান তা বুঝে নিন।  সে রকম পরিস্থিতি যাতে না হয় সে চেষ্টা করুন।  তার জন্য যদি নত হতে হয় সে-ও ভাল। 

চেষ্টা করেও পরিস্থিতি এড়াতে না পারলে প্রতিজ্ঞা করুন, যা-ই ঘটুক আপনি শুধু শুনে বা দেখে যাবেন, রাগবেন না।  এমন কথা বলবেন না যাতে পরিস্থিতি জটিল হয়। 

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডিপ বেলি ব্রিদিং, যোগাসন, মেডিটেশনে শরীর–মন ঠান্ডা থাকে। 

চেষ্টা বিফলে গেলে অস্থির হবেন না।  অন্য ইমোশনের মতো রাগও খানিক ক্ষণের মধ্যে কমতে শুরু করবে।  ধৈর্য ধরুন।  মুখ বন্ধ রাখুন।  সম্ভব হলে সে জায়গা থেকে সরে যান।  হনহন করে হেঁটে আসুন, মাথায় জল ঢালুন কি ঘরের কাজ করুন বা কারও সঙ্গে কথা বলে মাথা ঠান্ডা করে নিন। 

এসব কোনওটাই সম্ভব না হলে কাজে আসবে সুইচ অফ–সুইচ অন মেকানিজম এবং ভিস্যুয়াল ইমেজারি।  এ হল পরিস্থিতির মাঝখানে বসে গভীরভাবে অন্য পছন্দের কিছু ভাবা যাতে মন চলে যায় অন্য কোনো রাজ্যে।  বিশেষজ্ঞের কাছে শিখে ঘরে প্র্যাকটিস করলে বিপদের সময় কাজে লাগবে।