১০:৫৩ পিএম, ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ভারি বর্ষণে

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

১১ জুন ২০১৮, ১০:০২ এএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : টানা বর্ষণে সড়ক ও পাহাড়ে ধস, ফাটল এবং গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে।   রোববার সকালে ভারি বৃষ্টিপাত হয়।  এরপর থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও সন্ধ্যা নাগাদ তীব্রতা বাড়ায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধস, ফাটল এবং গাছ ও বিদ্যুতের পিলার উপড়ে পড়ার খবর আসতে থাকে।  সেই থাকে বাড়তে থাকে বৃষ্টির তীব্রতাও। 

শহরবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে রাতেই মাঠে নামেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তাপস শীলসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।  সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন স্থানে ধসের নিচে চাপা পড়া স্থাপনা সড়িয়ে নেওয়া এবং সড়কের ওপর পড়া গাছ কেটে সড়ক জঞ্জাল পরিষ্কার করার কাজে প্রাণান্ত পরিশ্রম করা ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরাও। 

গতকাল সকাল থেকেই শহরজুড়ে দফায় দফায় মাইকিং করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সরে যেতে।  কিন্তু এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে খুব কম মানুষই। 

ফলে সন্ধ্যা থেকেই কার্যত বিদ্যুৎবিহীন শহরে পরিণত হওয়া রাঙামাটির বিদ্যুৎ কখন আসবে জানাতে পারেননি দায়িত্বশীল কর্মকর্তরা। 

বিদ্যুত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপাকে পড়েছে।  তারা চেষ্টা করছেন দ্রুত শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে। 

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেছেন, ‘চারদিক থেকে আতংক এবং টানা বৃষ্টির কারণে আমিও ঘরে বসে থাকতে পারিনি।  শহরবাসীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং তড়িৎ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং কর্মকর্তা কর্মচারীরা সকাল থেকেই রাত অবধি মাঠেই আছে।  আমি নিজেও রাতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।  মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেব। ’

২০১৭ সালের ১২ জুন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি টানা  ভারিবর্ষণের কারণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে অন্তত ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে।  এদের মধ্যে ছিলেন পাহাড়ধসে মাটি পড়ে অচল হওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক চালু করতে যাওয়া ৫ সেনা কর্মকর্তা ও  জওয়ান।  টানা ১৭ দিন সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো পার্বত্য শহর রাঙামাটির।