১:০৪ পিএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী শিশুদের মাঝে বই বিতরণ

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এম.কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি : বছরের শুরুতেই চালু হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার।  এবারই প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তরে তাদের এ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার।  ইতিমধ্যেই পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় নতুন মাতৃভাষার পাঠ্যবই পৌঁছে গেছে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। 

সূত্রটি জানায়, পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে জানুয়ারির শুরুতেই প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির মাতৃভাষার পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। 

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, খিয়াং, খুমি, বম, চাক, পাংখোয়া, রাখাইন, লুসাইসহ ১৩ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।  তাদের প্রত্যেকটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না।  প্রাথমিক স্তর থেকে ঝরে যায় অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী।  তবে এবছর চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা এই তিন গোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হয়। 

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষা নীতিতে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় পড়ালেখার বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত হয়।  এর ফলে পরিকল্পনাটি আলোর মুখ দেখছে এবার নতুন বছরে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, নতুন বছরে জেলার ৬১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার ওপর ১৫ হাজার ২৮১ বই বিতরণ করা হবে।  চাকমা ভাষার ১০ হাজার ৮২ বই, মারমা ভাষার ২ হাজার ১৬৫, ত্রিপুরা ভাষার ২ হাজার ৫৮৩ এবং সাদ্রি ভাষার ৩৮১টি বই বিতরণ করা হয়েছে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাক প্রাথমিক স্তরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে মাতৃভাষার বই বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।  জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব বই বিতরণ করবে। 

পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন কমিটির চাকমা ভাষার গবেষক প্রসন্ন কুমার চাকমা জানান, মাতৃভাষায় পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে।  ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে ২০১৫ সাল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষার বই সরবরাহ করার কথা।  কিন্তু নানা কারণে শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সাল থেকে মাতৃভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা চালু হচ্ছে।  তার মতে, নিজস্ব ভাষায় পাঠদান করা হলে শিশুরা বিদ্যালয়মুখি হবে।   

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা জানিয়েছেন, মাতৃভাষায়  শিশুদের পাঠদানের জন্য ইতিমধ্যে ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।  বাকিদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। 

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তাদের  ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষা হবে বলে মনে করেন পাহাড়ের মানুষ। 

এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার নতুন বই বিতরণ করেন,
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা।  বৃষকেতু চাকমা সকালে নিউ রাঙামাটি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ আবদুল আলীম একাডেমী ও বনরুপা মডেল সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে নতুন বছরের বই
তুলে দেন। 

এই সময়ে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য জেবুনেছা রহিম, জেলা শিক্ষা অফিসার হারুনুর রশীদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.জিল্লুর রহমান, সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, মনিরুজ্জামান মহসিন রানা, সুনীল কান্তি দে, সাংবাদিক এম.কামাল উদ্দিন, সাওয়াল উদ্দিন, বনরুপা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অচ্চনা চাকমাসহ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। 

অপর দিকে জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,সরকারি
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাঁঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বছরের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়। 

এদিকে পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বনরুপা আল আমিন ফাজিল মডেল মাদ্রাসা ও মুজাদ্দেদ-ই আলফেসানী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেন। 


সম্পাদনায় : পিডি/ এসএনএন২৪.কম