১:১৬ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার | | ২৭ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

রাজনৈতিক সদিচ্ছাই কমাতে পারে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি

০৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:২৬ এএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কমঃ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ।  দেশটির সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ ৬০০ কোটি ডলারেরও বেশি।  অথচ এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় মাত্র ৬৭ কোটি ডলার।  এ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা সম্ভব।  এ জন্য দরকার সদিচ্ছা ও সমতাভিত্তিক বাণিজ্যনীতির। 

ব্যবসায়ীদের মতে, এই বাণিজ্য বৈষম্য দূর করতে হলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং ও কাউন্টার ভেইলিং, মানসনদ, অশুল্ক বাধার মতো মাঝপথের এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।  এ জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগাতে হবে। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা মতে, অবকাঠামো, শুল্ক ও বন্দরসংক্রান্ত অসুবিধাগুলো, অশুল্ক বাধা এবং ঝামেলাপূর্ণ রপ্তানি প্রক্রিয়ার কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না।  এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি আয় হয় পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে।  চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রতি টন পাটে ভারত সরকার ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে।  ফলে গত কয়েক বছরেও ভারতে ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বাংলাদেশ। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে গত সাত বছরে ভারতে রপ্তানি আয় ক্রমান্বয়ে কিছুটা বাড়তে থাকলেও গত অর্থবছরে আবার তা ধাক্কা খেয়েছে।  ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৬৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।  এ আয় সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে কমে হয়েছে ৬৭ কোটি ২৪ লাখ ডলার। 

এ ছাড়া ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে পণ্য রপ্তানি করেছে ৫১ কোটি ২৫ লাখ ডলারের, ২০১১-১২ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৪৯ কোটি ডলার, ২০১২-১৩ অর্থবছরে আয় হয় ৫৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হয়েছে ৪৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং ২০১৪-১৫তে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫২ কোটি ৭১ লাখ ডলার। 

জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্পর্কের বিভিন্ন দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের একটি ইতিবাচক রোডম্যাপ নিয়ে এগোচ্ছে দুই দেশ।  কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক ধরনের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে।  এ জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দূরে সরিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগাতে হবে। 

এদিক এফবিসিসিআই সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছিলেন এফবিসিসিআইয়ের বিশাল একটি প্রতিনিধিদল।  ওই সময় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভারতকে ৬ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয় এফবিসিসিআই।  এগুলোর মধ্যে ছিল শুল্ক-অশুল্ক বাধা নিয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন।  বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল বা বিবিআইএন আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কানেক্টিভিটিবিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণ। 

যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে খনিজ ও সমুদ্র সম্পদ উত্তোলন, জলজ পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা, পারস্পরিক গবেষণা এবং উদ্ভাবনীমূলক জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করা। 

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ ভারতের বাজারে অশুল্ক বাধা আর অন্যটি হলো বহুমুখী পণ্যের অভাব।  বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য একেবারেই কম।  পোশাক এবং পাট ও পাটজাত পণ্যই বেশি যায়।  এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জটিলতা এবং অশুল্ক বাধার কারণে সহজে ভারতে পণ্য ঢুকতে পারছে না।  তিনি আশা করেন ভারত সরকার বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাব বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশসহ দুই দেশের বাণিজ্য আরো বাড়বে। 

এদিকে বাংলাদেশের পণ্যের মান সনদ নিয়েও এ দেশের উদ্যোক্তাদের নান সমস্যায় পড়তে হয়।  ভারত-বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মান সনদ গ্রহণ করার সম্মতি দিয়েছে ২১টি খাদ্য পণ্যে।  এ ছাড়া আরো ১৪টি পণ্যে বিএসটিআইয়ের সনদ গ্রহণ করা হবে এমন প্রক্রিয়া চলছে।  এগুলোর মধ্যে হিমায়িত খাদ্য, পটেটো চিপস, খাওয়ার পানি, ফ্লেভার্ড ড্রিংকস, বোতলজাত ফলের জুস, সাবান, সিমেন্ট ও বস্ত্র খাতের পণ্য রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের পর বেশ কিছু চুক্তি হয়।  এসব চুক্তির মধ্যে বিএসটিআইয়ের মান সনদও ছিল।  কিন্তু মান সনদ নিয়ে এখনো ভারতের প্রদেশভেদে আমাদের রপ্তানিকারকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।  তাঁর আশা মোদির দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। 

এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে ভারতের চার হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজার থাকলেও বাংলাদেশের মাত্র ১৩ কোটি ডলারের পণ্যে রপ্তানি হয়।  প্রতিবেশী দেশ হিসেবে প্রতিকূলতা দূর করা গেলে বাংলাদেশ এ খাতের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ হতো বলে তিনি মনে করেন।