১০:৪১ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৮, শনিবার | | ৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


রাজবাড়ীতে ১২ হাজার পশু কুরবানির পশু মোটাতাজা করতে ব্যস্ত চাষি ও খামারীরা

১০ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩৭ পিএম | জাহিদ


এম.মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সর্বমোট ১২ হাজার ৩১টি পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে।  ঈদের প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস আগে থেকেই খামারিরা পশু মোটাতাজা করতে শুরু করেন। 

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করতে এখন শেষ সময়ে ব্যস্ত রাজবাড়ীর পশু মোটাতাজাকরনের পেশায় নিয়োজিত সাধারণ চাষী ও খামার মালিকেরা।  পবিত্র কোরবানীর ঈদের আর মাত্র দশ দিন সময় বাঁকি থাকায় শেষ বারের মত পশুগুলোর যত্ন নিচ্ছে তারা।  কেউ কেউ বাজার যাছাইও শুরু করেছে। 

ওষুধ এবং গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকারী পশু চিকিৎকদের অসহযোগীতা আর বারবার লোকশানের পরও এবছর প্রায় ১১/১২ হাজার গরু প্রস্তুত করা হচ্ছে কোরবানীর পশুহাটগুলোতে বিক্রির জন্য।  যার বাজার মূল্য প্রায় আশি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।  আর এ সমস্ত প্রান্তিক চাষী ও খামারীদের এখন দুঃচিন্তার বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে গরুর লাভজনক মূল্য না পাওয়া আর ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ।  ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ রোধ করা হলে বিগত  বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশিষ্ট সাধারণ চাষী ও  খামার মালিকেরা। 

কালুখালি উপজেলার তফাদিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাবু শেখ এবার সাতটি ষাড় ও বলদ গরু মোটাতাজা করছেন। যার একে একটি মূল্য তিনি স্থানীয় কালুখালির হাটে তুলে চাচ্ছেন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। তার প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ১৬/১৭মন করে।  তিনি জানান,গত বছরও সাতটি গরু ঢাকার ব্যাপারীর কাছে নিজ বাড়ি থেকেই দুলাখ করে বিক্রি করে ছয় লাখ টাকা লাখ করেছিলেন। 

রাজবাড়ির কোরবানির পশুর প্রধান বাজার হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট।  চাষী ও খামারিরা স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে পশু বিক্রি করতে না পারলে নিজেরাই ট্রাকে চেপে ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেটের হাটগুলোতে পশু নিয়ে হাজির হয়। 

জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পশুকে শেষ সময়ের মত আদর আপ্যায়ন করা হচ্ছে।  অনেকেই ঢাকা চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকার হাটে যাওয়ার জন্য নিচ্ছে প্রস্তুুতি।  ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যাপারীরা বাড়িবাড়ি যেয়ে পশু কেনার জন্য দরদাম শুরু করেছে।  তারা গরু অনুযায়ী ৪০ হাজার টাকা থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকায় কিনতে শুরু করেছেন। 

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই জেলার পাঁচ উপজেলার নতুন পুরাতন পশুহাটগুলোতে প্রচুর কোরবানীর পশু উঠছে।  বেচাকেনাও মোটামুটি ভালোই হচ্ছে বলে হাট মালিকেরা জানিয়েছেন।  গত দুই বছর ভারতীয় গরুর অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে  চাষী ও খামার মালিকেরা দাম না পাওয়ায়  চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।  গেল দুই বছরে অনেকেই তাদের পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। 

বালিয়াকান্দি উপজেলা রামদিয়া গ্রামের নজর আলী মোল্লা বলেন, গত বছর দুইটি নেপালী গরুসহ ৩৭টি মোটাতাজা করেছিলাম, আশা ছিল ৪০/৫০ লাখ টাকা লাভ হবে।  কিন্ত ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশ করার ফলে গরুর দাম নিচে নেমে যায়।  ফলে আমার  মার্ত্র ১৫ লাখ টাকার লাভ হযেছিল। 

সেজন্য এবার ২১টি পশু মোটাতাজা করেছি।  তাও লাভ ছাড়া কোন গরুই তিনি বিক্রি করবেন না।  একই গ্রামের আরিফুল ও বাক্কার এবার ১২টি করে গরু মোটাতাজা করেছে। 

অবশ্য এবার লোকশানের আশংকায় গরু মোটাতাজা করনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।  খামার মালিক ও চাষীরা জানায়, যদি গত বছরের ন্যায় এ বছরও যদি ভারতীয় গরু বাংলাদেশের বাজার দখল করে নেয় এবং গরুর আশানুরুপ দাম না পাওয়া যায়- তাহলে লাভের চেয়ে চাষী ও খামার মালিকদের লোকসানের পরিমাণই গুনতে হবে বেশী। 

জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলায় ৩ হাজার ৫৯২ জন খামারি ১১ হাজার ৩১টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তÍত করছেন।  যার মধ্যে ৭ হাজার ১৪৮টি ষাড়, ৬১টি বলদ, ১ হাজার ১৫০টি গাভী, ৬টি মহিষ, ৪টি ভেড়া ও ৩ হাজার ৬২৬টি ছাগল। 

খামার পরিচর্যাকারীরা জানান, খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরুগুলোকে তারা সব সময় দেখাশুনাসহ খামারের সার্বিক কাজ করেন। 

খামারিরা জানান, গরু মোটা তাজাকরনে এবার তারা কোন রকম হরমন ও ষ্ট্রেরেট ট্যাবলেট না খাওয়ায়ে শুধু ধানের কুড়া, কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুষি, ভুট্টা, ডাল, সরিষার খৈল, আগের গুড় ও লবণসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। 

তবে তাদের দাবি, এবারের ঈদে ভারত থেকে পশু আমদানি বন্ধ করা হলে বাংলাদেশি খামারিরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি আগামীতে খামার করতে উৎসাহিত হবেন অনেকে। 

জেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলাসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি খামারে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন তারা।  প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করার জন্য খামারিদের উৎসাহিত করছেন। 

জেলায় প্রায় সাড়ে আট হাজারের মতো ষাড়, বলদ ও গাভীর পাশাপাশি হাজার হাজার ছাগল-ভেড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে।  প্রতিটি পশুর হাটে তাদের মেডিকেল টিম থাকবে এবং জেলায় প্রায় ২৩টি পশুর হাট বসবে।  তবে ভারতীয় গরু এলে খামারিরা লোকসানে পড়বেন এবং ভবিষতে খামারীদের গরু পালনে আগ্রহ কমবে বলেও জানান তিনি।