১১:০৮ পিএম, ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রপ্তানিমুখি তৈরি পোশাকখাতে ইতিবাচক হাওয়া

২৬ মে ২০১৮, ১১:৫৯ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : যে কোনো বিবেচনায় বলা যায়, এই মুহূর্তে দেশের রপ্তানিমুখি তৈরি পোশাকখাতে ইতিবাচক হাওয়া বইছে।  কারণ নানা বৈশ্বিক কারণে এই খাতে ক্রয়াদেশ বেড়েছে। 

সূত্র মতে, বিগত বছরের নভেম্বর মাস থেকে ক্রয়াদেশের চাপ শুরু হয়।  আর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তা আরও বাড়তে থাকে।  ক্রয়াদেশ প্রাপ্তিতে উন্নত কর্মপরিবেশ বা কমপ্লায়েন্ট পোশাক কারখানাগুলো এগিয়ে চলেছে।  অনেক কারখানাই এখন সক্ষমতার চেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ নিচ্ছে, অন্য কারখানায় ঠিকা বা সাব-কন্ট্রাকটিং করিয়ে সেসব বাড়তি ক্রয়াদেশের পোশাক তৈরি করা হবে। 

পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা এসব তথ্য দিয়ে বলেন, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন পোশাকের ক্রয়াদেশ কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেশি।  তবে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতারা গত বছর পোশাকের যে দাম দিয়েছেন, তার চেয়ে এ বছর ৫-৭ শতাংশ কম দাম দিচ্ছেন।  অনেকেই বাধ্য হয়ে সেই ক্রয়াদেশ নিচ্ছেনও। 

পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশের ভালো চাপ থাকার বিষয়টি ইতিমধ্যে রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানে কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে।  অর্থাৎ পোশাক রপ্তানি আয় বাড়ছে।  সামনের মাসগুলোতে এর প্রতিফলন আরও বেশি দেখা যাবে।  কারণ পোশাক রপ্তানির পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসতে সাধারণত ৩-৪ মাস লাগে। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ২৮৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।  ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রপ্তানি হয় যথাক্রমে ২৬০ ও ২৫৭ কোটি ডলারের পোশাক।  পোশাক রপ্তানিতে ফেব্রুয়ারিতে ১৬ দশমিক ৮৬ ও মার্চে ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।  গত এপ্রিলে ২৪৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির বিপরীতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।  ফলে সামগ্রিকভাবে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পোশাক রপ্তানিতে ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। 

পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশের বাড়তি চাপের কারণ কী—সে সম্পর্কে শিল্প উদ্যোক্তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।  তবে সম্ভাব্য দুটি কারণ হচ্ছে, প্রাইমার্ক, ভিএফ, ইন্ডিটেক্স, লি অ্যান্ড ফাংসহ কয়েকটি ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবসা বাড়াচ্ছে।  ফলে তারা গতবারের চেয়ে এবার ক্রয়াদেশ বেশি দিচ্ছে। 

ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে।  তা ছাড়া চীনের পোশাক কারখানা থেকে অনেক ব্র্যান্ড ক্রয়াদেশের একাংশ সরিয়ে নিচ্ছে।  বাংলাদেশ সেটির সুফল পাচ্ছে কিছুটা। 

এ ব্যাপারে বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা বলেন, পোশাক খাতে বাড়তি ক্রয়াদেশ আসছে।  গতবারের চেয়ে আনুমানিক ২০ শতাংশ ক্রয়াদেশ বেশি।  কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সংস্কারকাজে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সংস্থান করতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।  চীনের ক্রয়াদেশও আসছে।  অনেক ব্র্যান্ডের ব্যবসা বেড়েছে।  সব মিলিয়ে ক্রয়াদেশের চাপ বাড়ছে। 

লুজিন গ্রুপের ছয়টি পোশাক কারখানা নিজেদের সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করে আগামী তিন মাসে ৩০ লাখ সোয়েটার তৈরি করবে।  এসব পোশাকের রপ্তানিমূল্য প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার বা ১২৬ কোটি টাকা।  অবশ্য গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণ ক্রয়াদেশ ছিল, তা দিয়ে সক্ষমতার ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। 

গ্রুপের পরিচালক শ্যামল রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে ভালো ক্রয়াদেশ আছে।  আগামী আগস্ট পর্যন্ত আমাদের কারখানাগুলো সম্পূর্ণ বুকড।  সে জন্য অনেক ব্র্যান্ডের পোশাকের ক্রয়াদেশ আমরা নিতে পারিনি। 

নারায়ণগঞ্জের পরিবেশবান্ধব নিট পোশাক কারখানা প্লামি ফ্যাশনস বিশ্বখ্যাত জারা, নেক্সট (ইউকে), পুল অ্যান্ড বিয়ার, আলদিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ করে।  কারখানাটি আগামী তিন মাস পূর্ণ সক্ষমতায় পোশাক উৎপাদন করবে।