১১:০৭ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ রবিউস সানি ১৪৪০




রংপুরে শীতার্থ ৫ লাখ: আর কম্বল মাত্র ৫৪ হাজার

১২ জানুয়ারী ২০১৮, ০৪:৫৮ পিএম | সাদি


রশিদ সোহেল, রংপুর প্রতিনিধি :  পৌষের শেষে মাঘের আগমনে শীতের তীব্রতা আরো বাড়ার আশঙ্কায় শংকিত  রংপুর মহানগরীসহ  এ অঞ্চলের শীতার্থ অসহায় দরিদ্র মানুষজন।  বিশেষ করে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোর পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুন।  নদী তীরবর্তী ও ছিন্নমূল মানুষরা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে।  যেন দুর্ভোগের শেষ নেই।  এদিকে রংপুরের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক শীতার্থ মানুষ রয়েছে।  তাদের মধ্যে মাত্র ৫৪ হাজার কম্বল দেয়া হয়েছে।  এনিয়ে শীতার্থ মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

রংপুর মহানগরীর তামপাট এলাকার  আশরাফুল আলম নেতা জানান, তিনি  দিন মজুরির কাজ করেন।  নিজের কোন জমি জেরা নেই তার।  অন্যের জমিতে বসত বাড়ি করে থাকছেন।  তার বর্তমানে বয়স ৪৮ বছর।  ঘরে ৩ সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে।  কিন্তু পড়নে তেমন গরম কাপড় না থাকায় রাস্তার পাশে আগুন পোহাতে বসে গেছেন। 

আইয়ুব আলী মুন্সি জানান, প্রচন্ড শীতে গত দুদিন বাড়ি থেকে বের হননি তিনি।  কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কিভাবে? তাই দিনমুজরির কাজে বের হয়েছেন।  তিনি জানান, তার বাড়ি বুড়িরহাট কোবারু গ্রামে।  সেখান  থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে এলাকায় কাজে যাবেন।  কিন্তু শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন । 

রংপুর মহানগরীর মর্ডান মোড় এলাকার আলেফ উদ্দিন বলেন, ‘যা আয় করি তা দিয়ে কোনও রকমে তিন বেলা খাবার জোটে।  গরম কাপড় কিনবো কিভাবে? তিন বছর আগে একটি পাতলা কম্বল পেয়েছিলাম।  ওইটা গায়ে দিয়েই রাতে ঘুমাই।  গরম কাপড় নেই বলে পুরনো একটা কোট পড়ে কাজে বেরিয়েছি। ’

মর্ডান মোড়ে বাসস্ট্যান্ডে আমিনুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন ও মিলন জানান, তার শ্রমিকের কাজ করেন।  তারাও কোনও শীতের কাপড় পাননি বলে জানালেন। 

এদিকে রংপুরে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক শীতার্থ মানুষ রয়েছে।  এরমধ্যে শুধু রংপুর মহানগরীতেই বাস করে প্রায় ৭০ হাজার ভাসমান নারী-পুরুষ।  এরা স্টেশনের প্ল্যাটফরম, বিভিন্ন অফিস আদালতের বারান্দা আর ফুটপাতে রাত কাটায়।  এদের কারোই নেই প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র।  একইভাবে জেলার আট উপজেলা বিশেষ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার শীতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।  তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত কোনও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি। 

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা ফরিদুল হক জানান, এক লাখ কম্বল চেয়ে তারা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছিলেন।  কিন্তু বরাদ্দ পেয়েছেন মাত্র ৫৪ হাজার।  বরাদ্দ পাওয়া কম্বলগুলো রংপুরের আট উপজেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।  আরও শীতবস্ত্র চাওয়া হয়েছে। 



keya