১:০৯ পিএম, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার | | ২০ রমজান ১৪৪০




রোবট ব্যবহারের ‘নৈতিক মাত্রা’ নিরুপন করা জরুরি

১০ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৫০ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : রোবট ব্যবহারের ‘নৈতিক মাত্রা’ নিরুপন করা জরুরি হয়ে গেছে বলে মনে করেন বেলজিয়ামের লুভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল এথিকসের প্রফেসর এবং পন্টিফিক্যাল অ্যাকাডেমি ফর লাইফের সদস্য ক্রিস গাস্টম্যান্স। 

ভ্যাটিকানে গত ফেব্রুয়ারিতে রোবট বিষয়ক সিম্পোজিয়াম এবং আই.মিডিয়া ফর অ্যালেটেইয়া-তে বক্তব্য রেখেছেন ক্রিস গাস্টম্যান্স।  তার সাক্ষাৎকারের চৌম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।  

প্রশ্ন : এই সিম্পোজিয়ামে (ভ্যাটিকান) অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আপনাকে কেন বেছে নেয়া হয়েছে? 

গাস্টম্যান্স : পন্টিফিক্যাল অ্যাকাডেমি ফর লাইফের সদস্য এবং এ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আমি।  রোবোটিক্স এবং এথিক্স বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আমি।  এই সিম্পোজিয়ামে সামাজিক রোবটদের কথা বলা হয়েছে।  মূলত বয়বৃদ্ধদের দেখভালের কাজটা রোবটের দায়িত্বে দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।  

প্রশ্ন : চিকিৎসা খাতে মানুষের ভবিষ্যত কী রোবট? 

গাস্টম্যান্স : পৃথিবীর জনসংখ্যার বড় একটা অংশ বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে।  তাদের আরো বেশি দেখভালের প্রয়োজন।  আসছে সময়ে এমন যত্নআত্তির মানুষের অভাব হয়ে পড়বে।  তবে রোবটের আরো ব্যবহার খুঁজতে হবে আমাদের।  যেকোনো ক্ষেত্রে রোবট ব্যবহারের নৈতিক দিকটি আমাদের ঠিক করে নিতে হবে।  নীতিগতভাবে আমি রোবট ব্যবহারের পক্ষে নই, বিপক্ষও নই।  কিন্তু বুঝতে পারছি, রোবটের ক্রমবিকাশ এবং এদের সংখ্যা বৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠবে।  স্বাস্থ্যখাতে রোবটের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।  বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে।  আবার তারা কেবল চিকিৎসা বা বয়স্কদের দেখভালের কাজেই লাগবে তা নয়, কারখানা বা পরিবহণের মতো খাতেও এদের ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব।  

প্রশ্ন : রোবটের এই বিবর্তন কি নৈতিকতার বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উটতে পারে?

গাস্টম্যান্স : আমরা যখন রোবট নিয়ে ভাবি তখন কেবল তাদের যান্ত্রিক কাজগুলো নিয়েই চিন্তা করি না।  বয়স্কদের সাথে তাদের যোগাযোগটা কেমন হবে তা নিয়েও ভাবি।  হাসপাতালের সেবিকার সহযোগীও হতে পারে তারা।  অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিকল্পও।  আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বা বিষণ্নতা কমাতেও রোবটের ব্যবহার ফলপ্রসূ হতে পারে।  

প্রশ্ন : ভ্যাটিক্যানের কাছে কি রোবোটিক্স খাতে নৈতিকতার প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে? 

গাস্টম্যান্স : এই সিম্পোজিয়ামে রোবোটিক্সে নৈতিকতার বিষয়ে আরো সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গী আনা হয়েছে।  আরো কড়া নজরে দেখা হচ্ছে, রোবটের এই উন্নয়ন মানুষের মর্যাদাকে কোনোভাবে আঘাত করে কিনা।  এখানেই নৈতিকতার প্রশ্ন।  যদি রোবটের ব্যবহার নৈতিক হয়, তবে মানবজাতিকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনার বিষয়গুলো আরো প্রভাবিত হবে।  আমাদের জীবনে রোবটের অন্তর্ভুক্তি মানবাধিকারকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে কিনা তা শুরুর আগেই বুঝে নিতে হবে।