১:২৬ পিএম, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ শাওয়াল ১৪৪১




রমজান"যাবে লকডাউনে,ঈদের খুশি সাবধানে

১৮ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে গত ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করে, যার ফলে বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ দেশ সেই সংক্রমণের ছোবলে আজো জর্জরিত। 

জানিনা আর কতো মায়ের বুক খালি হতে চলছে।  

জানিনা আর কতো স্বজন তাঁর আপনজনকে হারাতে যাচ্ছে।  কেউ কারো নয় এই মরণব্যাধিতে, না জনি কতো লোক এই রোগের যন্ত্রণায় বিছানায় কাতরায়! এই দু-তিন মাসের মাথায় বিশ্বের হাতে গুনা কয়েকটি দেশে এক লক্ষের অধিক লোকের প্রাণহানি এই মহামারীতে চলে যাবে কোনোদিন ভাবেনি কারণ এটি কোনো যুদ্ধ নয়।  

যাঁরা আজ স্বজনহারা তারা কি বলে সান্ত্বনা দেবে কোনো ভাষা খুঁজে পাইনা।  

এইদিকে সপ্তাহ খানেক পর আসছে মুসলিম জাহানের পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস "মাহে রমজান"।  আমাদের এমন চরম বিপর্যয়ে মনে রাখতে হবে "কিছুকে পেতে হলে কিছু হারাতে হবে"- আর এই বাক্যটি সামনে রেখে সামনের দিকে আগাতে হবে।  

আমাদের মুসলিম সমাজে বহুপুরোনো  রীতি মাহে রমজানকে সামনে রেখে আগাম অনেক কাজ সম্পন্ন করা হয়।  

তৎমধ্যে চলছে লকডাউন আবার হাজার হাজার পরিবারে চলছে অর্থ সংকট, কেউ বা দিন অতিবাহিত করছে বার্ধক্যে-কেউবা পঙ্গুত্বে-কারো যায় রোগে-কারো যায় দুশ্চিন্তায় এত্তোকিছু সামাল দেওয়া বস্তুত অসম্ভব তারপরও নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে সবকিছু মেনে নিয়ে যাচ্ছে দিন। 

 যাঁরা একটু স্বচ্ছল তাঁরাতো মাসের বাজার অগ্রিম করে  নে।  মুটামুটি সবাই সপ্তাহের জন্য আগাম প্রস্তুতি থাকে।  

ভালোমন্দ প্রতিদিন চলে থাকে এই মাসে তাই অনুভূতির মাত্রাও একটু অন্যরকম। 

 বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করে তুলে।  যেসব আত্মীয় স্বজনরা একটু আর্থিক দূর্বল তাদেরকেও যতটুকু সম্ভব রমজানের ইফতার সামগ্রীসহ আর্থিক সহায়তা করে থাকে।  তদ্রূপ ঈদের কেনাকাটার বেলায়ও একি।  নিশ্চিত এই মাসটি সবদিক থেকে বিসর্জন দিতে হবে।  

না যাওয়া যাবে তাদের দেখতে, না পারবে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়াতে, আয়ের সব পথ বন্ধ কোনো উপায় নেই, চোখবুঁজে সহ্য করতে হবে সুন্দর আগামীর জন্য।  

কতো আনন্দে যেতো রমজানের সেইক্ষণ গুলো মসজিদে মুসল্লীর ভীড়, সবাই রোজা মুখে কোরআন-আল্লহর জিকির-তাসবীহ্ জপে।  

ইফতারের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত বাসায় তৈরী হয় হরেকরকমের সুস্বাদু খাবার কয়েক রোজা অতিবাহিত হতেই শুরু হয় ইফতার মাহফিল।  কে কাকে আগে খাওয়াবে আর কতো আইটেম করতে পারে নানান জল্পনা-কল্পনা চলে।  

সম্মিলিত পুকুরে আগের দিন জাল মেরে মাছ তোলা আর তরতাজা মাছের অসাধারণ স্বাদের রান্না করা, পনের-বিশজনে মিলে গরু জবেহ করে মাংস বন্টন করে নেয়া, যতো সতেজ আর রুচিসম্মত খাবার সবকিছুর আয়োজনে রোজা পালিত হয়।  ভাবতেই কেমন জানি লাগে আর প্রশ্ন জাগে হয়তো এই আমরা সেটা অনুভব করতে পারিনা কারণ আমরা বাজারের সন্নিকটে, ডাক্তার আমাদের হাতের নাগালে,মাদ্রাসা-মহিলা মাদ্রাসা-স্কুল -কলেজ-গাড়ির প্রাপ্তি সবকিছুই  হাতের নাগালে কিন্তু এই সবকিছু থেকে অনেক দূরে যাদের  বসবাস তাদের কথাতো ভাবতেই হয়। 

বাঁচা-মরার এই চরম সংকটে আমরা ত্যাগস্বীকার করতে যেন দ্বিধান্বিত না হই কারণ নিজেকেতো আগতে বাঁচতে হবে।  এটাও ভাবতে হবে দেশের সকল জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে দিয়েছে যেন কোনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা সংক্রমণে সংক্রমিত হয়ে থাকলে এবং সেই সংক্রমণ যেন এলাকায় না ছড়ায় তাঁর অপ্রতিরোধ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।  তারই ধারাবাহিকতায় সরকারের বিধিনিষেধ মেনে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে ১৩টি প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন করে।  

ইতিমধ্যে সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রীও যা পেয়েছে তা বন্টন করেছে সাথে সাথে বিভিন্ন জায়গায় এলাকার শিল্পপতি ও দানবীররা বিরাট একটি ভুমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে।  এমনকি যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা সরকারের তহবিলে দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।  

জানি এবারের রমজান মাস হয়তো আগেকার রমজানের মতো অতি ভাব গাম্ভীর্যে পালন হবেনা হয়তো হতাশা আর দুশ্চিন্তায় পালিত হবে, তাতে কি? আমাদের একটি মাসের কষ্টে হয়তো ভবিষ্যতের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী দেখতো পাবো। 

 তা নাহলে যেভাবে মৃতের সংখ্যা আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলছে সেটা আমাদের জন্য কখনো মঙ্গল হতে পারে না। 

 সুতরাং আমাদের এইবারের ঈদ হয়তো সেই আগেকার মতো অতি উৎসাহের মধ্যে বিভিন্ন নামীদামী শপিংমল হতে করা হবেনা, হয়তো দূরদূরান্তের পথ পাড়ি দেওয়া যাবেনা, উচ্ছ্বসিত হয়ে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন পর্যটনে ঘুরাও হবেনা।  না হোক তবুও আমরা সবার সাথে সবার মুখখানি দেখে বাঁচতে চাই।  আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে, সচেতন-নিয়মনীতি আর সাবধানে থেকে ঘরে ঘরে দিন কাঁটায়। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 


keya