১:০৬ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৪ সফর ১৪৪২




রিমঝিম আহমেদের তিন কবিতা

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম |


এসএনএন২৪.কম :

পরানসখা

দাঁড়াও, আলো আনছি
বলে কেউ একজন অন্ধকারে হারিয়ে গেলো
সামনে চৌরাস্তা
কোন পথে যাব ভাবতে ভাবতে বুঝলাম
পায়ের লিগামেন্টে টান পড়েছে
তখন আমার তৃতীয় চিৎকারটি দিলাম
 
প্রথম দিয়েছি জন্মচমকে, দ্বিতীয় প্রসববেদনায়
 
আর তৃতীয়টি
তোমাকে ছুঁতে না পারার আর্তনাদ

নাম
একটা নাম, মুছে ফেলতে ফেলতে অন্য নামের দিকে আমার গন্তব্য বাড়িয়ে দিয়েছি। 
কতটুকু পথ চাঁদে ভিজে এলাম, ভাবছি কেন এত ঘাম শরীরজুড়ে! এত এত আকুলতা!
আমাদের বয়সের মধ্যবর্তী দূরত্বটুকু অসুখ, এলাচদানার মতো বেঁচে থাকে ঘ্রাণতর্পণে। 
লেবুঘঁষা দাগের উপর সংসার চেপে আছে, আছে মাথার উপর মিথ্যেচারী আকাশ। 
ভাবছি এ কোন জ্বরভাব আগুনফুলের মতো ফুটে আছে শোকার্ত চামড়ায়! দৃষ্টিতে
সন্ধ্যা মেখে তাকিয়েছ যে নামের মহিমায়, সে নাম ফেলে এসেছি বহুদিন! বুঝি-
আমাদের চোখের বয়স সমান, সমবয়সী স্পর্শ থেকে চুইয়ে পড়ে কাঁপাকাঁপা সুখ। 

এই পথ পথিকের আয়ু মুছে দেয়; পায়ে পায়ে লেগেছে পথের ঘুঙুর।  ভাবছি, শরীরের
গাঁট খুলে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়বে স্বর্গের মানচিত্র! এই শহর, গারদের দেয়াল টেনে দাঁড়িয়ে
আছে, ক্ষুধার্ত কুকুরের মতো ইচ্ছেরাও বহুগামী।  বহুদূর গামী... অপেক্ষার তালিকা ছিঁড়ে
তোমার সামনে একদিন বসবো বিকারহীন, ওষ্ঠজোড়া জ্বর নিয়ে, আমার ভাবনার চেয়ে
দ্বিগুণ বোকা স্টেথোস্কোপ পড়তে জানে ধ্বনি ও কম্পন।  জানে না, আমার ভেতরঘরে
কেন রাত বাড়ে! আহা, রাত!

সুবেহ তারা
একদিন মন ভালো হলে তোর কাছে যাব, সুবেহ তারা।  মধ্যমায় মমতা জমেছে, তর্জনীতে ভুল। 
সবটুকু উপুড় করে দেব- তোর চোখে।  কড়ই কাঠের দরজা থেকে চুঁইয়ে পড়ছে পাতার ঘ্রাণ।  বড়
ছায়াকীর্ণ পথ, ধুলোয় মাখামাখি।  যেন ধুলো ঝাড়লেই সহস্র পাখি উড়ে যায় নিশ্চিন্তিপুর বনের দিকে। 
কাঠের দেরাজে রাখা মায়াবড়ি, কত শত ভ্রুণের কান্নায় জমে গিয়ে গোল হয়ে গেছে! রমণীরা জানে,
তারচে বেশি জানে ইচ্ছেমৃত্যুর রাত।  আমারও মা ছিল- কেবল মায়ের জরায়ুটা বিক্রি হয়ে গিয়েছে
নাকফুলের দামে|

নিশি